২ এপ্রিল বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ঘোষণা দিলেন, এপ্রিল থেকে ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৭২৮ টাকা। অটোগ্যাস লিটারে বেড়ে ৭৯.৭৭ টাকা, মানে এক লাফে প্রায় ১৮ টাকা। এই একটা ঘোষণায় কী কী হলো ভাবুন। রান্নার খরচ বাড়ল। সিএনজি ভাড়া বাড়ল। ট্রাকে মাল পরিবহনের খরচ বাড়ল। সেই খরচ শেষমেশ যোগ হলো বাজারের প্রতিটা পণ্যের দামে। এই চেইনটা বুঝতে অর্থনীতিবিদ হতে হয় না।
কিন্তু বিএনপির বোঝার কথাও না। এই দলের ইতিহাসটা একটু মনে করা দরকার।
২০০১ থেকে ২০০৬ – বিএনপির শেষ পূর্ণ মেয়াদ। তখন টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছিল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচক অনুযায়ী। এটা বিএনপির লোকেরাও অস্বীকার করতে পারবে না কারণ সংখ্যাটা নথিতে আছে। হাওয়া ভবন নামের একটা বেসরকারি অফিস থেকে রাষ্ট্রের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ হতো, সেটা তদন্তে বেরিয়েছে। তারেক রহমানের দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছে আদালতে। এগুলো অভিযোগ না, রায়।
এই ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হলো, সেখানে দেশের প্রধান প্রধান দলগুলো অংশ নেয়নি। ভোটার উপস্থিতি কতটুকু ছিল সেটা নিয়ে সরকারি হিসাব আর মাঠের বাস্তবতার ফারাকটা সবাই দেখেছে। সেই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে রাজনৈতিক বিদ্বেষ না, এটা সাধারণ গণতান্ত্রিক জিজ্ঞাসা।
এই প্রশ্নবিদ্ধ বৈধতার ওপর দাঁড়িয়ে সরকার এখন জনগণের রান্নাঘরে হাত দিচ্ছে। মাসে মাসে সিলিন্ডারের দাম ঠিক হচ্ছে, কিন্তু কোনো মাসেই কমছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশে সেই সুবিধা পৌঁছায় না, বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছায়। এটা কাকতাল না, এটা নীতি।
একটা পরিবার যদি মাসে দুটো সিলিন্ডার ব্যবহার করে, শুধু গ্যাসেই তার খরচ সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি। তার ওপর বাড়িভাড়া, বাচ্চার স্কুল, চিকিৎসা। বেতন কিন্তু সেই হারে বাড়েনি, বাড়ার কোনো লক্ষণও নেই। সরকার এই হিসাবটা করে কিনা সন্দেহ আছে। অথবা করে, কিন্তু পরোয়া করে না।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে মানুষের জীবনমান উপরে যাবে, এই দাবিটা তারা করত। এখন করার সুযোগ পেয়েছে। তিন মাস পার হয়নি, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিল। পরের মাসে কী বাড়বে সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

