পিচঢালা ধূসর মহাসড়কের বুক চিরে এখন যেন বইছে রূপকথার বসন্ত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে চোখ মেললেই দেখা যাচ্ছে রক্তরাঙা পলাশ আর শুভ্র-গোলাপি জাপানি ‘ক্যাসিয়া রেনিজেরা’র মেলা। দেশি-বিদেশি ফুলের এই অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে মহাসড়কটি এখন আর কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং বিনোদনের এক রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে।
পরিকল্পনায় নান্দনিকতা ও নিরাপত্তা
জানা গেছে, ৭-৮ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সময় এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মূলত রাতের বেলা বিপরীতমুখী যানবাহনের হেডলাইটের তীব্র আলো সরাসরি চালকের চোখে পড়া রোধ করতে এবং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভাজকের (ডিভাইডার) ওপর রোপণ করা হয় কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি ফুলগাছ।
গাজীপুরের বুকে জাপানি চেরির আবহ
মহাসড়কের হোতাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। সেখানে ফুটেছে জাপানি চেরি গোত্রের ফুল ক্যাসিয়া রেনিজেরা। হালকা সাদা আর গোলাপির আভা ছড়ানো এই ফুলগুলো পুরো এলাকাকে এমন এক রূপ দিয়েছে, যা দেখে মনে হয় জাপানের কোনো চেরি ব্লসমের বাগান।
স্থানীয় পথচারী রুহুল আমিনের ভাষায়, ক্যাসিয়া রেনিজেরা মূলত জাপানি চেরি গোত্রের। শীতের শেষে পাতা ঝরে গিয়ে যখন এই তুলোর মতো ফুলগুলো ফোটে, তখন আস্ত একটি গাছকে আস্ত একটি ফুলের তোড়া মনে হয়। এটি আমাদের এলাকার দৃশ্যই বদলে দিয়েছে।
সড়কের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে তুলছেন সেলফি, কেউ করছেন ভিডিও। বাসের জানালা দিয়ে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকছেন ঘরমুখী মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল গাজীপুরের এই ‘চেরি ব্লসম’।
সড়ক বিভাজকে বর্তমানে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের ফুল। বিদেশি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ক্যাসিয়া রেনিজেরা (সাদা, হালকা ও গাঢ় গোলাপি)। দেশি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে পলাশ, সোনালু, কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, বকুল ও জারুল। অন্যান্য ফুলের ম ধ্যে রয়েছে বাগানবিলাস, জবা, টগর ও হৈমন্তী।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তারিক হোসেন জানান, মহাসড়কের পরিবেশ উন্নত করতে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ পথের ক্লান্তি দূর করে মন প্রফুল্ল রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “বর্তমানে এই গাছগুলো পূর্ণতা পাওয়ায় এর সুফল দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সড়কের সৌন্দর্য আরও বাড়াতে আমাদের আরও নানা প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

