ভোলা-বরিশাল সেতু : বিএনপির লুটপাটের নতুন মঞ্চ

ভোলার মানুষ বহু বছর ধরে স্বপ্ন দেখে আসছে একটা সেতুর। দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা, যেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ নৌকা আর ফেরি, সেই ভোলার মানুষের স্বপ্নটা খুব বেশি বড় না। শুধু চায় স্থলপথে একটু যুক্ত হতে, বাকি দেশের সাথে। কিন্তু সেই সরল স্বপ্নটাকেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে পকেট ভারী করার হাতিয়ার হিসেবে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভোলা-বরিশাল সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। সেই হিসাবটাই এখন রইল না। গত ৭ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, এখন ওই সেতু বানাতে লাগবে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকারও বেশি। মানে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেতুর দৈর্ঘ্য বেড়েছে সামান্য, কিন্তু খরচ বেড়েছে আকাশচুম্বী। এই বাড়তি সাত-আট হাজার কোটি টাকা ঠিক কোথায় যাবে, সেটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়ার দরকার নেই।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক গলা ফাটিয়েছে। মিটিং-মিছিলে, টেলিভিশনের পর্দায় বড় বড় বুলি ছুটেছে। কিন্তু ক্ষমতার চেয়ারে বসার পর সেই বুলি মিলিয়ে গেছে দ্রুত। মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে গর্বের সাথে বললেন, এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকার প্রকল্প, এবং তিনি নিজে নির্বাচনী প্রচারণায় এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অগ্রাধিকার প্রকল্পে যদি শুরুতেই বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়, তাহলে শেষে গিয়ে কোথায় দাঁড়াবে সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে লুট করার ইতিহাস বিএনপির নতুন না। প্রতিবার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকারের আমলে এটা হয়েছে। প্রতিবারই বিএনপির ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা মাত্রা নেয়, কারণ এই দলটার জন্মই হয়েছে একটা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর তথাকথিত নির্বাচনে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না, জনগণের একটা বড় অংশ ভোট দেয়নি, কার্যত একটা সাজানো মঞ্চের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল হয়েছে। যে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে, সেই সরকারের মন্ত্রীরা যখন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে বসেন, তখন সেই টাকার হিসাব কে চাইবে?

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল কেউ ভুলে যায়নি। সেই পাঁচ বছরে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ পর পর পাঁচবার বিশ্বে শীর্ষস্থান পেয়েছিল। হাওয়া ভবনের ছায়ায় চলত দেশ, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি ছিল প্রকাশ্য নিয়ম। সেই অভিজ্ঞতার পর মানুষ যদি ভেবে থাকে এই দলটা বিন্দুমাত্রও বদলেছে, তাহলে ভোলা-বরিশাল সেতুর বাজেটের ঘটনাটা তাদের একটা স্পষ্ট জবাবই বটে!

তথ্যসূত্র : https://bangla.thedailystar.net/node/131125 https://inews.zoombangla.com/vola-barisale-afd/
https://www.jagonews24.com/national/news/1108318 https://www.thedailystar.net/frontpage/news/longest-bridge-link-bhola-barishal-1853794

ভোলার মানুষ বহু বছর ধরে স্বপ্ন দেখে আসছে একটা সেতুর। দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা, যেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ নৌকা আর ফেরি, সেই ভোলার মানুষের স্বপ্নটা খুব বেশি বড় না। শুধু চায় স্থলপথে একটু যুক্ত হতে, বাকি দেশের সাথে। কিন্তু সেই সরল স্বপ্নটাকেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে পকেট ভারী করার হাতিয়ার হিসেবে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভোলা-বরিশাল সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। সেই হিসাবটাই এখন রইল না। গত ৭ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, এখন ওই সেতু বানাতে লাগবে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকারও বেশি। মানে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেতুর দৈর্ঘ্য বেড়েছে সামান্য, কিন্তু খরচ বেড়েছে আকাশচুম্বী। এই বাড়তি সাত-আট হাজার কোটি টাকা ঠিক কোথায় যাবে, সেটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়ার দরকার নেই।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক গলা ফাটিয়েছে। মিটিং-মিছিলে, টেলিভিশনের পর্দায় বড় বড় বুলি ছুটেছে। কিন্তু ক্ষমতার চেয়ারে বসার পর সেই বুলি মিলিয়ে গেছে দ্রুত। মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে গর্বের সাথে বললেন, এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকার প্রকল্প, এবং তিনি নিজে নির্বাচনী প্রচারণায় এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অগ্রাধিকার প্রকল্পে যদি শুরুতেই বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়, তাহলে শেষে গিয়ে কোথায় দাঁড়াবে সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে লুট করার ইতিহাস বিএনপির নতুন না। প্রতিবার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকারের আমলে এটা হয়েছে। প্রতিবারই বিএনপির ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা মাত্রা নেয়, কারণ এই দলটার জন্মই হয়েছে একটা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর তথাকথিত নির্বাচনে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না, জনগণের একটা বড় অংশ ভোট দেয়নি, কার্যত একটা সাজানো মঞ্চের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল হয়েছে। যে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে, সেই সরকারের মন্ত্রীরা যখন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে বসেন, তখন সেই টাকার হিসাব কে চাইবে?

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল কেউ ভুলে যায়নি। সেই পাঁচ বছরে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ পর পর পাঁচবার বিশ্বে শীর্ষস্থান পেয়েছিল। হাওয়া ভবনের ছায়ায় চলত দেশ, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি ছিল প্রকাশ্য নিয়ম। সেই অভিজ্ঞতার পর মানুষ যদি ভেবে থাকে এই দলটা বিন্দুমাত্রও বদলেছে, তাহলে ভোলা-বরিশাল সেতুর বাজেটের ঘটনাটা তাদের একটা স্পষ্ট জবাবই বটে!

তথ্যসূত্র : https://bangla.thedailystar.net/node/131125 https://inews.zoombangla.com/vola-barisale-afd/
https://www.jagonews24.com/national/news/1108318 https://www.thedailystar.net/frontpage/news/longest-bridge-link-bhola-barishal-1853794

আরো পড়ুন

সর্বশেষ