৩০ পারসেন্ট না দিলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কারাগারে দিচ্ছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশে স্থানীয় পর্যায়ে ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি করার অভিযোগ উঠেছে, যা না মানলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফ চালের বরাদ্দ নিয়ে এমপির জন্য নির্ধারিত ৩০ পার্সেন্ট না দেওয়ায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ফাঁস হওয়া একটি কল রেকর্ডে এই চাঁদাবাজির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ার ‘শাস্তি’

কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নামে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ দাবি করা হয়। চেয়ারম্যান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজকে বলতে শোনা যায়, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন? আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? ৩ হাজার টোকেন বুঝিয়ে দেবেন।” একইভাবে বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায়ও ৩০ শতাংশ দাবি করতে শোনা গেছে। এই রেকর্ড ফাঁসের পরপরই চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক দাবি করেছেন, চেয়ারম্যান পলাতক ছিলেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে ইউপি সচিব মিনহাজ আলী ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক রাজিব আহসান নিশ্চিত করেছেন যে, চেয়ারম্যান কখনো পলাতক ছিলেন না এবং নিয়মিত অফিস করেছেন। এ ঘটনা পুরনো তারেক রহমানের ‘মিস্টার ১০ পার্সেন্ট’ ও ‘খাম্বা কেলেঙ্কারি’র স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাঁদা দাবি, হামলা ও কার্যালয় দখলের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে: ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলাকারীরা সিসিটিভি ডিভাইস লুট করে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হলেও অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে: নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে কাবিখা প্রকল্পের অর্থ চাঁদা না দেওয়ায় ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা বেধড়ক মারধর করে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে এ হামলা হয়।

এছাড়া সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে আমলাদের সরিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট তছরুপের জন্য সুকৌশলী পদক্ষেপ।

ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকারি সম্পদ লুট, চাঁদাবাজি ও হামলা নিত্যনৈমিত্তিক।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংস্কারের নামে এমন চর্চা চলতে থাকলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঘটনা দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও তৃণমূল পর্যায়ে অরাজকতার চিত্র তুলে ধরছে।

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশে স্থানীয় পর্যায়ে ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি করার অভিযোগ উঠেছে, যা না মানলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফ চালের বরাদ্দ নিয়ে এমপির জন্য নির্ধারিত ৩০ পার্সেন্ট না দেওয়ায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ফাঁস হওয়া একটি কল রেকর্ডে এই চাঁদাবাজির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ার ‘শাস্তি’

কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নামে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ দাবি করা হয়। চেয়ারম্যান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজকে বলতে শোনা যায়, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন? আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? ৩ হাজার টোকেন বুঝিয়ে দেবেন।” একইভাবে বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায়ও ৩০ শতাংশ দাবি করতে শোনা গেছে। এই রেকর্ড ফাঁসের পরপরই চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক দাবি করেছেন, চেয়ারম্যান পলাতক ছিলেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে ইউপি সচিব মিনহাজ আলী ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক রাজিব আহসান নিশ্চিত করেছেন যে, চেয়ারম্যান কখনো পলাতক ছিলেন না এবং নিয়মিত অফিস করেছেন। এ ঘটনা পুরনো তারেক রহমানের ‘মিস্টার ১০ পার্সেন্ট’ ও ‘খাম্বা কেলেঙ্কারি’র স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাঁদা দাবি, হামলা ও কার্যালয় দখলের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে: ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলাকারীরা সিসিটিভি ডিভাইস লুট করে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হলেও অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে: নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে কাবিখা প্রকল্পের অর্থ চাঁদা না দেওয়ায় ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা বেধড়ক মারধর করে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে এ হামলা হয়।

এছাড়া সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে আমলাদের সরিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট তছরুপের জন্য সুকৌশলী পদক্ষেপ।

ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকারি সম্পদ লুট, চাঁদাবাজি ও হামলা নিত্যনৈমিত্তিক।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংস্কারের নামে এমন চর্চা চলতে থাকলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঘটনা দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও তৃণমূল পর্যায়ে অরাজকতার চিত্র তুলে ধরছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ