দেশে সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলেও জনমনে স্বস্তি ফেরেনি। বরং ভোটের কালি না শুকাতেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলোতে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানীতে শহীদ মিনারে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
সর্বশেষ আজ রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ছুরিকাঘাতে মো. রাকিব (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. ঈশান জানান, ‘শহীদ মিনারের ওপর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৩-৪ জন যুবক রাকিবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার মাথায় গুলি লাগে। এছাড়া হামলাকারীরা তার পেটের ডান পাশে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।’ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওএসইসি) ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জেলাগুলোতে পৈশাচিক বর্বরতা: নারী ও শিশু লক্ষ্যবস্তু
নতুন সরকারের অধীনে গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের ওপর যে ধরনের পাশবিক হামলা হয়েছে, তাতে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নরসিংদীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা: গত ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে নরসিংদীর মাধবদীতে এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই অপহরণ করে নিয়ে যায় স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার চক্র। পরে তাকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ ফসলের জমিতে ফেলে রাখা হয়।
পাবনায় দাদি-নাতনি খুন: ঈশ্বরদীতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ৬৫ বছর বয়সী সুফিয়া খাতুনকে কুপিয়ে এবং তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি জামিলা আক্তারকে ধর্ষণের পর সরিষার ক্ষেতে ফেলে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় খোদ স্বজনদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ ও গলাকাটা লাশ: সীতাকুণ্ডে ১ মার্চ বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকা থেকে ৭-৮ বছরের এক কন্যাশিশুকে বিবস্ত্র ও গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। তদন্তে জানা গেছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যার উদ্দেশ্যেই গলা কাটা হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলার ভঙ্গুর দশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে পুলিশি পাহারার মধ্যেই সন্ত্রাসীরা মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়েই এই দুঃসাহসিক হামলা চালানো হয়েছে।
সারাদেশে যখন খুনের উৎসব ও ধর্ষণের বীভৎসতা চলছে, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন যে, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ এবং সামাজিক সংগঠনগুলো বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, দৃশ্যমান কোনো উন্নতি তো হয়নি বরং অপরাধীদের দাপট আরও বেড়েছে। একের পর এক নৃশংস ঘটনায় নতুন সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

