আনিস আলমগীর তিন মাস জেল খেটে বেরিয়ে এলেন। অভিযোগ ছিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, এটা পড়লে আক্কেলগুড়ুম হলেও কিছু বলার নেই কারণ এই একই কায়দায় গত দেড় বছরে শত শত মানুষকে কারাগারে পুরে রাখা হয়েছে।
ড. ইউনূসের সরকার ক্ষমতায় এসেছিল বিদেশী রাষ্ট্রের টাকায়, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ২০২৪ সালে দেশব্যাপী জুলাই দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলে দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার জন্য একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করে। তাদের বৈধতার প্রশ্নটা তোলার আগে যেটা দেখার, সেটা হলো তারা ক্ষমতায় এসে আসলে কী করল তাদের তথাকথিত সংস্কারের নামে। মহামারীর মতো বিচারবহির্ভূত হত্যা আর খোলামকুচির মতো বিভিন্ন সাজানো মামলায় গণ গ্রেফতার!
আনিস আলমগীর জেলে গিয়ে যা দেখেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ভেতরে শুধু একটা দলের কর্মী, যাদের কোনো পদপদবিও নেই। মানে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের নেতা না, একেবারে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী। এদের বিরুদ্ধে কী মামলা? সন্ত্রাস। এই মানুষগুলো কি আদৌ সন্ত্রাসী? নাকি সন্ত্রাসের সংজ্ঞাটাই বদলে গেছে, রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেই এখন সন্ত্রাস?
ইউনূস নিজে নোবেলজয়ী, ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মুখ। কিন্তু তার সরকারের আমলে যে বিচারবহির্ভূত গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনের ব্যবহার, মাসের পর মাস বিনা বিচারে আটক, এগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল যতটা সোচ্চার হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ সহজ, ইউনূস পশ্চিমের কাছে পছন্দের মুখ। তার আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও সেটা নিয়ে জেনেভায় তেমন আলোচনা হয় না।
এখন বিএনপি ক্ষমতায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। আনিস আলমগীরের মুক্তি সেই প্রেক্ষাপটেই হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু বিএনপির নিজের ইতিহাস এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে বেশিক্ষণ পরিষ্কার মুখ রাখতে পারে না। ২০০১ থেকে ২০০৬, সেই সরকারের আমলেও সাংবাদিক নির্যাতন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে ঘায়েল করা, এই সংস্কৃতি চালু ছিল। ফলে ইউনূস গেছেন, বিএনপি এসেছে, এতে যদি কাঠামোটা না বদলায়, তাহলে পরিবর্তনটা শুধু নাম বদলানোতেই থাকবে।
আনিস সাহেব সাংবাদিক মানুষ, তার হয়ে কথা বলার জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজই ছিলো। কিন্তু কাশিমপুরে এখনো যারা আটকে আছেন, তাদের কথা কেউ বলছে না। ইউনূস আমলে যে হাজারো সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ভেতরে পুরে রাখা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের একটা করে পরিবার আছে, বাড়িতে অপেক্ষায় থাকা মানুষ আছে। আনিস আলমগীর বেরিয়ে এলেন, মিডিয়া কভারেজ পেলেন, কারণ তিনি পরিচিত মুখ। নামহীন যে মানুষগুলো এখনো ভেতরে আছেন, তাদের জন্য ক্যামেরা আসে না।

