৭ মার্চ: তর্জনীর ইশারায় একটি জাতির জন্ম

সেদিন ফাল্গুনের তপ্ত বিকেলে বাঙালির গন্তব্য ছিল একটাই—রেসকোর্স। হাতে লাঠি, চোখে মুক্তির স্বপ্ন আর অন্তরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ বিশ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছিল লাখো মানুষ। সবার মনে একটাই প্রশ্ন: “এখন আমরা কী করব?” পাকিস্তান সরকার তখন আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে চলছে বাঙালি নিধনের নীল নকশা।

বঙ্গবন্ধু যখন মঞ্চে উঠলেন, চারদিকে মুহুর্মুহু স্লোগান। কিন্তু তিনি যখন বলতে শুরু করলেন, চারপাশ যেন নিথর হয়ে গেল। মাত্র ১৯ মিনিটের (প্রায় ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ড) সেই অলিখিত বক্তৃতায় তিনি তুলে ধরলেন ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস। তার কণ্ঠস্বর ছিল না কোনো সাধারণ নেতার ভাষণ, তা ছিল সাত কোটি মানুষের আর্তনাদ আর সংকল্পের প্রতিধ্বনি।

তিনি বললেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।”

এই একটি বাক্যেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার বীজ। তিনি জানতেন, সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যা দিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবে পাকিস্তানি জান্তারা। তাই তিনি কৌশলী হয়েও ছিলেন আপসহীন।

বঙ্গবন্ধু সেদিন শুধু ভাষণ দেননি, তিনি দিয়েছিলেন একটি গেরিলা যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। তার সেই অকাট্য নির্দেশগুলো আজও শিহরণ জাগায়। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু—আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ আজ আর কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্বের অমূল্য সম্পদ। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কোনো লিখিত পাণ্ডুলিপি ছাড়া এমন রাজনৈতিক মহাকাব্য পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

ভাষণের শেষ বাক্যটি ছিল বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ রণধ্বনি। তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম! এই একটি ঘোষণার পর বাঙালির পিছু হটার আর কোনো পথ ছিল না। ৭ মার্চের সেই ভাষণই মূলত একটি মানচিত্রের জন্ম দিয়েছিল।

সেদিন ফাল্গুনের তপ্ত বিকেলে বাঙালির গন্তব্য ছিল একটাই—রেসকোর্স। হাতে লাঠি, চোখে মুক্তির স্বপ্ন আর অন্তরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ বিশ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছিল লাখো মানুষ। সবার মনে একটাই প্রশ্ন: “এখন আমরা কী করব?” পাকিস্তান সরকার তখন আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে চলছে বাঙালি নিধনের নীল নকশা।

বঙ্গবন্ধু যখন মঞ্চে উঠলেন, চারদিকে মুহুর্মুহু স্লোগান। কিন্তু তিনি যখন বলতে শুরু করলেন, চারপাশ যেন নিথর হয়ে গেল। মাত্র ১৯ মিনিটের (প্রায় ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ড) সেই অলিখিত বক্তৃতায় তিনি তুলে ধরলেন ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস। তার কণ্ঠস্বর ছিল না কোনো সাধারণ নেতার ভাষণ, তা ছিল সাত কোটি মানুষের আর্তনাদ আর সংকল্পের প্রতিধ্বনি।

তিনি বললেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।”

এই একটি বাক্যেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার বীজ। তিনি জানতেন, সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যা দিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবে পাকিস্তানি জান্তারা। তাই তিনি কৌশলী হয়েও ছিলেন আপসহীন।

বঙ্গবন্ধু সেদিন শুধু ভাষণ দেননি, তিনি দিয়েছিলেন একটি গেরিলা যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। তার সেই অকাট্য নির্দেশগুলো আজও শিহরণ জাগায়। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু—আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ আজ আর কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্বের অমূল্য সম্পদ। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কোনো লিখিত পাণ্ডুলিপি ছাড়া এমন রাজনৈতিক মহাকাব্য পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

ভাষণের শেষ বাক্যটি ছিল বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ রণধ্বনি। তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম! এই একটি ঘোষণার পর বাঙালির পিছু হটার আর কোনো পথ ছিল না। ৭ মার্চের সেই ভাষণই মূলত একটি মানচিত্রের জন্ম দিয়েছিল।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ