ঈদের আগে গরিবের ভিজিএফের চালও লুটেপুটে খাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ব্যাপক অনিয়ম ও লঙ্কাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, হস্তক্ষেপ এবং সরাসরি চাল চুরির অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে বিএনপি নেতার হুমকিতে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করতে না পেরে জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল। বুধবার রাতে তার কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ইউনিয়নে মোট ২,৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী বিএনপি নেতাদের আগেই ২০ শতাংশ (৫৫৮টি) স্লিপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী এতেও ক্ষান্ত হননি। তিনি জোরপূর্বক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বরাদ্দ থেকে ২০০টি এবং ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে আরও কয়েকশ স্লিপ কেড়ে নেন।

সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার ও ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত স্লিপ দিতে রাজি না হওয়ায় সারোয়ার হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে পরিষদ অবরোধ করেন এবং চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভিডিওতে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডলকে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়, যেখানে তিনি বলেন, “গরিবের হক ঠিকমতো পৌঁছাতে পারলাম না, বিএনপি জোর করে সব কেড়ে নিয়েছে।”

এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদেও ভিজিএফের চাল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে সুবিধাভোগীদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ কেজি।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল মাপা হচ্ছে। হাতে-নাতে ওজন করে দেখা গেছে, কোনো প্যাকেটে ৪.৮ কেজি আবার কোনোটিতে ৫.৩ কেজি চাল রয়েছে। এই অনিয়মের সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

আটুলিয়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্ত্তিক চন্দ্র মণ্ডল জানান, চাল বিতরণের সময় বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের তত্ত্বাবধানেই চাল বণ্টন হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের যোগসাজশেই তাদের প্রাপ্য চালের অর্ধেক আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পবিত্র ঈদের আগে গরিবের হকের চাল নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করে। বিশেষ করে গাইবান্ধার ঘটনায় একজন জনপ্রতিনিধির জনসমক্ষে কান্না এবং সাতক্ষীরায় ওজনে অর্ধেক চাল দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ তদারকি ব্যবস্থা কতটা ভেঙে পড়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা অসহায় মানুষের মুখ থেকে অন্ন কেড়ে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এখানে প্রশাসনের নির্লিপ্ততা বা অনুপস্থিতিও বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ব্যাপক অনিয়ম ও লঙ্কাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, হস্তক্ষেপ এবং সরাসরি চাল চুরির অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে বিএনপি নেতার হুমকিতে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করতে না পেরে জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল। বুধবার রাতে তার কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ইউনিয়নে মোট ২,৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী বিএনপি নেতাদের আগেই ২০ শতাংশ (৫৫৮টি) স্লিপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী এতেও ক্ষান্ত হননি। তিনি জোরপূর্বক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বরাদ্দ থেকে ২০০টি এবং ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে আরও কয়েকশ স্লিপ কেড়ে নেন।

সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার ও ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত স্লিপ দিতে রাজি না হওয়ায় সারোয়ার হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে পরিষদ অবরোধ করেন এবং চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভিডিওতে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডলকে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়, যেখানে তিনি বলেন, “গরিবের হক ঠিকমতো পৌঁছাতে পারলাম না, বিএনপি জোর করে সব কেড়ে নিয়েছে।”

এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদেও ভিজিএফের চাল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে সুবিধাভোগীদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ কেজি।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল মাপা হচ্ছে। হাতে-নাতে ওজন করে দেখা গেছে, কোনো প্যাকেটে ৪.৮ কেজি আবার কোনোটিতে ৫.৩ কেজি চাল রয়েছে। এই অনিয়মের সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

আটুলিয়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্ত্তিক চন্দ্র মণ্ডল জানান, চাল বিতরণের সময় বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের তত্ত্বাবধানেই চাল বণ্টন হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের যোগসাজশেই তাদের প্রাপ্য চালের অর্ধেক আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পবিত্র ঈদের আগে গরিবের হকের চাল নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করে। বিশেষ করে গাইবান্ধার ঘটনায় একজন জনপ্রতিনিধির জনসমক্ষে কান্না এবং সাতক্ষীরায় ওজনে অর্ধেক চাল দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ তদারকি ব্যবস্থা কতটা ভেঙে পড়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা অসহায় মানুষের মুখ থেকে অন্ন কেড়ে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এখানে প্রশাসনের নির্লিপ্ততা বা অনুপস্থিতিও বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ