মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল উত্তজনা যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রূপপুর প্রকল্প এখন দেশের ‘অর্থনীতির ফুসফুস’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, লতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খেলেও বাংলাদেশ এই প্রকল্পের কারণে দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তির পথ দেখছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে রূপপুর থেকে পাওয়া সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ দেশের শিল্প-কারখানা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সচল রাখবে। এই সফলতার কৃতিত্ব ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনার দিকেই নির্দেশ করছে, যা এখন তার কট্টর সমালোচকদেরও ভাবিয়ে তুলছে।
জুলাই দাঙ্গার পরপরই শেখ হাসিনার রূপপুর প্রকল্প নিয়ে প্রোপাগান্ডা শুরু হয়। ওই সময় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি ডলার (প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা) আত্মসাৎ করেছেন শেখ হাসিনা। পরে রাশিয়ার আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে (আরএনপিপি) দুর্নীতি বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধে প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত এক বিবৃতি দিয়েছে ঢাকার রুশ দূতাবাস। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।
মজার বিষয় হলো, একসময় এই প্রকল্পের ব্যয় এবং ঋণ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করলেও বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি সরকার রূপপুর প্রকল্পের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
জুলাই দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে এই প্রকল্প নিয়ে অনেক নেতিবাচক প্রচারণা হলেও, জাতীয় স্বার্থে এর গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারছেন না কেউই। বিএনপির নীতি-নির্ধারকরাও এখন মনে করছেন, দ্রুত এই কেন্দ্র চালু করা গেলে লোডশেডিং থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

