দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কি এখন দলীয় নেতাদের ‘পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে? এই প্রশ্নটি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে যখন সরকার সিটি কর্পোরেশনের পর দেশের ৪২টি জেলা পরিষদেও সরাসরি বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, অকার্যকর স্থানীয় সরকারকে সচল করার দোহাই দিয়ে আসলে নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে দলীয় লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলেও, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনে এবং সর্বশেষ গত রোববার ৪২টি জেলা পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
যাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই গত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন অথবা দলীয় মনোনয়ন পাননি। ফলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, এসব নেতাদের ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ বা ‘পুনর্বাসন’ হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম এবং উত্তরে পরাজিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানকে নিয়োগ দেওয়া এর বড় উদাহরণ।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান একে একটি ‘কুপ্রথা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের উদ্যোগ না নিয়ে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেওয়া ভালো ইঙ্গিত নয়। এটি জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নষ্ট করে এবং সেবাপ্রাপ্তি থেকে জনগণকে বঞ্চিত করে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংস্কারের নামে স্থানীয় সরকারে দলীয় কর্তৃত্ব স্থাপন করার এই চেষ্টা আখেরে স্থানীয় নির্বাচনকে আরও বিলম্বিত করবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

