কুষ্টিয়ার শিলাইদহের মাজগ্রামে মসজিদ কমিটির যে ফতোয়া জারি হয়েছে সেটা শুনলে মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে! সাউন্ড বক্স আর মাইক বাজানো একেবারে নিষিদ্ধ। কেউ বাজালে মসজিদ মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার তো বটেই গোরস্থানে দাফন পর্যন্ত করতে দেবে না। একটা সাত বছরের এতিম ছেলে আলিফের খতনার অনুষ্ঠানে নাতির শখ মেটাতে একদিন সামান্য সাউন্ড বক্স চালিয়েছিল রুপা খাতুনের বাড়িতে। সেটুকুতেই গ্রামের মুসল্লিরা অস্বস্তিতে পড়েছে দাবী করে মসজিদ কমিটি পুরো মহল্লায় মাইকিং করে এই হুমকি দিয়ে দিল। এটা কোনো গ্রামীণ ঝগড়া নয়। এটা সরাসরি ধর্মের নামে একটা গ্রামকে তালেবানি শাসনের আদলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। আফগানিস্তানের উত্তর প্রদেশের কোনো জেলা থেকে কি কপি করে আনা হয়েছে এই নিয়ম? প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে, আফগানিস্তান আর কত দূর মাঝি?
এই ঘটনা ঘটছে ঠিক ২০২৬ সালের এপ্রিলে। আর এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি দেশের সব বড় রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে জনগণ যে ভোট বয়কট করেছে সেই পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছে। জিয়াউর রহমানের সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া এই দলটা আর তাদের নামকাওয়াস্তে মন্ত্রী পরিষদ এখন দেশ চালাচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে ধর্মের নামে এমন বাড়াবাড়ি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। মসজিদ কমিটি নিজেদের আইন-আদালত বানিয়ে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের ছোট্ট আনন্দের অনুষ্ঠানেও ফতোয়া জারি করে সামাজিক বয়কটের হুমকি দিচ্ছে। বিএনপির এই দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর থেকে উঠে আসা রাজনীতির ফল এখন গ্রামে গ্রামে ফুটে উঠছে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলছেন কোরআনে গানবাজনা নিষিদ্ধ। কিন্তু আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে স্পষ্ট নিষেধ করেছেন। আর সেখানে এই সিদ্ধান্ত তো একশ শতাংশ বাড়াবাড়ি। যদি বিয়েবাড়ি-খতনায় সাউন্ড বক্স নিষিদ্ধ হয় তাহলে আজানের সময় মাইক বাজবে কী করে? ওয়াজ মাহফিলের নামে যে হইচই আর কমেডির আসর বসে সেখানকার উচ্চস্বরের লাউডস্পিকারগুলোর কী হবে? নাকি শুধু সাধারণ মানুষের সুখের মুহূর্তগুলোতেই এই নিয়ম চলবে আর মসজিদ মাদ্রাসার মাইকিংয়ে কোনো সমস্যা নেই? এটা তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার সুস্পষ্ট চেষ্টা।
বিএনপির শাসনে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। তারা ক্ষমতা দখল করার পর দেশের সহনশীলতা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা আর সাধারণ মানুষের ছোট ছোট আনন্দ সবকিছু একে একে গিলে খাচ্ছে। মাজগ্রামের এই ঘটনা তারই একটা ছোট্ট কিন্তু ভয়ংকর নমুনা। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের আসল চেহারাটাই পাল্টে যাবে। ধর্মকে ব্যবহার করে গ্রামের পর গ্রামকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার এই খেলা আর কতদিন চলবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

