বাংলাদেশে মশা এখনও আছে আগের মতোই, শুধু মাঝখান থেকে এদেশের শাসক বদলেছে

মশার গল্প দিয়েই শুরু হোক না হয় আজকে। ঢাকার নর্দমায় এখনও একই গুনগুন, একই কামড়, একই চুলকানি। ফগার মেশিন এখনও চলে না ঠিকমতো, ওষুধ ছিটানো এখনও ক্যামেরার সামনে সীমাবদ্ধ। যা বদলেছে সেটা হলো বিবৃতিদাতার নাম আর মুখের ছবি। বাকি সব আগের মতোই।

ইউনুস সরকার ক্ষমতায় ছিল দেড় বছরের মতো। সেই সময়টা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু এখন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বিএনপি ক্ষমতায়, আর ঢাকার মশার উপদ্রব একটুকুও কমেনি। এটা কাকতালীয় নয়, এটা নীতির ধারাবাহিকতা।

বিএনপির ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে রাজনীতির জন্ম দিয়েছিলেন, গণতন্ত্রের খোলসে সামরিক সংস্কৃতি ঢুকিয়েছিলেন দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সেই দলটি পরের চার দশকে বাংলাদেশকে কী দিয়েছে? হাওয়া ভবন দিয়েছে, গ্রেনেড হামলা দিয়েছে, বিশ মিলিয়ন মানুষের ভোট চুরির রাজনীতি দিয়েছে। দুর্নীতিতে পর পর পাঁচবার বিশ্বে প্রথম হওয়ার লজ্জা দিয়েছে। এই দলটি আজ আবার ক্ষমতার কাছাকাছি, আর তাদের প্রথম কাজ হলো পুরনো ভাষায় নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া।

নর্দমা পরিষ্কার হয়নি। টেন্ডার হয়েছে কি না জানি না, বিল পাশ হয়েছে কি না জানি না, কিন্তু মশা যে এখনও সন্ধ্যার পর যুদ্ধে নামে, সেটা ঠিকই জানি। সিটি করপোরেশন এখনও অকার্যকর। এখনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। এখনও প্রশাসক দিয়ে চলছে, সেই একই আমলাতান্ত্রিক জড়তা নিয়ে।

বিএনপি বলবে, সবে তো এলাম। ইউনুসরা এত বড় গর্ত খুঁড়ে রেখে গেছে যে ভরাট করতে সময় লাগবে। এই যুক্তিটা পরিচিত, এই যুক্তিটা পুরনো। প্রতিটি সরকার আসার পর আগের সরকারের ব্যর্থতার বস্তা কাঁধে নিয়ে ঘোরে প্রথম দুই বছর, তারপর নিজেদের ব্যর্থতার জন্য তৃতীয় পক্ষ খোঁজে পরের তিন বছর। মাঝখান থেকে নাগরিক হিসেবে আমরা কেবল কামড় খাই।

কিন্তু প্রশ্নটা মশার চেয়েও বড়। ঢাকার মশার সমস্যা আসলে শাসনের সমস্যা, দায়বদ্ধতার সমস্যা। যে দল ক্ষমতায় আসার আগে রাস্তায় পেট্রোলবোমা মারার রাজনীতি করেছে, মানুষ পুড়িয়েছে, হরতাল-অবরোধে দেশকে স্থবির করেছে, সেই দলের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনমান কতটা গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরটা অনুমান করে নেওয়া কঠিন নয়।

ইউনুস আমলে যা হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক হোক, তদন্ত হোক, জবাবদিহিতা হোক। কিন্তু সেই পরিবর্তনের নামে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেই শূন্যতায় বিএনপির প্রবেশ যদি পুরনো রোগের নতুন সংস্করণ হয়, তাহলে মানুষের লাভ কী? চরিত্র বদলায়নি, শুধু মঞ্চের আলো বদলেছে।

আর সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো, মশার মতো ছোট একটা সমস্যা, যেটা কার্যকর পরিকল্পনা আর সামান্য সদিচ্ছায় অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব, সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নর্দমার পানি পরিষ্কার করতে যদি নির্বাচনী ইশতেহারের দরকার হয়, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটা মশার না, সমস্যাটা আমাদের শাসনব্যবস্থার একেবারে গোড়ায়।

ইউনুস গেছে একটা গভীর ক্ষত রেখে। বিএনপি এসেছে পুরনো ক্ষতের উত্তরাধিকার বুকে নিয়ে। দুটো মিলিয়ে যা তৈরি হচ্ছে, সেটার ভার বহন করতে হচ্ছে সেই একই মানুষকে যার গায়ে মশার কামড়ের দাগ, পকেটে ওষুধের দাম আর চোখে ঘুমের ঘাটতি।

মশার গল্প দিয়েই শুরু হোক না হয় আজকে। ঢাকার নর্দমায় এখনও একই গুনগুন, একই কামড়, একই চুলকানি। ফগার মেশিন এখনও চলে না ঠিকমতো, ওষুধ ছিটানো এখনও ক্যামেরার সামনে সীমাবদ্ধ। যা বদলেছে সেটা হলো বিবৃতিদাতার নাম আর মুখের ছবি। বাকি সব আগের মতোই।

ইউনুস সরকার ক্ষমতায় ছিল দেড় বছরের মতো। সেই সময়টা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু এখন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বিএনপি ক্ষমতায়, আর ঢাকার মশার উপদ্রব একটুকুও কমেনি। এটা কাকতালীয় নয়, এটা নীতির ধারাবাহিকতা।

বিএনপির ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে রাজনীতির জন্ম দিয়েছিলেন, গণতন্ত্রের খোলসে সামরিক সংস্কৃতি ঢুকিয়েছিলেন দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সেই দলটি পরের চার দশকে বাংলাদেশকে কী দিয়েছে? হাওয়া ভবন দিয়েছে, গ্রেনেড হামলা দিয়েছে, বিশ মিলিয়ন মানুষের ভোট চুরির রাজনীতি দিয়েছে। দুর্নীতিতে পর পর পাঁচবার বিশ্বে প্রথম হওয়ার লজ্জা দিয়েছে। এই দলটি আজ আবার ক্ষমতার কাছাকাছি, আর তাদের প্রথম কাজ হলো পুরনো ভাষায় নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া।

নর্দমা পরিষ্কার হয়নি। টেন্ডার হয়েছে কি না জানি না, বিল পাশ হয়েছে কি না জানি না, কিন্তু মশা যে এখনও সন্ধ্যার পর যুদ্ধে নামে, সেটা ঠিকই জানি। সিটি করপোরেশন এখনও অকার্যকর। এখনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। এখনও প্রশাসক দিয়ে চলছে, সেই একই আমলাতান্ত্রিক জড়তা নিয়ে।

বিএনপি বলবে, সবে তো এলাম। ইউনুসরা এত বড় গর্ত খুঁড়ে রেখে গেছে যে ভরাট করতে সময় লাগবে। এই যুক্তিটা পরিচিত, এই যুক্তিটা পুরনো। প্রতিটি সরকার আসার পর আগের সরকারের ব্যর্থতার বস্তা কাঁধে নিয়ে ঘোরে প্রথম দুই বছর, তারপর নিজেদের ব্যর্থতার জন্য তৃতীয় পক্ষ খোঁজে পরের তিন বছর। মাঝখান থেকে নাগরিক হিসেবে আমরা কেবল কামড় খাই।

কিন্তু প্রশ্নটা মশার চেয়েও বড়। ঢাকার মশার সমস্যা আসলে শাসনের সমস্যা, দায়বদ্ধতার সমস্যা। যে দল ক্ষমতায় আসার আগে রাস্তায় পেট্রোলবোমা মারার রাজনীতি করেছে, মানুষ পুড়িয়েছে, হরতাল-অবরোধে দেশকে স্থবির করেছে, সেই দলের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনমান কতটা গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরটা অনুমান করে নেওয়া কঠিন নয়।

ইউনুস আমলে যা হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক হোক, তদন্ত হোক, জবাবদিহিতা হোক। কিন্তু সেই পরিবর্তনের নামে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেই শূন্যতায় বিএনপির প্রবেশ যদি পুরনো রোগের নতুন সংস্করণ হয়, তাহলে মানুষের লাভ কী? চরিত্র বদলায়নি, শুধু মঞ্চের আলো বদলেছে।

আর সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো, মশার মতো ছোট একটা সমস্যা, যেটা কার্যকর পরিকল্পনা আর সামান্য সদিচ্ছায় অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব, সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নর্দমার পানি পরিষ্কার করতে যদি নির্বাচনী ইশতেহারের দরকার হয়, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটা মশার না, সমস্যাটা আমাদের শাসনব্যবস্থার একেবারে গোড়ায়।

ইউনুস গেছে একটা গভীর ক্ষত রেখে। বিএনপি এসেছে পুরনো ক্ষতের উত্তরাধিকার বুকে নিয়ে। দুটো মিলিয়ে যা তৈরি হচ্ছে, সেটার ভার বহন করতে হচ্ছে সেই একই মানুষকে যার গায়ে মশার কামড়ের দাগ, পকেটে ওষুধের দাম আর চোখে ঘুমের ঘাটতি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ