তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দক্ষিণ দিকে বাংলা একাডেমির উল্টোদিকে রমনাকালী মন্দির ও মা আনন্দময়ীর আশ্রম ছিল। এখন যেইটা রমনা কালীমন্দির নামেই খ্যাত।
পূর্ব পাকিস্তানে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর “অপারেশন সার্চলাইট” নামে গণহত্যা শুরু হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালানো হত্যাযজ্ঞের অংশ হিসেবে ২৭ মার্চ ভোরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির ও মঠে।
২৭ মার্চ ভোররাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি বিশাল দল ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে রমনা কালী মন্দির ও মঠে প্রবেশ করে। মন্দির তখনো ধূপ-ধুনোর সুবাসে আচ্ছন্ন, কিছু পূজারী রাতজাগা প্রার্থনায় নিমগ্ন ছিলেন।
পাকিস্তানি সেনারা প্রথমেই মন্দির ঘিরে ফেলে, এবং ভেতরে থাকা মানুষদের কোনো সুযোগ না দিয়েই নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। শতাধিক মানুষ একসঙ্গে প্রাণ হারান। গুরুপ্রসাদ মৈত্রকে টেনে বের করে বর্বরভাবে হত্যা করা হয়। নারী পূজারীদের অনেককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতার আরেকটি উদাহরণ।
মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে অনেক লাশ চিরতরে পুড়ে যায়। পাকিস্তানি বাহিনী শুধু হত্যাকাণ্ড চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, পুরো মন্দির এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
ভোর ৪টার দিকে রমনায় অপারেশন শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানি সেনারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন নারীকে তুলে নিয়ে যায়। এই নারীদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন যে প্রায় ১২ জন নারীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত “বাংলাদেশ ডকুমেন্টস” বইতে এবং “মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, নির্যাতন, বধ্যভূমি ও গণকবর” শীর্ষক গবেষণায় রমনা কালী মন্দিরের হত্যাযজ্ঞের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
একটি ফলকও আছে এখনো নতুন কালীমন্দিরের প্রবেশ পথে শহীদদের নামসহ।

