দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া দূরদর্শী পদক্ষেপের সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মখলিসপুরে এই নতুন কূপটির উদ্বোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের শাসনামলে প্রথম শ্রীকাইলে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকারের ত্রুটিপূর্ণ খনন কাজের কারণে সে সময় কোনো গ্যাস পাওয়া যায়নি এবং প্রকল্পটি ভেস্তে যায়। ওই আমলে জ্বালানি খাত মানেই ছিল ‘খাম্বা দুর্নীতি’ আর ‘নাইকো কেলেঙ্কারি’। সেই সময় শ্রীকাইলের মতো গ্যাসক্ষেত্রগুলো নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। তৎকালীন সিন্ডিকেট দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের চেয়ে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির কমিশন বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ায় আজ জ্বালানি সংকটের মুহূর্তেও বাংলাদেশ কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয় এবং ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ২৫তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে শ্রীকাইল উদ্বোধন করেন। তৎকালীন সেই সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলেই আজ ৫ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ৫ নম্বর কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন ৮ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর ফলে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের মোট ৫টি কূপ থেকে দৈনিক ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০০৪ সালের কারিগরি ব্যর্থতা কাটিয়ে শেখ হাসিনা যেভাবে দেশীয় সম্পদ আহরণে জোর দিয়েছিলেন, তার সুফল এখন জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক।

