হরিলুট বাধা দিলেই তাণ্ডব চালায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদলের হামলা, কার্যালয়ে তালা ঝোলানো এবং সরকারি সম্পদ লুটের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও সম্পদ ‘হরিলুট’ করতে গিয়ে বাধা পেলেই পৈশাচিক তাণ্ডব চালাচ্ছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে ছাত্রদলের তালা ও সিসিটিভি ডিভাইস লুট

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে তার কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রবিবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবের নেতৃত্বে এই তাণ্ডব চালানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সচিব সুজন চন্দ্র দাস জানান, হামলাকারীরা সিসিটিভির ফুটেজ ডিলিট করার জন্য চাপ দেয়। ব্যর্থ হয়ে তারা সিসিটিভির মূল ডিভাইস (মনিটর ও ডিভিআর) ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসী ভাটরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। চেয়ারম্যান বুলবুল দাবি করেছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থাকলেও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।

বরিশালে চাঁদা না পেয়ে চেয়ারম্যানকে বেধড়ক পিটুনি

লুটপাট ও চাঁদাবাজির ভয়ংকর চিত্র দেখা গেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে। গত ৯ মার্চ কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্প থেকে ১ টন চালের সমপরিমাণ অর্থ চাঁদা দাবি করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার। নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এই অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করায় সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের একদল সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এই হামলায় ছাত্রদলের রাকিব মোসাব্বির ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নয়ন খানসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়।

জেলা পরিষদে রাজনৈতিক প্রশাসক: লুটপাটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ?

একদিকে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ওপর ‘মব ভায়োলেন্স’ চলছে, অন্যদিকে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে আমলাদের সরিয়ে রাজনৈতিক ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুকৌশলে জেলা পরিষদগুলোকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে এক বিশাল লুটপাটের নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতারা জেলা চেয়ারম্যানের পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করবেন। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের আগে জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও মোটা অঙ্কের বাজেট তছরুপ করতেই কেন্দ্র থেকে এই ‘লুটপাটের প্ল্যান’ সাজানো হয়েছে কি না।

জনমনে আতঙ্ক ও প্রশাসনের ভূমিকা

সারাদেশে যখন এমন অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রামগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বললেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে সরকারি দপ্তরে বসে কাজ করার মতো নিরাপত্তা নেই। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জনগণের কাজে ব্যয় না হয়ে দলীয় ক্যাডারদের পকেটে যাচ্ছে। এই চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদলের হামলা, কার্যালয়ে তালা ঝোলানো এবং সরকারি সম্পদ লুটের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও সম্পদ ‘হরিলুট’ করতে গিয়ে বাধা পেলেই পৈশাচিক তাণ্ডব চালাচ্ছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে ছাত্রদলের তালা ও সিসিটিভি ডিভাইস লুট

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে তার কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রবিবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবের নেতৃত্বে এই তাণ্ডব চালানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সচিব সুজন চন্দ্র দাস জানান, হামলাকারীরা সিসিটিভির ফুটেজ ডিলিট করার জন্য চাপ দেয়। ব্যর্থ হয়ে তারা সিসিটিভির মূল ডিভাইস (মনিটর ও ডিভিআর) ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসী ভাটরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। চেয়ারম্যান বুলবুল দাবি করেছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থাকলেও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।

বরিশালে চাঁদা না পেয়ে চেয়ারম্যানকে বেধড়ক পিটুনি

লুটপাট ও চাঁদাবাজির ভয়ংকর চিত্র দেখা গেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে। গত ৯ মার্চ কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্প থেকে ১ টন চালের সমপরিমাণ অর্থ চাঁদা দাবি করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার। নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এই অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করায় সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের একদল সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এই হামলায় ছাত্রদলের রাকিব মোসাব্বির ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নয়ন খানসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়।

জেলা পরিষদে রাজনৈতিক প্রশাসক: লুটপাটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ?

একদিকে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ওপর ‘মব ভায়োলেন্স’ চলছে, অন্যদিকে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে আমলাদের সরিয়ে রাজনৈতিক ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুকৌশলে জেলা পরিষদগুলোকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে এক বিশাল লুটপাটের নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতারা জেলা চেয়ারম্যানের পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করবেন। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের আগে জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও মোটা অঙ্কের বাজেট তছরুপ করতেই কেন্দ্র থেকে এই ‘লুটপাটের প্ল্যান’ সাজানো হয়েছে কি না।

জনমনে আতঙ্ক ও প্রশাসনের ভূমিকা

সারাদেশে যখন এমন অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রামগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বললেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে সরকারি দপ্তরে বসে কাজ করার মতো নিরাপত্তা নেই। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জনগণের কাজে ব্যয় না হয়ে দলীয় ক্যাডারদের পকেটে যাচ্ছে। এই চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ