বিএনপির দাবি করা ‘স্বস্তির ঈদযাত্রায়’ ৩৯৪ প্রাণহানি

জুলাই দাঙ্গার পর ভাগবাটোয়ারার নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার প্রথম মাসেই গভীর সংকটে পড়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। একদিকে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি, অন্যদিকে মন্ত্রীদের বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন মন্তব্যে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ঈদুল ফিতরে সরকারের দাবি করা ‘স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা’র বিপরীতে বের হয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। গত ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:

সড়ক পথ: ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১০৪৬ জন আহত। (২০২৫ সালের তুলনায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫%)।

রেলপথ: ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত।

নৌ-পথ: ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৯ জন আহত।

মোট: ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯৪ এবং আহত ১২৮৮ জন।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন।

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি ছিল ‘ভাড়া সন্ত্রাস’। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, পরিবহন মালিকদের নৈরাজ্যে গত ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যেখানে ঢাকা থেকে পাবনার ৫৫০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয়েছে ১২০০ টাকা, আর রংপুরের ৫০০ টাকার ভাড়া ঠেকেছে ১৫০০ টাকায়। সব মিলিয়ে দূরপাল্লার ৪০ লাখ ট্রিপে যাত্রীদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১৪৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অথচ এই চরম নৈরাজ্যের মধ্যেও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দাবি ছিল বিস্ময়কর। তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন যে, কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন—যাত্রীদের অভিযোগ নাকি উল্টো, তাদের কাছ থেকে ভাড়া নাকি কম নেওয়া হচ্ছে! মন্ত্রীর এমন বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন মন্তব্য সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।

সরকারের দাবি করা ‘স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা’র বিপরীতে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার চন্দ্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, সদরঘাটে বিশৃঙ্খলা এবং ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাগুলো সরকারের ব্যবস্থাপনাগত চরম দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই পুরনো সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসত্য বক্তব্য এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা নতুন এই সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জুলাই দাঙ্গার পর ভাগবাটোয়ারার নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার প্রথম মাসেই গভীর সংকটে পড়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। একদিকে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি, অন্যদিকে মন্ত্রীদের বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন মন্তব্যে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ঈদুল ফিতরে সরকারের দাবি করা ‘স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা’র বিপরীতে বের হয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। গত ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:

সড়ক পথ: ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১০৪৬ জন আহত। (২০২৫ সালের তুলনায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫%)।

রেলপথ: ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত।

নৌ-পথ: ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৯ জন আহত।

মোট: ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯৪ এবং আহত ১২৮৮ জন।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন।

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি ছিল ‘ভাড়া সন্ত্রাস’। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, পরিবহন মালিকদের নৈরাজ্যে গত ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যেখানে ঢাকা থেকে পাবনার ৫৫০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয়েছে ১২০০ টাকা, আর রংপুরের ৫০০ টাকার ভাড়া ঠেকেছে ১৫০০ টাকায়। সব মিলিয়ে দূরপাল্লার ৪০ লাখ ট্রিপে যাত্রীদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১৪৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অথচ এই চরম নৈরাজ্যের মধ্যেও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দাবি ছিল বিস্ময়কর। তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন যে, কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন—যাত্রীদের অভিযোগ নাকি উল্টো, তাদের কাছ থেকে ভাড়া নাকি কম নেওয়া হচ্ছে! মন্ত্রীর এমন বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন মন্তব্য সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।

সরকারের দাবি করা ‘স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা’র বিপরীতে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার চন্দ্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, সদরঘাটে বিশৃঙ্খলা এবং ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাগুলো সরকারের ব্যবস্থাপনাগত চরম দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই পুরনো সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসত্য বক্তব্য এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা নতুন এই সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ