চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া: দখলদার বাহিনীর নির্মমতা

একাত্তরের এপ্রিল মাস। ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্তানি বাহিনীর মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চল ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকাগুলো দিয়ে ভারত থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে ‘পোড়ামাটি নীতি’ গ্রহণ করেছিল, তার বলি হতে হয়েছে হাজার হাজার সাধারণ গ্রামবাসীকে।

চুয়াডাঙ্গা: প্রথম রাজধানী ও পাক-হানাদারের আক্রোশ

চুয়াডাঙ্গাকে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ আক্রোশ ছিল এই শহরের ওপর। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গা দখলের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শহরজুড়ে অগ্নিসংযোগ শুরু করে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পেছনে এবং মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে প্রতিদিন শত শত মানুষকে ধরে এনে হত্যা করা হতো। এখানকার লোকনাথপুর ও আলমডাঙ্গা এলাকায় চালানো হয়েছে ভয়াবহ তাণ্ডব। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে নিরপরাধ কৃষকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ব্রাশফায়ার করা ছিল দখলদারদের নিয়মিত উল্লাস।

কুষ্টিয়ার প্রতিরোধ ও পাকিস্তানি প্রতিশোধ

কুষ্টিয়া ছিল প্রতিরোধের এক অনন্য দুর্গ। ২৬শে মার্চ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও পুলিশ বাহিনী সাহসিকতার সাথে পাকিস্তানি সৈন্যদের কুষ্টিয়া শহর থেকে বিতাড়িত করে রেখেছিল। কিন্তু ১৬ই এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী বড় ধরনের পুনর্গঠিত আক্রমণ চালায়। আধুনিক অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ ভেঙে পড়লে শুরু হয় পৈশাচিক প্রতিশোধ।

মোহিনী মিলস গণহত্যা: কুষ্টিয়ার বিখ্যাত মোহিনী মিল এলাকায় কয়েকশ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

বংশীতলা ও জিকে ঘাট: গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত জিকে ঘাট এবং বংশীতলা এলাকায় কয়েক হাজার মানুষকে জবাই করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সেই সময় গড়াই নদীর পানি পচে দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছিল।

বধ্যভূমি ও গণকবরের জনপদ

চুয়াডাঙ্গার ডামুরহুদা এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ভেড়ামারা অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়েছে অসংখ্য গণকবর। পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রামগুলোতে ঢুকে যুবতীদের তুলে নিয়ে যেত এবং পুরুষদের জোরপূর্বক পরিখা খনন করতে বাধ্য করত, যে পরিখায় পরে তাদেরই বুক গুলিতে বিদীর্ণ করে মাটিচাপা দেওয়া হতো।

যুদ্ধের ভয়াবহতা

এপ্রিলের ওই সময়টা ছিল গ্রামবাংলার মানুষের জন্য চরম অনিশ্চয়তার। যেদিকেই চোখ যায়, কেবল ধোঁয়া আর হাহাকার। কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলো আজও সীমান্ত ঘেষা এই জনপদের মানুষের কাছে এক জীবন্ত ট্র্যাজেডি।

একাত্তরের এপ্রিল মাস। ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্তানি বাহিনীর মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চল ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকাগুলো দিয়ে ভারত থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে ‘পোড়ামাটি নীতি’ গ্রহণ করেছিল, তার বলি হতে হয়েছে হাজার হাজার সাধারণ গ্রামবাসীকে।

চুয়াডাঙ্গা: প্রথম রাজধানী ও পাক-হানাদারের আক্রোশ

চুয়াডাঙ্গাকে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ আক্রোশ ছিল এই শহরের ওপর। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গা দখলের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শহরজুড়ে অগ্নিসংযোগ শুরু করে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পেছনে এবং মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে প্রতিদিন শত শত মানুষকে ধরে এনে হত্যা করা হতো। এখানকার লোকনাথপুর ও আলমডাঙ্গা এলাকায় চালানো হয়েছে ভয়াবহ তাণ্ডব। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে নিরপরাধ কৃষকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ব্রাশফায়ার করা ছিল দখলদারদের নিয়মিত উল্লাস।

কুষ্টিয়ার প্রতিরোধ ও পাকিস্তানি প্রতিশোধ

কুষ্টিয়া ছিল প্রতিরোধের এক অনন্য দুর্গ। ২৬শে মার্চ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও পুলিশ বাহিনী সাহসিকতার সাথে পাকিস্তানি সৈন্যদের কুষ্টিয়া শহর থেকে বিতাড়িত করে রেখেছিল। কিন্তু ১৬ই এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী বড় ধরনের পুনর্গঠিত আক্রমণ চালায়। আধুনিক অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ ভেঙে পড়লে শুরু হয় পৈশাচিক প্রতিশোধ।

মোহিনী মিলস গণহত্যা: কুষ্টিয়ার বিখ্যাত মোহিনী মিল এলাকায় কয়েকশ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

বংশীতলা ও জিকে ঘাট: গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত জিকে ঘাট এবং বংশীতলা এলাকায় কয়েক হাজার মানুষকে জবাই করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সেই সময় গড়াই নদীর পানি পচে দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছিল।

বধ্যভূমি ও গণকবরের জনপদ

চুয়াডাঙ্গার ডামুরহুদা এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ভেড়ামারা অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়েছে অসংখ্য গণকবর। পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রামগুলোতে ঢুকে যুবতীদের তুলে নিয়ে যেত এবং পুরুষদের জোরপূর্বক পরিখা খনন করতে বাধ্য করত, যে পরিখায় পরে তাদেরই বুক গুলিতে বিদীর্ণ করে মাটিচাপা দেওয়া হতো।

যুদ্ধের ভয়াবহতা

এপ্রিলের ওই সময়টা ছিল গ্রামবাংলার মানুষের জন্য চরম অনিশ্চয়তার। যেদিকেই চোখ যায়, কেবল ধোঁয়া আর হাহাকার। কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলো আজও সীমান্ত ঘেষা এই জনপদের মানুষের কাছে এক জীবন্ত ট্র্যাজেডি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ