ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের মতে, ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি সরকারি ছুটির আওতায় না থাকায় ধর্মীয় আচার পালনে তাদের নানাবিধ বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন গির্জা ও খ্রিস্টান সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইস্টার সানডে খ্রিস্টান বিশ্বাসের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। কিন্তু বাংলাদেশে এটি কর্মদিবস হিসেবে থাকায় অনেক চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় কর্তব্য পালন এবং পেশাগত দায়বদ্ধতার মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হয়।
নির্মল রোজারিও তার বক্তব্যে বলেন, “একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষের প্রধান উৎসবগুলোতে সমান সুযোগ থাকা প্রয়োজন। ইস্টার সানডেতে ছুটি না থাকা আমাদের ধর্মীয় অধিকার চর্চায় অন্তরায়।”
সংগঠনের মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া বলেন, “এটি আমাদের নতুন কোনো দাবি নয়; দীর্ঘ দিন ধরে আমরা এই ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা আশা করি, সরকার প্রশাসনিক ও নীতিগত দিক বিবেচনা করে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছাবে।”
রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চের পাল-পুরোহিত ফাদার আলবার্ট টি. রোজারিও বলেন, “বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ইস্টার সানডে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ছুটি। বাংলাদেশেও এই স্বীকৃতি দিলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতার চর্চাকে আরও অর্থবহ ও সুসংহত করবে।”
মানববন্ধনে ঢাকা ক্রেডিটের সেক্রেটারি মঞ্জু মারীয়া পালমা এবং যুগ্ম-মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিষয়টি কেবল ছুটির নয়, বরং নাগরিক ন্যায্যতা ও সমতার প্রতীক। জেমস সুব্রত হাজরা প্রস্তাব করেন, “আসন্ন ৫ এপ্রিল ইস্টার সানডে উপলক্ষে সরকার অন্তত নির্বাহী আদেশে একদিনের ছুটি ঘোষণা করে একটি ইতিবাচক সূচনা করতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অনুরোধপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইস্টার সানডেকে স্থায়ীভাবে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই প্রাণের দাবি দীর্ঘকাল উপেক্ষা করা হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। তারা বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এই দাবিটি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবে।

