দশ দিনে ডুবল অর্থনীতি, নাকি মঞ্চ তৈরি হচ্ছে লুটের?

বিএনপির অর্থমন্ত্রী বলেছেন অর্থনীতি খুবই খারাপ অবস্থায়। ঠিক আছে, মেনে নিলাম। কিন্তু একটু পেছনে ফেরা যাক। ড. ইউনূস সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বিদায় নেওয়ার আগে বলে গেলেন রিজার্ভ ভালো আছে, অর্থনীতি একটা স্থিতিশীল জায়গায় রেখে যাচ্ছেন। ড. ইউনূস নিজেও বিদায়বেলায় বললেন রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়নের কাছাকাছি, দেশ ঠিক পথে আছে। আর অর্থমন্ত্রী চেয়ারে বসলেন, দশ দিন না পেরোতেই জানালেন অর্থনীতি খুবই খারাপ।

তাহলে প্রশ্ন একটাই, এই দশ দিনে কী হলো? বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কি রাতারাতি গায়েব হয়ে গেল? নাকি এটা পুরনো একটা রাজনৈতিক কৌশল, যেটা বাংলাদেশে বারবার দেখা গেছে? ক্ষমতায় বসেই আগের সবকিছুকে ধ্বংসস্তূপ বলে ঘোষণা করো, তারপর নিজেদের যেকোনো ব্যর্থতার জন্য সেই ধ্বংসস্তূপকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করো। এটা নতুন কিছু না, এই দলের কাছ থেকে তো একদমই না।

বিএনপির ইতিহাসটা একটু মনে করা দরকার। ২০০১ থেকে ২০০৬, পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ টানা দুর্নীতিতে বিশ্বে এক নম্বর হয়েছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে পাঁচ বছর একটানা শীর্ষে থাকা মানে এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা একটা সিস্টেম। হাওয়া ভবন থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটা ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ হতো, বন্দর থেকে টেন্ডার, প্রতিটা জায়গায় কমিশন ছাড়া কাজ হতো না। সেই দলের লোকজন এখন মন্ত্রিসভায় বসে অর্থনীতির হালচাল নিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। এটা কোনো রাজনৈতিক সমালোচনা না, এটা নথিভুক্ত ইতিহাস।

আর এই মন্ত্রী পতেঙ্গায় জমি দেখতে গেলেন, সরকারি কাজে। সাথে গেলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতারা। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। সরকারি কাজে দলের লোক নিয়ে যাওয়াটা এই দেশে পুরনো অভ্যাস, কিন্তু এত প্রকাশ্যে, এত নির্লজ্জভাবে? এই দশ্যটাই বলে দেয় ক্ষমতা আর দলের মধ্যে সীমারেখা কোথায় আছে এদের কাছে।

কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বললেন, বিনিয়োগ টানার কথা বললেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসে কোথায়? যেখানে আইনের শাসন আছে, যেখানে ব্যবসা করার পরিবেশ আছে, যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে। বিএনপি আমলে এই তিনটার কোনোটা ছিল? সেই আমলের ব্যবসায়ীরা এখনো মনে করতে পারেন চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজি ছাড়া এক পা ফেলা যেত না। সেই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দলটা এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

আর সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা এখানে কেউ বলছে না সেটা হলো, “অর্থনীতি খুব খারাপ” এই ঘোষণাটা নিজেই একটা বিপদ। একজন অর্থমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে বলেন অর্থনীতি ডুবে গেছে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কী ভাবেন? বাজারে কী বার্তা যায়? টাকার মান, ঋণের সুদ, ব্যবসার আস্থা, এসব একটা শব্দেই নড়ে যায়। দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নেতৃত্ব এভাবে কথা বলে না। সমস্যা স্বীকার করে, কিন্তু পরিকল্পনা আর আস্থার সাথে। এখানে শুধু সমস্যার ঘোষণা আছে, পরিকল্পনার কোনো কংক্রিট কথা নেই।

ইউনূস সরকারের শেষ দিনগুলোতে অর্থনীতির যে অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল আর এখন যা বলা হচ্ছে, এই দুটো বয়ানের মধ্যে যে ফাঁকটা আছে, সেই ফাঁকে কী লুকিয়ে আছে সেটা সময়ের সাথে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এই দলটার ট্র্যাক রেকর্ড দেখলে আশাবাদী হওয়ার খুব বেশি কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বিএনপির অর্থমন্ত্রী বলেছেন অর্থনীতি খুবই খারাপ অবস্থায়। ঠিক আছে, মেনে নিলাম। কিন্তু একটু পেছনে ফেরা যাক। ড. ইউনূস সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বিদায় নেওয়ার আগে বলে গেলেন রিজার্ভ ভালো আছে, অর্থনীতি একটা স্থিতিশীল জায়গায় রেখে যাচ্ছেন। ড. ইউনূস নিজেও বিদায়বেলায় বললেন রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়নের কাছাকাছি, দেশ ঠিক পথে আছে। আর অর্থমন্ত্রী চেয়ারে বসলেন, দশ দিন না পেরোতেই জানালেন অর্থনীতি খুবই খারাপ।

তাহলে প্রশ্ন একটাই, এই দশ দিনে কী হলো? বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কি রাতারাতি গায়েব হয়ে গেল? নাকি এটা পুরনো একটা রাজনৈতিক কৌশল, যেটা বাংলাদেশে বারবার দেখা গেছে? ক্ষমতায় বসেই আগের সবকিছুকে ধ্বংসস্তূপ বলে ঘোষণা করো, তারপর নিজেদের যেকোনো ব্যর্থতার জন্য সেই ধ্বংসস্তূপকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করো। এটা নতুন কিছু না, এই দলের কাছ থেকে তো একদমই না।

বিএনপির ইতিহাসটা একটু মনে করা দরকার। ২০০১ থেকে ২০০৬, পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ টানা দুর্নীতিতে বিশ্বে এক নম্বর হয়েছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে পাঁচ বছর একটানা শীর্ষে থাকা মানে এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা একটা সিস্টেম। হাওয়া ভবন থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটা ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ হতো, বন্দর থেকে টেন্ডার, প্রতিটা জায়গায় কমিশন ছাড়া কাজ হতো না। সেই দলের লোকজন এখন মন্ত্রিসভায় বসে অর্থনীতির হালচাল নিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। এটা কোনো রাজনৈতিক সমালোচনা না, এটা নথিভুক্ত ইতিহাস।

আর এই মন্ত্রী পতেঙ্গায় জমি দেখতে গেলেন, সরকারি কাজে। সাথে গেলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতারা। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। সরকারি কাজে দলের লোক নিয়ে যাওয়াটা এই দেশে পুরনো অভ্যাস, কিন্তু এত প্রকাশ্যে, এত নির্লজ্জভাবে? এই দশ্যটাই বলে দেয় ক্ষমতা আর দলের মধ্যে সীমারেখা কোথায় আছে এদের কাছে।

কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বললেন, বিনিয়োগ টানার কথা বললেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসে কোথায়? যেখানে আইনের শাসন আছে, যেখানে ব্যবসা করার পরিবেশ আছে, যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে। বিএনপি আমলে এই তিনটার কোনোটা ছিল? সেই আমলের ব্যবসায়ীরা এখনো মনে করতে পারেন চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজি ছাড়া এক পা ফেলা যেত না। সেই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দলটা এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

আর সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা এখানে কেউ বলছে না সেটা হলো, “অর্থনীতি খুব খারাপ” এই ঘোষণাটা নিজেই একটা বিপদ। একজন অর্থমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে বলেন অর্থনীতি ডুবে গেছে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কী ভাবেন? বাজারে কী বার্তা যায়? টাকার মান, ঋণের সুদ, ব্যবসার আস্থা, এসব একটা শব্দেই নড়ে যায়। দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নেতৃত্ব এভাবে কথা বলে না। সমস্যা স্বীকার করে, কিন্তু পরিকল্পনা আর আস্থার সাথে। এখানে শুধু সমস্যার ঘোষণা আছে, পরিকল্পনার কোনো কংক্রিট কথা নেই।

ইউনূস সরকারের শেষ দিনগুলোতে অর্থনীতির যে অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল আর এখন যা বলা হচ্ছে, এই দুটো বয়ানের মধ্যে যে ফাঁকটা আছে, সেই ফাঁকে কী লুকিয়ে আছে সেটা সময়ের সাথে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এই দলটার ট্র্যাক রেকর্ড দেখলে আশাবাদী হওয়ার খুব বেশি কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ