পুরো দেশ ও জাতির ফেঁসে যাওয়ার আখ্যান: একটা পাম্প, তিনশো গাড়ি, আর রাশি রাশি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

শহীদুল ইসলাম ভোর থেকে পাঁচটা পাম্প ঘুরলেন। শাহরিয়ার রহমান খিলক্ষেত থেকে বের হলেন, তিনটা পাম্প ঘুরলেন। আবদুল্লাহ আল মামুন ভোর পাঁচটায় লাইনে দাঁড়ালেন, আট ঘণ্টা পরেও তেল নেই। এরা সবাই সাধারণ মানুষ। কেউ গাড়িচালক, কেউ চাকরিজীবী, কেউ কলেজপড়ুয়া ছেলে। এদের কারো কাছে সময় ফেলনা জিনিস না। তবু রাস্তায় বসে আছেন, গাছের ছায়ায় ঘুমাচ্ছেন, অপেক্ষা করছেন।

এটা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের ছবি। রাজধানী ঢাকার ছবি। আসাদগেটের একটা পাম্পে দুপুর বারোটায় ২৩০টা প্রাইভেট কার আর ১৩৮টা মোটরসাইকেল লাইনে। বিজয় সরণিতে ৪২১টা গাড়ি, ৬৩৩টা মোটরসাইকেল। লাইন তেজগাঁও পার হয়ে যাচ্ছে। পাম্পের কর্মকর্তা বলছেন, গতকাল রাতেই তেল শেষ। ডিপোতে গাড়ি গেছে, কখন আসবে জানি না। এই “জানি না” কথাটাই আসলে গোটা শাসনব্যবস্থার সারসংক্ষেপ।

অথচ মন্ত্রী বলছেন তেলের অভাব নেই। এই দেশে এখন এটাই নিয়ম হয়ে গেছে। মানুষ রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট পাচ্ছেন আর উপরমহল থেকে বলা হচ্ছে সব ঠিক আছে। এই ফাঁকটা, মানুষের বাস্তব জীবন আর সরকারি বয়ানের মাঝখানের এই বিশাল খাদটা, এটাই বিএনপি সরকারের আসল পরিচয় হয়ে উঠেছিল।

২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া দল যে দেশের জ্বালানি সংকট সামলাতে পারবে না, সেটা কি অবাক করার মতো কিছু? গত সপ্তাহে আত্মীয়ের কাছ থেকে দুই লিটার তেল ধার করে কলেজে যাওয়া একটা ছেলের গল্প আসলে এই সময়টার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলিল।

যে দেশের মানুষ “মাংসের স্বাধীনতা” চেয়েছিলেন, সে দেশের মানুষ এখন মোটরসাইকেলের জন্য দুই লিটার তেলও ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এটা নিছক জ্বালানি সংকট না। এটা একটা ব্যর্থতার গল্প। পরিকল্পনার ব্যর্থতা, অগ্রাধিকারের ব্যর্থতা, মানুষের দিকে তাকানোর ব্যর্থতা।

ইউনুস সরকার এখন নেই, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি ক্ষমতায়। কিন্তু ওই দেড় বছরের ক্ষত সহজে যাওয়ার না। একটা দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এত সহজে ঠিক হয় না। এই পাম্পে পাম্পে লাইন, এই “কখন তেল আসবে জানি না” জবাব, এই রাস্তায় আটকে থাকা মানুষগুলো সেই ক্ষতেরই চিহ্ন।

শহীদুল ইসলাম বলেছিলেন, “তেল নিতে এসে ফেঁসে গেছি মনে হচ্ছে।” না ভাই, শুধু আপনি না। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর পুরো দেশটাই ফেঁসে গেছে।

শহীদুল ইসলাম ভোর থেকে পাঁচটা পাম্প ঘুরলেন। শাহরিয়ার রহমান খিলক্ষেত থেকে বের হলেন, তিনটা পাম্প ঘুরলেন। আবদুল্লাহ আল মামুন ভোর পাঁচটায় লাইনে দাঁড়ালেন, আট ঘণ্টা পরেও তেল নেই। এরা সবাই সাধারণ মানুষ। কেউ গাড়িচালক, কেউ চাকরিজীবী, কেউ কলেজপড়ুয়া ছেলে। এদের কারো কাছে সময় ফেলনা জিনিস না। তবু রাস্তায় বসে আছেন, গাছের ছায়ায় ঘুমাচ্ছেন, অপেক্ষা করছেন।

এটা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের ছবি। রাজধানী ঢাকার ছবি। আসাদগেটের একটা পাম্পে দুপুর বারোটায় ২৩০টা প্রাইভেট কার আর ১৩৮টা মোটরসাইকেল লাইনে। বিজয় সরণিতে ৪২১টা গাড়ি, ৬৩৩টা মোটরসাইকেল। লাইন তেজগাঁও পার হয়ে যাচ্ছে। পাম্পের কর্মকর্তা বলছেন, গতকাল রাতেই তেল শেষ। ডিপোতে গাড়ি গেছে, কখন আসবে জানি না। এই “জানি না” কথাটাই আসলে গোটা শাসনব্যবস্থার সারসংক্ষেপ।

অথচ মন্ত্রী বলছেন তেলের অভাব নেই। এই দেশে এখন এটাই নিয়ম হয়ে গেছে। মানুষ রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট পাচ্ছেন আর উপরমহল থেকে বলা হচ্ছে সব ঠিক আছে। এই ফাঁকটা, মানুষের বাস্তব জীবন আর সরকারি বয়ানের মাঝখানের এই বিশাল খাদটা, এটাই বিএনপি সরকারের আসল পরিচয় হয়ে উঠেছিল।

২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া দল যে দেশের জ্বালানি সংকট সামলাতে পারবে না, সেটা কি অবাক করার মতো কিছু? গত সপ্তাহে আত্মীয়ের কাছ থেকে দুই লিটার তেল ধার করে কলেজে যাওয়া একটা ছেলের গল্প আসলে এই সময়টার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলিল।

যে দেশের মানুষ “মাংসের স্বাধীনতা” চেয়েছিলেন, সে দেশের মানুষ এখন মোটরসাইকেলের জন্য দুই লিটার তেলও ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এটা নিছক জ্বালানি সংকট না। এটা একটা ব্যর্থতার গল্প। পরিকল্পনার ব্যর্থতা, অগ্রাধিকারের ব্যর্থতা, মানুষের দিকে তাকানোর ব্যর্থতা।

ইউনুস সরকার এখন নেই, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি ক্ষমতায়। কিন্তু ওই দেড় বছরের ক্ষত সহজে যাওয়ার না। একটা দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এত সহজে ঠিক হয় না। এই পাম্পে পাম্পে লাইন, এই “কখন তেল আসবে জানি না” জবাব, এই রাস্তায় আটকে থাকা মানুষগুলো সেই ক্ষতেরই চিহ্ন।

শহীদুল ইসলাম বলেছিলেন, “তেল নিতে এসে ফেঁসে গেছি মনে হচ্ছে।” না ভাই, শুধু আপনি না। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর পুরো দেশটাই ফেঁসে গেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ