সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে “আওয়ামী লীগ” এমন একটি নাম, যা বারবার নিষিদ্ধ হয়েও ছাইচাপা আগুনের মতো জ্বলে উঠেছে।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, আওয়ামী লীগকে যখনই নিষিদ্ধ করা হয়েছে বা কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে, দলটি ততবারই আরও শক্তিশালী হয়ে রাজপথে ফিরে এসেছে।
১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট করে আওয়ামী লীগকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিলেন আইয়ুব খান। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ৬৬-র ছয় দফা আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগই হয়ে উঠেছিল বাঙালির মুক্তির প্রধান কাণ্ডারি।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন। ফলাফল? ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডির পর খন্দকার মোশতাকরা ভেবেছিলেন দলটিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশ ডিঙিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি আবারও ঘুরে দাঁড়ায়।
গত ১০ মে ২০২৫ তারিখে ড. ইউনূসের প্রশাসন এবং আজ ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তারেক রহমানের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা নিষেধাজ্ঞাকে আওয়ামী লীগ তাদের দীর্ঘ সংগ্রামের পথেরই অংশ মনে করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আইয়ুব-ইয়াহিয়া-মোশতাকদের যে পরিণতি হয়েছিল, বর্তমান নিষেধাজ্ঞার নায়কদের নামও সেই একই তালিকায় যুক্ত হলো মাত্র।
আওয়ামী লীগের সমর্থকররা বলছেন, আওয়ামী লীগ কেবল একটি দল নয়, এটি একটি আদর্শের নাম যা তৃণমূল মানুষের গভীরে প্রোথিত। তারা বলছেন, “আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা মানে কোটি মানুষের আবেগকে নিষিদ্ধ করা। আইয়ুব থেকে তারেক রহমান—ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে, আওয়ামী লীগকে থামিয়ে রাখার সাধ্য কারও নেই। প্রতিটি নিষেধাজ্ঞার পরই দলটি নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরম তে, নিষিদ্ধ করে বা জেল-জুলুম দিয়ে আওয়ামী লীগের মতো গণসংগঠনকে ঠেকানো সহজ নয়। বিশ্ববাসী অতীতেও দেখেছে এবং আবারও হয়তো দেখবে—কীভাবে ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠে এই রাজনৈতিক দলটি।

