ভারতের শিলিগুড়ি অঞ্চলের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত জ্বালানি তেল পাইপলাইন এখন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান সময়ে পাইপলাইন চালুর ফলে ভারত থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে, যা পরিবহন খরচ কমানো, সময় সাশ্রয় এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করছে। আগে যেখানে জ্বালানি পরিবহনের জন্য ট্রেন ও ট্যাংকারের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল পৌঁছে যাচ্ছে পার্বতীপুর ডিপোতে।
তবে এই প্রকল্প যখন গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সে সময় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নাকি ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এমনকি “দেশ বিক্রি” করার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পটির বাস্তব সুফল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানি পরিবহনে খরচ কমেছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি এসেছে এবং উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও সহজ হয়েছে।
সীমান্তবর্তী অবকাঠামো সহযোগিতা এবং জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এই পাইপলাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে তার প্রকৃত মূল্যায়ন সময়ই করে দেয়।
ফলে একসময় যে প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল, আজ সেই প্রকল্পই দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

