আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আইন কি বলে?

নিজাম উদ্দিন
প্রস্তাবিত আইনে বলা আছে আদালত কর্তৃক আওয়ামী লীগ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বা দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা যাবে। কিন্তু সরকার যে গেজেট নোটিফিকেশনটি দিয়েছে সেটি আইনগতভাবে ঠিক হয়নি, সঠিক হয়নি, সেটি অবৈধ একটা পন্থা ছিল।

​আরেকটা বিষয় হলো যে এই সংসদে—আপনারা হয়তো জানেন—সংসদ বসার ৩০ দিনের মধ্যে অর্ডিন্যান্সগুলো অনুমোদন নিতে হয়। এই সংসদে এটি উত্থাপিত হবে। উত্থাপিত হলে সংসদ যদি এটি রেটিফিকেশন করে থাকে, সেই হিসেবে এই সংসদ আমি বলব হিটলারের রাইখস্টাগ (Reichstag) হিসেবে পরিণত হবে। কারণ এই সংসদ এ ধরনের আইন করতে পারে না।

আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল, সে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। এখানে আমি মনে করব পার্লামেন্টে অনেক সুধী ও বিজ্ঞজন আছেন, তাঁরা বিষয়টি দেখবেন। বিশেষ করে আইনমন্ত্রীকে আমি যতটুকু জানি তিনি অনেক পড়াশোনা জানা মানুষ, তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

​আওয়ামী লীগকে যদি সংসদে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়, আমি মনে করব এটি ২১শে আগস্ট, ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, এটি আরেকটি ক্ষত সৃষ্টি করবে।

​আওয়ামী লীগকে কারা নিষিদ্ধ করতে চায়?

যারা অতীতে নিষিদ্ধ হয়েছিল তারা এই ভয় থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চায়। কারণ তাদের একটা আশঙ্কা আছে আওয়ামী লীগ যদি কখনো ফিরে আসে তবে তারা তাদের আবার নিষিদ্ধ করবে। তারা চায় তাদের যেন নিষিদ্ধ না করুক। এই রাজনৈতিক ফায়দা থেকে তারা চায় আওয়ামী লীগকে বিএনপি যদি নিষিদ্ধ করে তবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ এসে একই পন্থা নিলে তাদের সুবিধা হবে—যারা অতীতে নিষিদ্ধ হয়েছিল।

​এটি যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় এটি হবে চরম একটি ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম। আপনি দেখেন ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসনের কথা বলেন, হিটলারের ফ্যাসিস্ট শাসনের কথা বলেন—সেটি তারই নামান্তর হবে। ইতিহাস আসলে বারবার ফিরে আসে। আজকে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় ইতিহাসের বিচার হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।

​আমরা মীর জাফরের কথা শুনেছি, মীর জাফরের কিন্তু তখন কোনো বিচার হয়নি, কিন্তু ইতিহাস তাকে কী হিসেবে চিনে? গালির সমার্থক হিসেবে চিনে। আজকে যারা এ কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে, ইতিহাস তাদের একদিন কঠিন বিচার করবে।

​যে দলের নেতৃত্বে ও অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, সে দলকে এভাবে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নই আসতে পারে না। আওয়ামী লীগের কোন নেতা কর্মী যদি কোথাও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে থাকে তবে সেটির বিচার হতে পারে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক।

​আওয়ামী লীগ অবশ্যই ফিরবে, সেটা দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে এবং মানুষের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ আবার ফিরবে। আওয়ামী লীগকে রোধ করার, প্রতিরোধ করার বা রুখার শক্তি আসলে কারো নাই। এটি একটি সাময়িক বিষয়। আওয়ামী লীগকে বাংলার জনগণই নিয়ে আসবে তাদের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে ও জাতির প্রয়োজনে।

লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট।

নিজাম উদ্দিন
প্রস্তাবিত আইনে বলা আছে আদালত কর্তৃক আওয়ামী লীগ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বা দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা যাবে। কিন্তু সরকার যে গেজেট নোটিফিকেশনটি দিয়েছে সেটি আইনগতভাবে ঠিক হয়নি, সঠিক হয়নি, সেটি অবৈধ একটা পন্থা ছিল।

​আরেকটা বিষয় হলো যে এই সংসদে—আপনারা হয়তো জানেন—সংসদ বসার ৩০ দিনের মধ্যে অর্ডিন্যান্সগুলো অনুমোদন নিতে হয়। এই সংসদে এটি উত্থাপিত হবে। উত্থাপিত হলে সংসদ যদি এটি রেটিফিকেশন করে থাকে, সেই হিসেবে এই সংসদ আমি বলব হিটলারের রাইখস্টাগ (Reichstag) হিসেবে পরিণত হবে। কারণ এই সংসদ এ ধরনের আইন করতে পারে না।

আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল, সে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। এখানে আমি মনে করব পার্লামেন্টে অনেক সুধী ও বিজ্ঞজন আছেন, তাঁরা বিষয়টি দেখবেন। বিশেষ করে আইনমন্ত্রীকে আমি যতটুকু জানি তিনি অনেক পড়াশোনা জানা মানুষ, তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

​আওয়ামী লীগকে যদি সংসদে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়, আমি মনে করব এটি ২১শে আগস্ট, ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, এটি আরেকটি ক্ষত সৃষ্টি করবে।

​আওয়ামী লীগকে কারা নিষিদ্ধ করতে চায়?

যারা অতীতে নিষিদ্ধ হয়েছিল তারা এই ভয় থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চায়। কারণ তাদের একটা আশঙ্কা আছে আওয়ামী লীগ যদি কখনো ফিরে আসে তবে তারা তাদের আবার নিষিদ্ধ করবে। তারা চায় তাদের যেন নিষিদ্ধ না করুক। এই রাজনৈতিক ফায়দা থেকে তারা চায় আওয়ামী লীগকে বিএনপি যদি নিষিদ্ধ করে তবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ এসে একই পন্থা নিলে তাদের সুবিধা হবে—যারা অতীতে নিষিদ্ধ হয়েছিল।

​এটি যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় এটি হবে চরম একটি ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম। আপনি দেখেন ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসনের কথা বলেন, হিটলারের ফ্যাসিস্ট শাসনের কথা বলেন—সেটি তারই নামান্তর হবে। ইতিহাস আসলে বারবার ফিরে আসে। আজকে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় ইতিহাসের বিচার হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।

​আমরা মীর জাফরের কথা শুনেছি, মীর জাফরের কিন্তু তখন কোনো বিচার হয়নি, কিন্তু ইতিহাস তাকে কী হিসেবে চিনে? গালির সমার্থক হিসেবে চিনে। আজকে যারা এ কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে, ইতিহাস তাদের একদিন কঠিন বিচার করবে।

​যে দলের নেতৃত্বে ও অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, সে দলকে এভাবে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নই আসতে পারে না। আওয়ামী লীগের কোন নেতা কর্মী যদি কোথাও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে থাকে তবে সেটির বিচার হতে পারে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক।

​আওয়ামী লীগ অবশ্যই ফিরবে, সেটা দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে এবং মানুষের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ আবার ফিরবে। আওয়ামী লীগকে রোধ করার, প্রতিরোধ করার বা রুখার শক্তি আসলে কারো নাই। এটি একটি সাময়িক বিষয়। আওয়ামী লীগকে বাংলার জনগণই নিয়ে আসবে তাদের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে ও জাতির প্রয়োজনে।

লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ