আলু ফলায় কৃষক, দাম পায় ফড়িয়া, ক্ষমতা ভোগ করে বিএনপি

রংপুরের তারাগঞ্জে এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে আট থেকে নয় টাকায়। এক কাপ চায়ের দাম দশ টাকা। মানে আলু বেচে চাও খাওয়া যায় না। আর এই আলু ফলাতে কৃষকের কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ষোল থেকে সতেরো টাকা। সহজ হিসাব, প্রতি কেজিতে লোকসান আট টাকার কাছাকাছি। বামনদীঘির সোনা মিয়া এক একর জমিতে আলু ফলিয়ে খরচ করেছেন এক লাখ সাতচল্লিশ হাজার ছয়শো টাকা। আলু পেয়েছেন নয় হাজার কেজি। বাজারদর ধরলে মোট বিক্রি হবে বড়জোর আশি হাজার টাকা। বাকি সত্তর হাজার টাকা কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপি কী করছে? ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়ে গেছে, যেখানে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না, সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায়নি, সেই নির্বাচনে জিতে বিএনপি এখন সরকার চালাচ্ছে। কিন্তু কৃষকের আলুর দামের বিষয়ে তাদের মন্ত্রিপরিষদের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের কথা কৃষকেরা বলছেন বছরের পর বছর ধরে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রম চালু করার দাবি পুরনো। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কথা নতুন না। তারাগঞ্জে মাত্র তিনটি হিমাগার আছে, মোট ধারণক্ষমতা ষোল হাজার টন। আর উৎপাদন হয়েছে এক লাখ বিয়াল্লিশ হাজার টনের বেশি। বাকি আলু কৃষকের উঠানে পচে, রাস্তায় ফেলা যায়, কিন্তু দাম পাওয়া যায় না।

বিএনপি দলটার জন্মই হয়েছিল সেনানিবাসে, জিয়াউর রহমানের হাতে, যিনি নিজে একটা অংশগ্রহণহীন ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই একই পথে হেঁটে এবারও দলটা ক্ষমতায় এসেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এভাবেও হয়। তখনো কৃষক মরত, এখনো মরছে। পার্থক্য শুধু এটুকু যে এখন মন্ত্রীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাও বলেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেই জানানোর পর কী হয়েছে, সেটা আর কেউ জানায়নি।

বাংলাদেশে কৃষিখাতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বিশাল একটা অংশ। এই মানুষগুলো ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে খাটেন, সার কেনেন ধারে, বীজ কেনেন সুদে, জমি ইজারা নেন আগাম টাকা দিয়ে। তারপর ফসল তোলার পর দেখেন বাজারে দাম নেই। সোনা মিয়া বললেন, গত বছর দাম না পেয়ে গুদামে আলু ছেড়ে এসেছেন। মানে হিমাগারে রাখার ভাড়াও তুলতে পারেননি। এবার কী হবে জানেন না।

এই মানুষগুলোর জন্য বিএনপি সরকারের কাছে কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো নীতি নেই, কোনো আগ্রহও নেই। যে সরকার গণরায় ছাড়া ক্ষমতায় আসে, তার কাছে মানুষের দুঃখের হিসাব চাওয়াটাও বোকামি। কারণ দায়বদ্ধতা থাকে তাদের কাছে, যারা ভোট দিয়ে বসায়। আর এই সরকারকে কৃষকের ভোট বসায়নি, তাহলে কৃষকের আলুর দামের চিন্তা এদের মাথায় আসবে কোথা থেকে।

সাইদুল ইসলাম বললেন, এত কষ্ট করে আবাদ করেও যদি দাম না পাই, আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে হবে। এই একটা কথার মধ্যে দেশের কৃষির আগামীটা আছে। কৃষক যদি চাষ ছেড়ে দেয়, তখন আলু আসবে কোথা থেকে, সেটা ভাবার সময় এখনই। কিন্তু যারা ভাবার কথা, তারা এখন ব্যস্ত আছেন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে।

রংপুরের তারাগঞ্জে এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে আট থেকে নয় টাকায়। এক কাপ চায়ের দাম দশ টাকা। মানে আলু বেচে চাও খাওয়া যায় না। আর এই আলু ফলাতে কৃষকের কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ষোল থেকে সতেরো টাকা। সহজ হিসাব, প্রতি কেজিতে লোকসান আট টাকার কাছাকাছি। বামনদীঘির সোনা মিয়া এক একর জমিতে আলু ফলিয়ে খরচ করেছেন এক লাখ সাতচল্লিশ হাজার ছয়শো টাকা। আলু পেয়েছেন নয় হাজার কেজি। বাজারদর ধরলে মোট বিক্রি হবে বড়জোর আশি হাজার টাকা। বাকি সত্তর হাজার টাকা কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপি কী করছে? ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়ে গেছে, যেখানে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না, সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায়নি, সেই নির্বাচনে জিতে বিএনপি এখন সরকার চালাচ্ছে। কিন্তু কৃষকের আলুর দামের বিষয়ে তাদের মন্ত্রিপরিষদের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের কথা কৃষকেরা বলছেন বছরের পর বছর ধরে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রম চালু করার দাবি পুরনো। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কথা নতুন না। তারাগঞ্জে মাত্র তিনটি হিমাগার আছে, মোট ধারণক্ষমতা ষোল হাজার টন। আর উৎপাদন হয়েছে এক লাখ বিয়াল্লিশ হাজার টনের বেশি। বাকি আলু কৃষকের উঠানে পচে, রাস্তায় ফেলা যায়, কিন্তু দাম পাওয়া যায় না।

বিএনপি দলটার জন্মই হয়েছিল সেনানিবাসে, জিয়াউর রহমানের হাতে, যিনি নিজে একটা অংশগ্রহণহীন ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই একই পথে হেঁটে এবারও দলটা ক্ষমতায় এসেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এভাবেও হয়। তখনো কৃষক মরত, এখনো মরছে। পার্থক্য শুধু এটুকু যে এখন মন্ত্রীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাও বলেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেই জানানোর পর কী হয়েছে, সেটা আর কেউ জানায়নি।

বাংলাদেশে কৃষিখাতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বিশাল একটা অংশ। এই মানুষগুলো ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে খাটেন, সার কেনেন ধারে, বীজ কেনেন সুদে, জমি ইজারা নেন আগাম টাকা দিয়ে। তারপর ফসল তোলার পর দেখেন বাজারে দাম নেই। সোনা মিয়া বললেন, গত বছর দাম না পেয়ে গুদামে আলু ছেড়ে এসেছেন। মানে হিমাগারে রাখার ভাড়াও তুলতে পারেননি। এবার কী হবে জানেন না।

এই মানুষগুলোর জন্য বিএনপি সরকারের কাছে কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো নীতি নেই, কোনো আগ্রহও নেই। যে সরকার গণরায় ছাড়া ক্ষমতায় আসে, তার কাছে মানুষের দুঃখের হিসাব চাওয়াটাও বোকামি। কারণ দায়বদ্ধতা থাকে তাদের কাছে, যারা ভোট দিয়ে বসায়। আর এই সরকারকে কৃষকের ভোট বসায়নি, তাহলে কৃষকের আলুর দামের চিন্তা এদের মাথায় আসবে কোথা থেকে।

সাইদুল ইসলাম বললেন, এত কষ্ট করে আবাদ করেও যদি দাম না পাই, আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে হবে। এই একটা কথার মধ্যে দেশের কৃষির আগামীটা আছে। কৃষক যদি চাষ ছেড়ে দেয়, তখন আলু আসবে কোথা থেকে, সেটা ভাবার সময় এখনই। কিন্তু যারা ভাবার কথা, তারা এখন ব্যস্ত আছেন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ