পাঠ্যবই দুর্নীতি : ইউনুসের সংস্কার, সিন্ডিকেটের উৎসব

‘২৪-এ যখন জুলাই দাঙ্গা হলো, তখন সেটা জায়েজ করতে বলা হয়েছিল দেশ বদলে যাবে। দুর্নীতি শেষ হবে। নতুন বাংলাদেশ হবে। তা সেই নতুন বাংলাদেশে কী হলো? ছোট ছোট বাচ্চাদের পাঠ্যবই ছাপানোর টাকা থেকে ৬৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সিন্ডিকেট করে লুট হয়ে গেল। একটা টাকাও না, ছয়শো কোটির বেশি। বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের টাকা। যে বই রাষ্ট্র গরিব ঘরের বাচ্চাদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা।

এই দেশ সিঙ্গাপুর না হয়েই পারে না, এটা তো বুঝাই যাচ্ছে।

ব্যাপারটা একটু ভালো করে বোঝা দরকার। প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণির ৪০ কোটির বেশি বই ছাপাতে সরকার খরচ করেছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার বেশি। সরকার যে বাজেট নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি দরে টেন্ডার জমা দিয়ে একটা চক্র এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কীভাবে? টেন্ডারের গোপন দর আগে থেকেই ফাঁস করে নিজেদের মধ্যে লট ভাগ করে নিয়েছে। কর্ণফুলী আর্ট প্রেস, প্রমা প্রেস, সরকার প্রিন্টিং, অগ্রণী প্রিন্টিং, আনন্দ প্রিন্টার্সসহ একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠান মিলে ঠিক করে নিয়েছে কে প্রথম, কে দ্বিতীয়, কে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হবে। সরকার প্রিন্টিংয়ের মালিক দুলাল সরকারের অফিসেই এই গোপন বৈঠক হয়েছে।

আর এনসিটিবির যেসব অসাধু কর্মকর্তা তাদের কাছে টেন্ডারের দর বিক্রি করেছেন, তারাও এই লুটের অংশীদার।

মজার বিষয় কী জানেন? জুলাই দাঙ্গা মর আগে, মানে আওয়ামী লীগের আমলে, প্রাথমিকের বই ছাপার টেন্ডারে প্রেসগুলো সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে গড়ে ১০ শতাংশ কমে কাজ নিত। আর ইউনুসের “সংস্কারের” আমলে সেটা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশিতে। এটাই হলো পরিবর্তন। আমরা না কি আগে খারাপ ছিলাম, এখন বেহেশতের যুগে আছি। আলহামদুলিল্লাহ!

এখানে আরেকটা বিষয় আছে যেটা কাউকে বলতে শুনছি না। ইউনুস সরকার আন্তর্জাতিক টেন্ডার বন্ধ রেখেছিল। আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানও বই ছাপার টেন্ডারে অংশ নিতে পারত, যে কারণে দেশীয় প্রেসগুলো প্রতিযোগিতামূলক দরে কাজ নিতে বাধ্য হতো। আন্তর্জাতিক টেন্ডার বন্ধ থাকায় সেই প্রতিযোগিতা আর ছিল না। দেশীয় সিন্ডিকেট পুরো মাঠ পেয়ে গেছে। এটা কি ঘটনাক্রমে হয়েছে, নাকি সুচিন্তিতভাবে?

শুধু বই ছাপা নয়, কাগজের বাজারও এই চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। মিল থেকে আগাম চুক্তি করে কাগজ কিনে গুদামে লুকিয়ে রাখো, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করো, দাম বাড়িয়ে ছোট প্রেসগুলোকে সেই কাগজ কিনতে বাধ্য করো। পাঠ্যবইয়ের মলাটে লাগে ২৩০ জিএসএম আর্টকার্ড, সেটা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। সেই আর্টকার্ডও অবৈধভাবে আমদানি করে গুদামে লুকিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। ট্যাক্স-ভ্যাট না দিয়ে আনা মানে রাষ্ট্রের রাজস্বও মেরে খাওয়া হয়েছে।

তানভীর ৪০০ কোটি খাওয়ার পর খালাস পেয়েছে, এখন ৬৫০ কোটিও খালাস পেয়ে যাবে। জুলাইয়ের বাংলাদেশ! সংস্কার সংস্কার ম্যাজিক ম্যাজিক। এনসিপির লোকেরা ১ কোটি টাকার খেজুরের হিসাব নিয়ে রাত দিন চেঁচাল, আর ইউনুসের সময় হাজার কোটি লুট হলো সেই হিসাব কেউ চাইল না।

আঠারো মাস অলি আউলিয়া পীরদের হাতে দেশ ছিল। যে মানুষটা বিদেশি অর্থ, জঙ্গি সংগঠনের মাঠশক্তি আর সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত সরকার ফেলে দিয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন, তিনি প্রতিটি ভাষণে “সংস্কার” বলে গেছেন। সেই সংস্কারের ফল হলো বাচ্চাদের বইয়ের টাকায় সিন্ডিকেট।

এটা ২০২৬ সালের মার্চে সামনে এসেছে, বিএনপি সরকারের আমলে। ইউনুস তখন আর চেয়ারে নেই। কিন্তু যে টাকাটা গেছে সেটা তো গেছেই। যে বাচ্চাটা নিম্নমানের কাগজে ছাপা বই পেয়েছে বা পায়নি সে তো ফেরত পাচ্ছে না। দায় কে নেবে?

‘২৪-এ যখন জুলাই দাঙ্গা হলো, তখন সেটা জায়েজ করতে বলা হয়েছিল দেশ বদলে যাবে। দুর্নীতি শেষ হবে। নতুন বাংলাদেশ হবে। তা সেই নতুন বাংলাদেশে কী হলো? ছোট ছোট বাচ্চাদের পাঠ্যবই ছাপানোর টাকা থেকে ৬৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সিন্ডিকেট করে লুট হয়ে গেল। একটা টাকাও না, ছয়শো কোটির বেশি। বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের টাকা। যে বই রাষ্ট্র গরিব ঘরের বাচ্চাদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা।

এই দেশ সিঙ্গাপুর না হয়েই পারে না, এটা তো বুঝাই যাচ্ছে।

ব্যাপারটা একটু ভালো করে বোঝা দরকার। প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণির ৪০ কোটির বেশি বই ছাপাতে সরকার খরচ করেছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার বেশি। সরকার যে বাজেট নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি দরে টেন্ডার জমা দিয়ে একটা চক্র এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কীভাবে? টেন্ডারের গোপন দর আগে থেকেই ফাঁস করে নিজেদের মধ্যে লট ভাগ করে নিয়েছে। কর্ণফুলী আর্ট প্রেস, প্রমা প্রেস, সরকার প্রিন্টিং, অগ্রণী প্রিন্টিং, আনন্দ প্রিন্টার্সসহ একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠান মিলে ঠিক করে নিয়েছে কে প্রথম, কে দ্বিতীয়, কে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হবে। সরকার প্রিন্টিংয়ের মালিক দুলাল সরকারের অফিসেই এই গোপন বৈঠক হয়েছে।

আর এনসিটিবির যেসব অসাধু কর্মকর্তা তাদের কাছে টেন্ডারের দর বিক্রি করেছেন, তারাও এই লুটের অংশীদার।

মজার বিষয় কী জানেন? জুলাই দাঙ্গা মর আগে, মানে আওয়ামী লীগের আমলে, প্রাথমিকের বই ছাপার টেন্ডারে প্রেসগুলো সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে গড়ে ১০ শতাংশ কমে কাজ নিত। আর ইউনুসের “সংস্কারের” আমলে সেটা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশিতে। এটাই হলো পরিবর্তন। আমরা না কি আগে খারাপ ছিলাম, এখন বেহেশতের যুগে আছি। আলহামদুলিল্লাহ!

এখানে আরেকটা বিষয় আছে যেটা কাউকে বলতে শুনছি না। ইউনুস সরকার আন্তর্জাতিক টেন্ডার বন্ধ রেখেছিল। আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানও বই ছাপার টেন্ডারে অংশ নিতে পারত, যে কারণে দেশীয় প্রেসগুলো প্রতিযোগিতামূলক দরে কাজ নিতে বাধ্য হতো। আন্তর্জাতিক টেন্ডার বন্ধ থাকায় সেই প্রতিযোগিতা আর ছিল না। দেশীয় সিন্ডিকেট পুরো মাঠ পেয়ে গেছে। এটা কি ঘটনাক্রমে হয়েছে, নাকি সুচিন্তিতভাবে?

শুধু বই ছাপা নয়, কাগজের বাজারও এই চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। মিল থেকে আগাম চুক্তি করে কাগজ কিনে গুদামে লুকিয়ে রাখো, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করো, দাম বাড়িয়ে ছোট প্রেসগুলোকে সেই কাগজ কিনতে বাধ্য করো। পাঠ্যবইয়ের মলাটে লাগে ২৩০ জিএসএম আর্টকার্ড, সেটা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। সেই আর্টকার্ডও অবৈধভাবে আমদানি করে গুদামে লুকিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। ট্যাক্স-ভ্যাট না দিয়ে আনা মানে রাষ্ট্রের রাজস্বও মেরে খাওয়া হয়েছে।

তানভীর ৪০০ কোটি খাওয়ার পর খালাস পেয়েছে, এখন ৬৫০ কোটিও খালাস পেয়ে যাবে। জুলাইয়ের বাংলাদেশ! সংস্কার সংস্কার ম্যাজিক ম্যাজিক। এনসিপির লোকেরা ১ কোটি টাকার খেজুরের হিসাব নিয়ে রাত দিন চেঁচাল, আর ইউনুসের সময় হাজার কোটি লুট হলো সেই হিসাব কেউ চাইল না।

আঠারো মাস অলি আউলিয়া পীরদের হাতে দেশ ছিল। যে মানুষটা বিদেশি অর্থ, জঙ্গি সংগঠনের মাঠশক্তি আর সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত সরকার ফেলে দিয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন, তিনি প্রতিটি ভাষণে “সংস্কার” বলে গেছেন। সেই সংস্কারের ফল হলো বাচ্চাদের বইয়ের টাকায় সিন্ডিকেট।

এটা ২০২৬ সালের মার্চে সামনে এসেছে, বিএনপি সরকারের আমলে। ইউনুস তখন আর চেয়ারে নেই। কিন্তু যে টাকাটা গেছে সেটা তো গেছেই। যে বাচ্চাটা নিম্নমানের কাগজে ছাপা বই পেয়েছে বা পায়নি সে তো ফেরত পাচ্ছে না। দায় কে নেবে?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ