সহিংসতার শিকার সংখ্যার লড়াই নয়, প্রমাণভিত্তিক সত্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী

রাজনীতির উত্তপ্ত সময়ে সংখ্যাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সংখ্যার জোরে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই টিকে থাকে। তাই সহিংসতার শিকার কতজন এই প্রশ্নে আবেগ নয়, প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। ২০২৪ জুন জুলাই সহিংসতায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় পর্যন্ত দেশীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২১০ জন বলে উঠে আসে।

এই সংখ্যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রচারিত হয়েছিল। প্রশ্ন হলো সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে শেখ হাসিনার আমলে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কেন বাতিল করা হয়েছিল? যদি সত্য উদ্ঘাটনই লক্ষ্য হয়, তবে একটি বিচার বিভাগীয় কাঠামো ভেঙে দেওয়া কেন প্রয়োজন হলো এই প্রশ্ন জনমনে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনুস সরকারের সময়কার প্রশাসন “দুই হাজার শহীদ”-এর বয়ান প্রচার করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বর্ণনা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।

কিন্তু কোনো সংখ্যা উচ্চারণ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। যে দাবি করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, যাচাইযোগ্য পরিচয় এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা প্রয়োজন। ইতিহাস আবেগ দিয়ে নয়, দলিল দিয়ে রচিত হয়।

সরকারি গেজেটে জুলাই আন্দোলনের শহীদের সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে ৮৩৪ জন। বিতর্ক এড়িয়ে ধরা হলে এই সংখ্যাই সরকারিভাবে স্বীকৃত। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই তালিকার ৫২ জনকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে সংশোধিত সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৮২ জন।

৫ আগস্ট দুপুরের আগেই শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ছিল ৭৮২ জন (৫২ জন বাদ দিয়ে)। এর মধ্যে ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন সরকার পতনের আগে—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। যেহেতু ওই সময় সরকার ক্ষমতায় ছিল, তাই সেই সময়ের মৃত্যুগুলোর দায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর বর্তায়ৎএমন যুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর OHCHR জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৪০০-এর বেশি বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু এই সংখ্যা কীভাবে নির্ধারিত হলো, তদন্ত পদ্ধতি কী ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

OHCHR এর রিপোর্ট অনুযায়ী ৫আগস্ট পর্যন্ত সংখ্যা ৭৮২ ধরা হয়, তবে ৬ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬১৮। এই ৬১৮ জন কারা? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? তারা কোন পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে যদি ৬১৮ জন একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মী নিহত হয়ে থাকেন এমন দাবি করা হয় তাহলে তা নিছক বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয় বরং তা একটি বৃহৎ সংগঠিত সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে।

আবার যদি সংখ্যাটি অতিরঞ্জিত হয়, তবে সেটিও সমানভাবে গুরুতর বিভ্রান্তি। দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। কারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল? কারা সংগঠিত হামলা চালিয়েছিল? রাষ্ট্রীয় না অরাষ্ট্রীয় কার ভূমিকা কতটুকু ছিল? এসব প্রশ্নের স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

৩৬ দিনের আন্দোলনে ২৯৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। অথচ একই সময়ে ১০ দিনের মধ্যে ৬১৮ জন নিহত হওয়ার দাবি যদি সত্য হয়, তবে তার রাজনৈতিক ও নৈতিক মূল্যায়ন কোথায়? এই দ্বৈত বাস্তবতার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে সংখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করা যায়, কিন্তু সত্যকে স্থায়ী করা যায় না। সহিংসতার শিকার মানুষের রক্ত কোনো পক্ষের প্রচারণার উপাদান হতে পারে না। প্রমাণভিত্তিক সত্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী।

রাজনীতির উত্তপ্ত সময়ে সংখ্যাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সংখ্যার জোরে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই টিকে থাকে। তাই সহিংসতার শিকার কতজন এই প্রশ্নে আবেগ নয়, প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। ২০২৪ জুন জুলাই সহিংসতায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় পর্যন্ত দেশীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২১০ জন বলে উঠে আসে।

এই সংখ্যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রচারিত হয়েছিল। প্রশ্ন হলো সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে শেখ হাসিনার আমলে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কেন বাতিল করা হয়েছিল? যদি সত্য উদ্ঘাটনই লক্ষ্য হয়, তবে একটি বিচার বিভাগীয় কাঠামো ভেঙে দেওয়া কেন প্রয়োজন হলো এই প্রশ্ন জনমনে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনুস সরকারের সময়কার প্রশাসন “দুই হাজার শহীদ”-এর বয়ান প্রচার করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বর্ণনা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।

কিন্তু কোনো সংখ্যা উচ্চারণ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। যে দাবি করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, যাচাইযোগ্য পরিচয় এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা প্রয়োজন। ইতিহাস আবেগ দিয়ে নয়, দলিল দিয়ে রচিত হয়।

সরকারি গেজেটে জুলাই আন্দোলনের শহীদের সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে ৮৩৪ জন। বিতর্ক এড়িয়ে ধরা হলে এই সংখ্যাই সরকারিভাবে স্বীকৃত। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই তালিকার ৫২ জনকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে সংশোধিত সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৮২ জন।

৫ আগস্ট দুপুরের আগেই শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ছিল ৭৮২ জন (৫২ জন বাদ দিয়ে)। এর মধ্যে ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন সরকার পতনের আগে—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। যেহেতু ওই সময় সরকার ক্ষমতায় ছিল, তাই সেই সময়ের মৃত্যুগুলোর দায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর বর্তায়ৎএমন যুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর OHCHR জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৪০০-এর বেশি বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু এই সংখ্যা কীভাবে নির্ধারিত হলো, তদন্ত পদ্ধতি কী ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

OHCHR এর রিপোর্ট অনুযায়ী ৫আগস্ট পর্যন্ত সংখ্যা ৭৮২ ধরা হয়, তবে ৬ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬১৮। এই ৬১৮ জন কারা? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? তারা কোন পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে যদি ৬১৮ জন একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মী নিহত হয়ে থাকেন এমন দাবি করা হয় তাহলে তা নিছক বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয় বরং তা একটি বৃহৎ সংগঠিত সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে।

আবার যদি সংখ্যাটি অতিরঞ্জিত হয়, তবে সেটিও সমানভাবে গুরুতর বিভ্রান্তি। দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। কারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল? কারা সংগঠিত হামলা চালিয়েছিল? রাষ্ট্রীয় না অরাষ্ট্রীয় কার ভূমিকা কতটুকু ছিল? এসব প্রশ্নের স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

৩৬ দিনের আন্দোলনে ২৯৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। অথচ একই সময়ে ১০ দিনের মধ্যে ৬১৮ জন নিহত হওয়ার দাবি যদি সত্য হয়, তবে তার রাজনৈতিক ও নৈতিক মূল্যায়ন কোথায়? এই দ্বৈত বাস্তবতার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে সংখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করা যায়, কিন্তু সত্যকে স্থায়ী করা যায় না। সহিংসতার শিকার মানুষের রক্ত কোনো পক্ষের প্রচারণার উপাদান হতে পারে না। প্রমাণভিত্তিক সত্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ