রাতে শ্মশান দখল, দিনে সম্প্রীতির বুলি: ২০০১ সাল ফেরত এলো, এবার গাইবান্ধা দিয়ে শুরু

গাইবান্ধার জুম্মাপাড়ায় একটা শ্মশান আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে তাদের মৃতদের শেষকৃত্য করেন। রাতের বেলা সেই জমিতে দখলের চেষ্টা হয়েছে, খবর পেয়ে শ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেন গেলে তাকে মেরে তাড়ানো হয়েছে। পরদিন থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কিছু করেনি।

এখন প্রশ্ন হলো, পুলিশ কেন কিছু করেনি? উত্তর খুঁজতে বেশি দূর যেতে হবে না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে সরকার ক্ষমতায় বসেছে, তারা কারা সেটা সবাই জানে। বিএনপি। আর বিএনপির সাথে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সম্পর্কটা নতুন না, এটা দলটার রাজনৈতিক চরিত্রের একটা স্থায়ী অংশ।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরের কয়েক মাসের কথা মনে করুন। বরিশাল, পিরোজপুর, মুন্সিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, খুলনা থেকে শুরু করে দেশের প্রায় প্রতিটা জেলায় হিন্দু বাড়িঘর, মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছিল। নারীরা ধর্ষিত হয়েছিলেন। মানুষ দেশ ছেড়েছিল। তখনো পুলিশ এভাবেই চুপ ছিল, কারণ উপর থেকে সংকেত ছিল চুপ থাকার।

সেই ২০০১ থেকে ২০০৬, পুরো পাঁচ বছর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষের জন্য একটা দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন ছিল। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জমি দখল করতেন, মন্দির ভাঙতেন, ভয় দেখিয়ে মানুষকে দেশ ছাড়া করতেন। আর কেন্দ্রে বসা নেতারা এসব দেখেও না দেখার ভান করতেন। কারণ এই নির্যাতনের একটা রাজনৈতিক ফায়দা ছিল, সংখ্যালঘুরা সংখ্যায় কমে গেলে, ভয়ে থাকলে, দেশ ছেড়ে গেলে ভোটের হিসাবটা বিএনপির পক্ষে যায়।

এখন ২০২৬ সাল। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হয়েছে সেটা নিয়ে কথা না বললেই না। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই নির্বাচনে ছিল না। ভোটার উপস্থিতি কেমন ছিল সেটা সরকারি সংখ্যা আর মাঠের বাস্তবতা মেলালেই বোঝা যায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে বৈধতা দাবি করা হচ্ছে সেটা আসলে কাগুজে। জনগণের ম্যান্ডেট যার নেই, তার কাছে জনগণের নিরাপত্তা চাওয়াটাই হয়তো ভুল প্রশ্ন।

কিন্তু তারপরও প্রশ্ন উঠছে কারণ রাষ্ট্র চলছে, পুলিশ আছে, থানা আছে, প্রশাসন আছে। গাইবান্ধার সদর থানার ওসি একটা অভিযোগ পেয়ে সেটা ফেলে রেখেছেন। এই ফেলে রাখাটা নির্দোষ গাফিলতি না। এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। স্থানীয় মাসুদ রানা এবং তার দলবল যারা রাতের বেলা শ্মশানের জমি দখল করতে গেছে, তারা কোনো না কোনোভাবে স্থানীয় বিএনপির ক্ষমতার ছায়ায় আছে বলেই পুলিশ সাহস পাচ্ছে না নড়তে। এই ছায়া কোথা থেকে আসছে সেটা বুঝতে রকেট সায়েন্স লাগে না।

বিএনপি একটা দল যেটার জন্ম সেনানিবাসে, যার রাজনৈতিক ভিত্তি বারবার সংখ্যালঘুবিরোধী সহিংসতার উপর দাঁড়িয়েছে, যে দলের নেতাকর্মীরা ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যা করেছিল তার জন্য একটা বিচারও হয়নি। বিচার না হলে শিক্ষাও হয় না। শিক্ষা না হলে পুনরাবৃত্তি হয়। গাইবান্ধা সেই পুনরাবৃত্তির সাম্প্রতিক উদাহরণ মাত্র।

যে দলটা ক্ষমতায় এসে নিজেদের জনপ্রতিনিধি বলে দাবি করছে, তাদের কাছে সবচেয়ে সহজ প্রশ্নটা হলো, একটা শ্মশানের জমি রক্ষা করার দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের না? থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও যদি পুলিশ নড়াচড়া না করে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় কার? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি জানে না এই ঘটনার কথা? জানলে চুপ কেন? না জানলে জানার দরকার নেই কেন?

বিএনপির মন্ত্রিসভায় যারা আছেন তারা বড় বড় বক্তৃতা দেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। কিন্তু গাইবান্ধায় একটা অভিযোগ দায়ের করাতে পারছেন না সংখ্যালঘু মানুষ, কারণ থানার ওসি কানে তুলো দিয়ে বসে আছেন। এই বৈপরীত্যটাই বিএনপির আসল পরিচয়।

গাইবান্ধার জুম্মাপাড়ায় একটা শ্মশান আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে তাদের মৃতদের শেষকৃত্য করেন। রাতের বেলা সেই জমিতে দখলের চেষ্টা হয়েছে, খবর পেয়ে শ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেন গেলে তাকে মেরে তাড়ানো হয়েছে। পরদিন থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কিছু করেনি।

এখন প্রশ্ন হলো, পুলিশ কেন কিছু করেনি? উত্তর খুঁজতে বেশি দূর যেতে হবে না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে সরকার ক্ষমতায় বসেছে, তারা কারা সেটা সবাই জানে। বিএনপি। আর বিএনপির সাথে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সম্পর্কটা নতুন না, এটা দলটার রাজনৈতিক চরিত্রের একটা স্থায়ী অংশ।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরের কয়েক মাসের কথা মনে করুন। বরিশাল, পিরোজপুর, মুন্সিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, খুলনা থেকে শুরু করে দেশের প্রায় প্রতিটা জেলায় হিন্দু বাড়িঘর, মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছিল। নারীরা ধর্ষিত হয়েছিলেন। মানুষ দেশ ছেড়েছিল। তখনো পুলিশ এভাবেই চুপ ছিল, কারণ উপর থেকে সংকেত ছিল চুপ থাকার।

সেই ২০০১ থেকে ২০০৬, পুরো পাঁচ বছর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষের জন্য একটা দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন ছিল। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জমি দখল করতেন, মন্দির ভাঙতেন, ভয় দেখিয়ে মানুষকে দেশ ছাড়া করতেন। আর কেন্দ্রে বসা নেতারা এসব দেখেও না দেখার ভান করতেন। কারণ এই নির্যাতনের একটা রাজনৈতিক ফায়দা ছিল, সংখ্যালঘুরা সংখ্যায় কমে গেলে, ভয়ে থাকলে, দেশ ছেড়ে গেলে ভোটের হিসাবটা বিএনপির পক্ষে যায়।

এখন ২০২৬ সাল। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হয়েছে সেটা নিয়ে কথা না বললেই না। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই নির্বাচনে ছিল না। ভোটার উপস্থিতি কেমন ছিল সেটা সরকারি সংখ্যা আর মাঠের বাস্তবতা মেলালেই বোঝা যায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে বৈধতা দাবি করা হচ্ছে সেটা আসলে কাগুজে। জনগণের ম্যান্ডেট যার নেই, তার কাছে জনগণের নিরাপত্তা চাওয়াটাই হয়তো ভুল প্রশ্ন।

কিন্তু তারপরও প্রশ্ন উঠছে কারণ রাষ্ট্র চলছে, পুলিশ আছে, থানা আছে, প্রশাসন আছে। গাইবান্ধার সদর থানার ওসি একটা অভিযোগ পেয়ে সেটা ফেলে রেখেছেন। এই ফেলে রাখাটা নির্দোষ গাফিলতি না। এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। স্থানীয় মাসুদ রানা এবং তার দলবল যারা রাতের বেলা শ্মশানের জমি দখল করতে গেছে, তারা কোনো না কোনোভাবে স্থানীয় বিএনপির ক্ষমতার ছায়ায় আছে বলেই পুলিশ সাহস পাচ্ছে না নড়তে। এই ছায়া কোথা থেকে আসছে সেটা বুঝতে রকেট সায়েন্স লাগে না।

বিএনপি একটা দল যেটার জন্ম সেনানিবাসে, যার রাজনৈতিক ভিত্তি বারবার সংখ্যালঘুবিরোধী সহিংসতার উপর দাঁড়িয়েছে, যে দলের নেতাকর্মীরা ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যা করেছিল তার জন্য একটা বিচারও হয়নি। বিচার না হলে শিক্ষাও হয় না। শিক্ষা না হলে পুনরাবৃত্তি হয়। গাইবান্ধা সেই পুনরাবৃত্তির সাম্প্রতিক উদাহরণ মাত্র।

যে দলটা ক্ষমতায় এসে নিজেদের জনপ্রতিনিধি বলে দাবি করছে, তাদের কাছে সবচেয়ে সহজ প্রশ্নটা হলো, একটা শ্মশানের জমি রক্ষা করার দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের না? থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও যদি পুলিশ নড়াচড়া না করে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় কার? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি জানে না এই ঘটনার কথা? জানলে চুপ কেন? না জানলে জানার দরকার নেই কেন?

বিএনপির মন্ত্রিসভায় যারা আছেন তারা বড় বড় বক্তৃতা দেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। কিন্তু গাইবান্ধায় একটা অভিযোগ দায়ের করাতে পারছেন না সংখ্যালঘু মানুষ, কারণ থানার ওসি কানে তুলো দিয়ে বসে আছেন। এই বৈপরীত্যটাই বিএনপির আসল পরিচয়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ