উমামার মাইক, পাটোয়ারীর স্বপ্ন, আর একটা দেশ যেটা আবারো বিক্রি হতে বসেছে

১২ ফেব্রুয়ারি এই দেশে একটা নির্বাচন হয়ে গেছে। নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, মানে জনগণ ভোট দিবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, ফলাফল বের হবে, সেই অর্থে এটা নির্বাচন ছিলো কিনা সেই প্রশ্নটা করাটাই এখন দরকার। যে দলগুলো এই দেশের রাজনীতির মূল স্রোত, তাদের বাইরে রেখে যা হলো সেটাকে যদি গণতন্ত্র বলা হয়, তাহলে গণতন্ত্র শব্দটার মানে নতুন করে অভিধানে লিখতে হবে।

বিএনপির জন্মের ইতিহাসটা এই দেশের মানুষ ভুলে যায় কীভাবে সেটাই আশ্চর্যের। সেনানিবাসে বসে একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করা হয়েছিলো, কারণ ক্ষমতায় থাকার জন্য একটা বেসামরিক মুখোশ দরকার ছিলো। সেই দলটা এখন গণতন্ত্রের কথা বলছে। জিয়াউর রহমান যে পথে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই পথে গণতন্ত্রের গন্ধ ছিলো না, ছিলো বন্দুকের গন্ধ। সেই বন্দুকের উত্তরাধিকার বহন করে এখন যারা ম্যান্ডেটের কথা বলছে, তাদের লজ্জা না লাগলেও বাকি মানুষের অন্তত লজ্জা লাগা উচিত।

আর জামায়াত। এই সংগঠনটার নাম নিলেই একটা কথা মাথায় আসে, একাত্তর। এই দলটার নেতাদের ফাঁসি হয়েছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে, বাংলাদেশের আদালতে, বাংলাদেশের বিচারে। সেই দলটা এখন এই দেশের ক্ষমতার অংশীদার। এটা শুধু রাজনৈতিক সমস্যা না, এটা নৈতিক দেউলিয়াত্বের চূড়ান্ত প্রকাশ। যে দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ এখনো বেঁচে আছে, সেই দেশে গণহত্যার সহযোগীদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে থাকবে, এই দৃশ্যটা স্বাভাবিক না, এটা কখনো স্বাভাবিক হওয়ার কথাও না।

এখন আসা যাক উমামার প্রসঙ্গে। বাম ছাত্র ফেডারেশন থেকে উঠে আসা একটা মেয়ে এখন জামাত-শিবিরের রাজনৈতিক এজেন্ডার মুখপাত্র হয়ে সংবাদ সম্মেলন করছে। এই রূপান্তরটাকে আদর্শচ্যুতি বলা যায়, কিন্তু আসলে এটা আদর্শচ্যুতিও না, কারণ আদর্শ থাকলে তো চ্যুত হওয়ার প্রশ্ন আসে। এটা হলো সুবিধাবাদের একটা পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ। মাহমুদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করে আসছেন, যারা বাইরে থেকে দেখতে স্বাধীন কিন্তু ভেতরে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রকল্পের হাতিয়ার। আজকে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবিটা হঠাৎ করে মাথায় আসা কোনো বক্তব্য না। এটা একটা সিরিজের পরবর্তী পর্ব।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মুখ থেকে বিপ্লবী সরকারের কথা বেরিয়ে এসেছে। এটাকে মুখ ফসকানো বলতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু পাটোয়ারী এমন মানুষ না যার মুখ এমনি এমনি ফসকায়। তিনি এখন মসজিদে যাচ্ছেন, মাদ্রাসায় যাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। তরুণদের সাথে কথা বলছেন। এই সফরগুলো নিষ্পাপ রাজনৈতিক যোগাযোগ না, এটা একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে মাঠ তৈরির কাজ। ঈদের পরে কিছু একটা হবে কিনা এখনই বলা না গেলেও, এই গতিবিধিগুলো দেখে বলা যায় যে পরিকল্পনাটা কাগজে আছে এবং সেটা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি সরাও, তারপর সামরিক নেতৃত্বে হাত দাও, তারপর বিএনপিকে ভেতর থেকে ভেঙে দাও, তারপর বিপ্লবী সরকার গঠন করো। এই ধাপগুলো যদি কেউ মাথায় রেখে কাজ করে, তাহলে উমামার আজকের সংবাদ সম্মেলনটা সেই পথের প্রথম পেরেকটা ঠোকার চেষ্টা। খুঁটির জোর না থাকলে রাষ্ট্রপতিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া যায় না। এই জোরটা কোথা থেকে আসছে, কার আশ্বাসে এত সাহস, সেটা খোঁজা দরকার।

এখন একটা কথা বলা দরকার, যেটা অনেকে শুনতে চায় না কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই, অন্তত যারা এই দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড় করাতে চায় তাদের জন্য। এটা অন্ধ দলীয় আনুগত্য থেকে বলছি না। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করার অনেক কারণ আছে, ছিলোও। কিন্তু এই দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের দল ক্ষমতায় বসে, সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া দল গণতন্ত্রের ভাষণ দেয়, আর ধর্মের নামে রাজনীতি করা সংগঠনগুলো বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে, তখন বিকল্পের হিসাবটা আর জটিল থাকে না। যে দলটা এই দেশের স্বাধীনতার সাথে নাড়ির সম্পর্কে জড়িয়ে আছে, যে দলটার হাত ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছিলো, সেই দলটাকে ছাড়া এই মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির কথা ভাবাটাই কঠিন।

এই দেশটা বারবার একই চক্রে পড়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলো তারা ফিরে এসেছে, যারা ক্ষমতার জন্য লাশের উপর দিয়ে হেঁটেছে তারা আবার হাঁটছে। আর প্রতিবারই এই দেশের একটা অংশ ভেবেছে এবার হয়তো অন্যরকম হবে। হয়নি। এবারও হচ্ছে না। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে এবার যারা খেলছে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পনা করে মাঠে নেমেছে। আর সময়টা তাদের পক্ষেই যাচ্ছে, যতদিন বাকি মানুষ ঘুমিয়ে থাকবে।

১২ ফেব্রুয়ারি এই দেশে একটা নির্বাচন হয়ে গেছে। নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, মানে জনগণ ভোট দিবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, ফলাফল বের হবে, সেই অর্থে এটা নির্বাচন ছিলো কিনা সেই প্রশ্নটা করাটাই এখন দরকার। যে দলগুলো এই দেশের রাজনীতির মূল স্রোত, তাদের বাইরে রেখে যা হলো সেটাকে যদি গণতন্ত্র বলা হয়, তাহলে গণতন্ত্র শব্দটার মানে নতুন করে অভিধানে লিখতে হবে।

বিএনপির জন্মের ইতিহাসটা এই দেশের মানুষ ভুলে যায় কীভাবে সেটাই আশ্চর্যের। সেনানিবাসে বসে একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করা হয়েছিলো, কারণ ক্ষমতায় থাকার জন্য একটা বেসামরিক মুখোশ দরকার ছিলো। সেই দলটা এখন গণতন্ত্রের কথা বলছে। জিয়াউর রহমান যে পথে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই পথে গণতন্ত্রের গন্ধ ছিলো না, ছিলো বন্দুকের গন্ধ। সেই বন্দুকের উত্তরাধিকার বহন করে এখন যারা ম্যান্ডেটের কথা বলছে, তাদের লজ্জা না লাগলেও বাকি মানুষের অন্তত লজ্জা লাগা উচিত।

আর জামায়াত। এই সংগঠনটার নাম নিলেই একটা কথা মাথায় আসে, একাত্তর। এই দলটার নেতাদের ফাঁসি হয়েছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে, বাংলাদেশের আদালতে, বাংলাদেশের বিচারে। সেই দলটা এখন এই দেশের ক্ষমতার অংশীদার। এটা শুধু রাজনৈতিক সমস্যা না, এটা নৈতিক দেউলিয়াত্বের চূড়ান্ত প্রকাশ। যে দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ এখনো বেঁচে আছে, সেই দেশে গণহত্যার সহযোগীদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে থাকবে, এই দৃশ্যটা স্বাভাবিক না, এটা কখনো স্বাভাবিক হওয়ার কথাও না।

এখন আসা যাক উমামার প্রসঙ্গে। বাম ছাত্র ফেডারেশন থেকে উঠে আসা একটা মেয়ে এখন জামাত-শিবিরের রাজনৈতিক এজেন্ডার মুখপাত্র হয়ে সংবাদ সম্মেলন করছে। এই রূপান্তরটাকে আদর্শচ্যুতি বলা যায়, কিন্তু আসলে এটা আদর্শচ্যুতিও না, কারণ আদর্শ থাকলে তো চ্যুত হওয়ার প্রশ্ন আসে। এটা হলো সুবিধাবাদের একটা পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ। মাহমুদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করে আসছেন, যারা বাইরে থেকে দেখতে স্বাধীন কিন্তু ভেতরে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রকল্পের হাতিয়ার। আজকে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবিটা হঠাৎ করে মাথায় আসা কোনো বক্তব্য না। এটা একটা সিরিজের পরবর্তী পর্ব।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মুখ থেকে বিপ্লবী সরকারের কথা বেরিয়ে এসেছে। এটাকে মুখ ফসকানো বলতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু পাটোয়ারী এমন মানুষ না যার মুখ এমনি এমনি ফসকায়। তিনি এখন মসজিদে যাচ্ছেন, মাদ্রাসায় যাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। তরুণদের সাথে কথা বলছেন। এই সফরগুলো নিষ্পাপ রাজনৈতিক যোগাযোগ না, এটা একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে মাঠ তৈরির কাজ। ঈদের পরে কিছু একটা হবে কিনা এখনই বলা না গেলেও, এই গতিবিধিগুলো দেখে বলা যায় যে পরিকল্পনাটা কাগজে আছে এবং সেটা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি সরাও, তারপর সামরিক নেতৃত্বে হাত দাও, তারপর বিএনপিকে ভেতর থেকে ভেঙে দাও, তারপর বিপ্লবী সরকার গঠন করো। এই ধাপগুলো যদি কেউ মাথায় রেখে কাজ করে, তাহলে উমামার আজকের সংবাদ সম্মেলনটা সেই পথের প্রথম পেরেকটা ঠোকার চেষ্টা। খুঁটির জোর না থাকলে রাষ্ট্রপতিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া যায় না। এই জোরটা কোথা থেকে আসছে, কার আশ্বাসে এত সাহস, সেটা খোঁজা দরকার।

এখন একটা কথা বলা দরকার, যেটা অনেকে শুনতে চায় না কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই, অন্তত যারা এই দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড় করাতে চায় তাদের জন্য। এটা অন্ধ দলীয় আনুগত্য থেকে বলছি না। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করার অনেক কারণ আছে, ছিলোও। কিন্তু এই দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের দল ক্ষমতায় বসে, সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া দল গণতন্ত্রের ভাষণ দেয়, আর ধর্মের নামে রাজনীতি করা সংগঠনগুলো বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে, তখন বিকল্পের হিসাবটা আর জটিল থাকে না। যে দলটা এই দেশের স্বাধীনতার সাথে নাড়ির সম্পর্কে জড়িয়ে আছে, যে দলটার হাত ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছিলো, সেই দলটাকে ছাড়া এই মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির কথা ভাবাটাই কঠিন।

এই দেশটা বারবার একই চক্রে পড়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলো তারা ফিরে এসেছে, যারা ক্ষমতার জন্য লাশের উপর দিয়ে হেঁটেছে তারা আবার হাঁটছে। আর প্রতিবারই এই দেশের একটা অংশ ভেবেছে এবার হয়তো অন্যরকম হবে। হয়নি। এবারও হচ্ছে না। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে এবার যারা খেলছে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পনা করে মাঠে নেমেছে। আর সময়টা তাদের পক্ষেই যাচ্ছে, যতদিন বাকি মানুষ ঘুমিয়ে থাকবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ