বিএনপির বাংলাদেশ: রাতে গুলি, সকালে তদন্ত, বিকেলে ভুলে যাওয়া

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সোহাগ শেখকে গুলি করে মারা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলে আসা দুজন লোক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে, তারপর চলে গেছে। একজন মানুষ মরে পড়ে আছেন রাস্তায়, আর পুলিশ বলছে “কারণ এখনও জানতে পারিনি।” এই “জানতে পারিনি” কথাটা এখন বাংলাদেশে একটা বহুলশ্রুত চেনা বাক্য হয়ে গেছে। প্রতিটা রাজনৈতিক হত্যার পরেই এটা শোনা যায়। তদন্ত চলে, কিছু বেরোয় না।

সোহাগ শেখ শ্রমিক লীগের নেতা ছিলেন। এটুকু পরিচয়ই যথেষ্ট ছিল তার বেঘোরে প্রাণ হারানোর জন্য।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর যা চলছে, সেটাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বললে হয়তো কম বলা হয়। এটা পরিকল্পিত নিধন। মামলা, গ্রেফতার, গুম আর গুলি, এই চারটা অস্ত্র এখন নির্বিচারে ব্যবহার হচ্ছে তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাদের উপর। যে নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো অনুপস্থিত ছিল, যে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মানুষ যায়নি, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা একটি সরকার এখন গণতন্ত্রের কথা বলছে। এই দৃশ্যটা হাস্যকর হতো, যদি মানুষ না মরত।

বিএনপি দলটার জন্ম সেনানিবাসে, সেটা ইতিহাস। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন ক্ষমতায় থেকে, সামরিক শক্তির ছায়ায়। সেই উত্তরাধিকার এখনও বহন করে চলেছে দলটা, শুধু পোশাক পাল্টে গেছে। গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলা শিখেছে, কিন্তু প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার পদ্ধতি একই রয়ে গেছে, দমন।

যে সরকার এখন ঢাকায় বসে আছে, তারা একটা কাজ ভালো করে জানে। বিরোধীদের এত কোণঠাসা করে ফেলো যাতে তারা আর মাথা তুলতে না পারে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। অনেকে বাড়ি ছেড়েছে, পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামে গ্রামে স্থানীয় নেতাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে, দোকান ভাঙা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো জাতীয় পত্রিকায় বড় শিরোনাম পায় না, কারণ এখন কোন খবর ছাপা হবে আর কোনটা হবে না, সেটাও একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

সোহাগ শেখের মতো মানুষেরা রাজনীতির বড় মাঠের খেলোয়াড় ছিলেন না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের একজন নেতা, ঢেউটিনের দোকান চালাতেন। এই মানুষগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি বিপদে। কারণ তাদের পেছনে কোনো হাই-প্রোফাইল আইনজীবী নেই, মিডিয়া কভারেজ নেই, আন্তর্জাতিক মনোযোগ নেই। তারা মরে যায়, একটা ছোট খবর হয়, তারপর সব চুপ।

এই চুপ থাকাটাই সবচেয়ে ভয়ের।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সোহাগ শেখকে গুলি করে মারা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলে আসা দুজন লোক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে, তারপর চলে গেছে। একজন মানুষ মরে পড়ে আছেন রাস্তায়, আর পুলিশ বলছে “কারণ এখনও জানতে পারিনি।” এই “জানতে পারিনি” কথাটা এখন বাংলাদেশে একটা বহুলশ্রুত চেনা বাক্য হয়ে গেছে। প্রতিটা রাজনৈতিক হত্যার পরেই এটা শোনা যায়। তদন্ত চলে, কিছু বেরোয় না।

সোহাগ শেখ শ্রমিক লীগের নেতা ছিলেন। এটুকু পরিচয়ই যথেষ্ট ছিল তার বেঘোরে প্রাণ হারানোর জন্য।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর যা চলছে, সেটাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বললে হয়তো কম বলা হয়। এটা পরিকল্পিত নিধন। মামলা, গ্রেফতার, গুম আর গুলি, এই চারটা অস্ত্র এখন নির্বিচারে ব্যবহার হচ্ছে তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাদের উপর। যে নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো অনুপস্থিত ছিল, যে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মানুষ যায়নি, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা একটি সরকার এখন গণতন্ত্রের কথা বলছে। এই দৃশ্যটা হাস্যকর হতো, যদি মানুষ না মরত।

বিএনপি দলটার জন্ম সেনানিবাসে, সেটা ইতিহাস। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন ক্ষমতায় থেকে, সামরিক শক্তির ছায়ায়। সেই উত্তরাধিকার এখনও বহন করে চলেছে দলটা, শুধু পোশাক পাল্টে গেছে। গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলা শিখেছে, কিন্তু প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার পদ্ধতি একই রয়ে গেছে, দমন।

যে সরকার এখন ঢাকায় বসে আছে, তারা একটা কাজ ভালো করে জানে। বিরোধীদের এত কোণঠাসা করে ফেলো যাতে তারা আর মাথা তুলতে না পারে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। অনেকে বাড়ি ছেড়েছে, পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামে গ্রামে স্থানীয় নেতাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে, দোকান ভাঙা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো জাতীয় পত্রিকায় বড় শিরোনাম পায় না, কারণ এখন কোন খবর ছাপা হবে আর কোনটা হবে না, সেটাও একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

সোহাগ শেখের মতো মানুষেরা রাজনীতির বড় মাঠের খেলোয়াড় ছিলেন না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের একজন নেতা, ঢেউটিনের দোকান চালাতেন। এই মানুষগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি বিপদে। কারণ তাদের পেছনে কোনো হাই-প্রোফাইল আইনজীবী নেই, মিডিয়া কভারেজ নেই, আন্তর্জাতিক মনোযোগ নেই। তারা মরে যায়, একটা ছোট খবর হয়, তারপর সব চুপ।

এই চুপ থাকাটাই সবচেয়ে ভয়ের।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ