কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মুফতি আমির হামজার একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি নিজেকে ‘উপরওয়ালা’ দাবি করায় সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় সংবেদনশীল মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে মুফতি আমির হামজা বলেন:
“উপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই। উপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং কিছু হলেই আমাকে জানাবেন।”
হাসপাতালের দালালচক্র ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে একজন মুফতি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে নিজেকে ‘উপরওয়ালা’ হিসেবে ঘোষণা করাকে অনেকেই ইসলামের মৌলিক আকিদার পরিপন্থী বলে মনে করছেন।
ইসলামি আকিদা ও সাধারণ বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘উপরওয়ালা’ শব্দটি একচ্ছত্রভাবে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর গুণবাচক পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একজন আলেম হয়ে নিজেকে এই অবস্থানে বসানোকে অনেকেই ‘শিরক’ বা সৃষ্টিকর্তার গুণের সাথে ধৃষ্টতাপূর্ণ তুলনা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা বোঝাতে গিয়ে ধর্মীয় শব্দের এমন অপপ্রয়োগ ধৃষ্টতার শামিল। এটি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে ‘আমিই সব’ বা ‘আমিই উপরওয়ালা’ ধরনের ভাষা অহংকারের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ, যা ইসলামের বিনয়ী শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুফতি আমির হামজা যেহেতু একজন ধর্মীয় স্কলার, তাই তার শব্দ চয়নে অনেক বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তার এই বক্তব্য প্রকারান্তরে নিজেকে ঐশ্বরিক ক্ষমতার সমান্তরালে দাঁড় করানোর চেষ্টা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন এবং মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. শহিদুল ইসলাম। তবে এমপির এই স্পর্শকাতর মন্তব্য নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

