দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে আমলাদের সরিয়ে রাজনৈতিক ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। তবে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, সুকৌশলে জেলা পরিষদগুলোকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে তারেক রহমানের নির্দেশে এক বিশাল লুটপাটের নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না। একদিকে জেলা পরিষদে দলীয় দখলদারি, অন্যদিকে সারাদেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ‘মব ভায়োলেন্স’—সব মিলিয়ে দেশে এক ভয়াবহ অরাজকতা তৈরি হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এর ধারা অনুযায়ী এই নতুন প্রশাসকেরা জেলা চেয়ারম্যানের পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করবেন। এতদিন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এই দায়িত্বে থাকলেও এখন তা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও মোটা অঙ্কের বাজেট তছরুপ করতেই কেন্দ্র থেকে এই ‘লুটপাটের প্ল্যান’ সাজানো হয়েছে।
লুটপাট ও চাঁদাবাজির এই মহোৎসবের ভয়ংকর চিত্র দেখা গেছে, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে। গত ৯ মার্চ দুপুরে নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের ওপর দলীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার।
জানা গেছে, কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্প থেকে ১ টন চালের সমপরিমাণ অর্থ চাঁদা হিসেবে দাবি করেছিলেন সোহেল শিকদার। চেয়ারম্যান এই অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করায় সরকারি অফিসের সময়সূচীর দোহাই দিয়ে ‘মব’ তৈরি করে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এই হামলায় ছাত্রদলের রাকিব মোসাব্বির, স্বেচ্ছাসেবক দলের নয়ন খান, যুবদলের জুয়েল ও সোহেল হাওলাদারসহ একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী অংশ নেয়।
সারাদেশে এখন এক অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছে।

