কাপড় সরেনি, সরকার বদলেছে মাত্র

যশোরের মণিহারে দাঁড়িয়ে আছে বিজয়স্তম্ভ। ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সেই স্মারক পাথরে খোদাই করা তাঁর নাম গাঢ় সবুজ কাপড়ে ঢেকে দিয়ে এ বছর স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এই একটা ঘটনাই বলে দেয়, আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি।

সূর্যকে কতক্ষণ আড়াল রাখা যাবে? কাপড় দিয়ে ইতিহাস ঢাকা যায় না, এটা শিশুও জানে। কিন্তু যারা এই কাজটা করেছে, তারা সেই শিশুর সরলতাটুকুও রাখেনি। তারা জেনেশুনে, পরিকল্পিতভাবে একটা জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অপমান করেছে। এটা অজ্ঞতা নয়, এটা সুচিন্তিত বিদ্বেষ।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যা হয়েছিল, তার পর থেকেই এই ধারা শুরু। বিদেশী অর্থের জোগান, জামায়াত-শিবিরের রাস্তায় সহিংসতা, আর একটা সুবিধাবাদী সামরিক মনোভঙ্গির ছায়ায় একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো। সেই শূন্যস্থানে বসানো হলো মুহাম্মদ ইউনূসকে, গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের কারবারি, যিনি রাজনীতির মাঠে কখনো ছিলেন না কিন্তু ক্ষমতার স্বাদটা ঠিকই চিনতেন। ইউনূসের সরকারের ছায়ায় জামায়াতে ইসলামী যেভাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, সেটা এই দেশের মানুষ ভুলবে না। একাত্তরে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল, গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টায় সেই আমলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা মিলেছিল।

কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ না। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে বিএনপি ক্ষমতায়। আর ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে, মানে বিএনপি সরকারের আমলেই, যশোরের বিজয়স্তম্ভে বঙ্গবন্ধুর নামফলক কাপড়ে ঢেকে শ্রদ্ধা জানানো হলো। জেলা প্রশাসন বলছে, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকেই এভাবে চলছে। এটা স্বীকারোক্তি, কোনো ব্যাখ্যা না। বিএনপি ক্ষমতায় এসে এই ধারাটা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং সেই একই প্রশাসন, সেই একই কায়দায় কাজটা চালিয়ে গেছে। তার মানে হয় বিএনপি এটা দেখেও না দেখার ভান করছে, নয়তো ভেতরে ভেতরে এতে তাদের আপত্তি নেই।

এই দুটোর যেটাই সত্যি হোক, দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ক্ষমতায় বসে থাকলে দায়িত্বও নিতে হয়। ইউনূসের আমলে যা শুরু হয়েছিল, বিএনপি সেটা বন্ধ না করে নীরব সম্মতি দিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার প্রশ্নে বিএনপির এই নীরবতা নতুন কিছু না। দলটির সাথে জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যতার কথা এই দেশের মানুষ জানে। সেই সম্পর্কের রেশ এখনো কাটেনি, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, ইতিহাস বিকৃতির অংশ হিসেবেই এই নামফলক ঢাকা হয়েছে। তারা ঠিকই বলছেন। এটা শুধু একটা কাপড়ের টুকরো না, এটা একটা মানসিকতার প্রকাশ। যে মানসিকতা মনে করে একাত্তরের ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব, বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করা সম্ভব।

মুক্তিযুদ্ধের দিন শেষ, রাজাকারের বাচ্চাদের হাতে বাংলাদেশ। এই কথাটা তখন অনেকে বলেছেন যন্ত্রণায়, ক্ষোভে। আজ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিজয়স্তম্ভের সেই কাপড় সরেনি। তার মানে সমস্যাটা শুধু ইউনূসের ছিল না, সমস্যাটা আরও গভীরে।

নির্লজ্জ অপদার্থ মোনাফেক জাতি আমরা। এই কথাটা বলতে গেলে বুকে ব্যথা লাগে, কিন্তু না বললেও পারা যায় না। কারণ একটা জাতি যদি সত্যিই সচেতন থাকত, তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের দলকে রাষ্ট্রীয় মদদ দেওয়ার সুযোগ কেউ পেত না, আর নতুন সরকার এসেও পুরনো অপমানটা টিকিয়ে রাখার সাহস পেত না।

মানুষের হৃদয় থেকে কিন্তু মুছানো সম্ভব হয়নি। যশোরের সেই মুক্তিযোদ্ধারা যারা বলেছেন “ইতিহাস কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না”, তারা এই সত্যটাই বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর নাম পাথর থেকে মুছে ফেলা যায়, কাপড়ে ঢেকে রাখা যায়, কিন্তু কোটি মানুষের বুকে যে স্মৃতি আছে, সেখানে হাত দেওয়ার ক্ষমতা কোনো ইউনূসের নেই, কোনো জামায়াতেরও নেই, আর যারা নীরব থেকে এই অপমান চালু রেখেছে তাদেরও না।

যশোরের মণিহারে দাঁড়িয়ে আছে বিজয়স্তম্ভ। ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সেই স্মারক পাথরে খোদাই করা তাঁর নাম গাঢ় সবুজ কাপড়ে ঢেকে দিয়ে এ বছর স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এই একটা ঘটনাই বলে দেয়, আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি।

সূর্যকে কতক্ষণ আড়াল রাখা যাবে? কাপড় দিয়ে ইতিহাস ঢাকা যায় না, এটা শিশুও জানে। কিন্তু যারা এই কাজটা করেছে, তারা সেই শিশুর সরলতাটুকুও রাখেনি। তারা জেনেশুনে, পরিকল্পিতভাবে একটা জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অপমান করেছে। এটা অজ্ঞতা নয়, এটা সুচিন্তিত বিদ্বেষ।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যা হয়েছিল, তার পর থেকেই এই ধারা শুরু। বিদেশী অর্থের জোগান, জামায়াত-শিবিরের রাস্তায় সহিংসতা, আর একটা সুবিধাবাদী সামরিক মনোভঙ্গির ছায়ায় একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো। সেই শূন্যস্থানে বসানো হলো মুহাম্মদ ইউনূসকে, গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের কারবারি, যিনি রাজনীতির মাঠে কখনো ছিলেন না কিন্তু ক্ষমতার স্বাদটা ঠিকই চিনতেন। ইউনূসের সরকারের ছায়ায় জামায়াতে ইসলামী যেভাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, সেটা এই দেশের মানুষ ভুলবে না। একাত্তরে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল, গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টায় সেই আমলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা মিলেছিল।

কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ না। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে বিএনপি ক্ষমতায়। আর ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে, মানে বিএনপি সরকারের আমলেই, যশোরের বিজয়স্তম্ভে বঙ্গবন্ধুর নামফলক কাপড়ে ঢেকে শ্রদ্ধা জানানো হলো। জেলা প্রশাসন বলছে, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকেই এভাবে চলছে। এটা স্বীকারোক্তি, কোনো ব্যাখ্যা না। বিএনপি ক্ষমতায় এসে এই ধারাটা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং সেই একই প্রশাসন, সেই একই কায়দায় কাজটা চালিয়ে গেছে। তার মানে হয় বিএনপি এটা দেখেও না দেখার ভান করছে, নয়তো ভেতরে ভেতরে এতে তাদের আপত্তি নেই।

এই দুটোর যেটাই সত্যি হোক, দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ক্ষমতায় বসে থাকলে দায়িত্বও নিতে হয়। ইউনূসের আমলে যা শুরু হয়েছিল, বিএনপি সেটা বন্ধ না করে নীরব সম্মতি দিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার প্রশ্নে বিএনপির এই নীরবতা নতুন কিছু না। দলটির সাথে জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যতার কথা এই দেশের মানুষ জানে। সেই সম্পর্কের রেশ এখনো কাটেনি, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, ইতিহাস বিকৃতির অংশ হিসেবেই এই নামফলক ঢাকা হয়েছে। তারা ঠিকই বলছেন। এটা শুধু একটা কাপড়ের টুকরো না, এটা একটা মানসিকতার প্রকাশ। যে মানসিকতা মনে করে একাত্তরের ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব, বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করা সম্ভব।

মুক্তিযুদ্ধের দিন শেষ, রাজাকারের বাচ্চাদের হাতে বাংলাদেশ। এই কথাটা তখন অনেকে বলেছেন যন্ত্রণায়, ক্ষোভে। আজ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিজয়স্তম্ভের সেই কাপড় সরেনি। তার মানে সমস্যাটা শুধু ইউনূসের ছিল না, সমস্যাটা আরও গভীরে।

নির্লজ্জ অপদার্থ মোনাফেক জাতি আমরা। এই কথাটা বলতে গেলে বুকে ব্যথা লাগে, কিন্তু না বললেও পারা যায় না। কারণ একটা জাতি যদি সত্যিই সচেতন থাকত, তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের দলকে রাষ্ট্রীয় মদদ দেওয়ার সুযোগ কেউ পেত না, আর নতুন সরকার এসেও পুরনো অপমানটা টিকিয়ে রাখার সাহস পেত না।

মানুষের হৃদয় থেকে কিন্তু মুছানো সম্ভব হয়নি। যশোরের সেই মুক্তিযোদ্ধারা যারা বলেছেন “ইতিহাস কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না”, তারা এই সত্যটাই বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর নাম পাথর থেকে মুছে ফেলা যায়, কাপড়ে ঢেকে রাখা যায়, কিন্তু কোটি মানুষের বুকে যে স্মৃতি আছে, সেখানে হাত দেওয়ার ক্ষমতা কোনো ইউনূসের নেই, কোনো জামায়াতেরও নেই, আর যারা নীরব থেকে এই অপমান চালু রেখেছে তাদেরও না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ