বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুই কোটির লুট, আর “টেক ব্যাক বাংলাদেশ” মানে কি এটাই ছিল?

নাটোরের বড়াইগ্রামে একটা নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে রাতের বেলা ৪০-৪৫ জনের একটা সংঘবদ্ধ দল প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে গেল। নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে, মারধর করে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সুশৃঙ্খলভাবে তামার তার, মেশিনপত্র, সিসিটিভি সরঞ্জাম সব গায়েব করে দিল। এত বড় একটা ডাকাতি হলো, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাল রাত সাড়ে চারটায়। ঘটনা শুরু হয়েছিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

এই যে দৃশ্যটা, এটা ২০২৬ সালের বাংলাদেশের একটা ছোট্ট খণ্ডচিত্র মাত্র। বিএনপি ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন করেছে, সেটা নিয়ে কথা বলার আগে এই প্রশ্নটা করা দরকার যে, রাষ্ট্রের মূল অবকাঠামো রক্ষা করার ন্যূনতম সক্ষমতাটুকু কি এই সরকারের আছে?

যে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই নির্বাচন থেকে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো বাইরে ছিল। মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যে গণতন্ত্রের কথা বলে বলে এই দলটা বছরের পর বছর রাজপথ গরম করেছে, সেই গণতন্ত্রের পরীক্ষায় তারা নিজেরাই ফেল করেছে। অংশগ্রহণহীন একটা ভোটের বৈধতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন তাদের তথাকথিত মন্ত্রিসভা দেশ চালাচ্ছে।

এরাই “ইনসাফের সংস্কার” আর “টেক ব্যাক বাংলাদেশ”র কথা বলেছিল। সেই টেক ব্যাক এখন এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রাতের আঁধারে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লুট হয়, আর পুলিশ নয় ঘণ্টা পরে এসে ঘটনাস্থল দেখে যায়।

পুরনো প্রজন্ম মনে করবেন ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই সময়টার কথা। তখন বলা হতো খাম্বা নেই, বিদ্যুৎ নেই। এখন উন্নতি হয়েছে বটে। খাম্বা এখন আছে, মালামালও আছে, শুধু সেটা রাতারাতি ট্রাকে করে চলে যায়। অগ্রগতি বলতে হবে।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি বলেছেন, “বিপুল পরিমাণ মালামাল সংরক্ষণের বিষয়ে পুলিশকে আগে জানানো হয়নি।” এই কথাটা শুনে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না। মানে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব যে রাষ্ট্রের, সেটা এখন ঠিকাদারের দায়িত্ব হয়ে গেছে। ঠিকাদার না জানালে পুলিশ জানবে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতিটা কিন্তু বিএনপির আমলে নতুন কিছু না।

যে দলটার জন্ম সেনাছাউনিতে, যেটা সামরিক শাসনের ভেতর থেকে তৈরি হয়েছে, তার কাছ থেকে জবাবদিহির রাজনীতি আশা করাটা আসলে বাড়াবাড়ি। কিন্তু মানুষ তবু ভেবেছিল, হয়তো কিছু একটা বদলাবে। বদলায়নি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, আর রাষ্ট্রীয় সম্পদের অরক্ষিত অবস্থা, এই তিনটা জিনিস বরং আরও পাকাপোক্ত হয়েছে।

দুই কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। একজনকেও গ্রেফতার করা যায়নি। একটা মালামালও উদ্ধার হয়নি। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “চেষ্টা চলছে।” এই “চেষ্টা চলছে” কথাটা শুনতে শুনতে মানুষের কান পচে গেছে। চেষ্টা চলতে চলতেই মালামাল সীমানা পার হয়ে যায়, আর চেষ্টা চলতে চলতেই ফাইল ধুলো খায়। এটাই এখনকার বাস্তবতা।

https://www.banglatribune.com/country/rajshahi/939233

নাটোরের বড়াইগ্রামে একটা নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে রাতের বেলা ৪০-৪৫ জনের একটা সংঘবদ্ধ দল প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে গেল। নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে, মারধর করে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সুশৃঙ্খলভাবে তামার তার, মেশিনপত্র, সিসিটিভি সরঞ্জাম সব গায়েব করে দিল। এত বড় একটা ডাকাতি হলো, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাল রাত সাড়ে চারটায়। ঘটনা শুরু হয়েছিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

এই যে দৃশ্যটা, এটা ২০২৬ সালের বাংলাদেশের একটা ছোট্ট খণ্ডচিত্র মাত্র। বিএনপি ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন করেছে, সেটা নিয়ে কথা বলার আগে এই প্রশ্নটা করা দরকার যে, রাষ্ট্রের মূল অবকাঠামো রক্ষা করার ন্যূনতম সক্ষমতাটুকু কি এই সরকারের আছে?

যে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই নির্বাচন থেকে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো বাইরে ছিল। মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যে গণতন্ত্রের কথা বলে বলে এই দলটা বছরের পর বছর রাজপথ গরম করেছে, সেই গণতন্ত্রের পরীক্ষায় তারা নিজেরাই ফেল করেছে। অংশগ্রহণহীন একটা ভোটের বৈধতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন তাদের তথাকথিত মন্ত্রিসভা দেশ চালাচ্ছে।

এরাই “ইনসাফের সংস্কার” আর “টেক ব্যাক বাংলাদেশ”র কথা বলেছিল। সেই টেক ব্যাক এখন এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রাতের আঁধারে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লুট হয়, আর পুলিশ নয় ঘণ্টা পরে এসে ঘটনাস্থল দেখে যায়।

পুরনো প্রজন্ম মনে করবেন ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই সময়টার কথা। তখন বলা হতো খাম্বা নেই, বিদ্যুৎ নেই। এখন উন্নতি হয়েছে বটে। খাম্বা এখন আছে, মালামালও আছে, শুধু সেটা রাতারাতি ট্রাকে করে চলে যায়। অগ্রগতি বলতে হবে।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি বলেছেন, “বিপুল পরিমাণ মালামাল সংরক্ষণের বিষয়ে পুলিশকে আগে জানানো হয়নি।” এই কথাটা শুনে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না। মানে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব যে রাষ্ট্রের, সেটা এখন ঠিকাদারের দায়িত্ব হয়ে গেছে। ঠিকাদার না জানালে পুলিশ জানবে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতিটা কিন্তু বিএনপির আমলে নতুন কিছু না।

যে দলটার জন্ম সেনাছাউনিতে, যেটা সামরিক শাসনের ভেতর থেকে তৈরি হয়েছে, তার কাছ থেকে জবাবদিহির রাজনীতি আশা করাটা আসলে বাড়াবাড়ি। কিন্তু মানুষ তবু ভেবেছিল, হয়তো কিছু একটা বদলাবে। বদলায়নি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, আর রাষ্ট্রীয় সম্পদের অরক্ষিত অবস্থা, এই তিনটা জিনিস বরং আরও পাকাপোক্ত হয়েছে।

দুই কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। একজনকেও গ্রেফতার করা যায়নি। একটা মালামালও উদ্ধার হয়নি। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “চেষ্টা চলছে।” এই “চেষ্টা চলছে” কথাটা শুনতে শুনতে মানুষের কান পচে গেছে। চেষ্টা চলতে চলতেই মালামাল সীমানা পার হয়ে যায়, আর চেষ্টা চলতে চলতেই ফাইল ধুলো খায়। এটাই এখনকার বাস্তবতা।

https://www.banglatribune.com/country/rajshahi/939233

আরো পড়ুন

সর্বশেষ