মার্কিন পরিকল্পনা ও গত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তথাকথিত মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে দেশকে বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন বিতর্কিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ইউনূসের রেখে যাওয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতেই তাকে মন্ত্রী বানিয়েছে বিএনপি। আর মন্ত্রী হয়েই তিনি পেয়েছেন মিয়ানমারে বিদ্রোহী আরাকান আর্মি।
এই প্রথমবারের মতো আরাকান আর্মি বাংলাদেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাল। ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের চেয়ারম্যান ম্রাত নাইং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখেছেন, “আশা করি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায়োগিক, টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার জন্য আপনি আমাদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবেন।
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের আগে আমেরিকার সঙ্গে হওয়া গোপন চুক্তি অনুযায়ী স্বার্থ বুঝিয়ে দিতেই এই অস্থিরতার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পাঁচ দিনের সফরে ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন ড. ইউনূস।
বিশ্লেষকদের দাবি, মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের বিপরীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক করিডোরের দোহাই দিয়ে এই অঞ্চলটিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি এয়ার বেজ স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। ড. ইউনূসকে এই পরিকল্পনার ‘প্রক্সি নেতা’ হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে । বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য বিস্তারে ‘কোয়াড পোর্টস ফর ফিউচার’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের মার্কিন পরিকল্পনা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার প্রস্তাব সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করছেন খলিল। তিনি আরাকান আর্মিকে সহায়তা দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন রাষ্ট্র তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করছেন। আমেরিকার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলে কোণঠাসা হয়ে থাকবে চীন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে চীন একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ যেন তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (আইপিএস) পক্ষে থাকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তৃত কৌশল, যার লক্ষ্য হচ্ছে পুরো অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা।
সব মিলিয়ে খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকেই সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ পরিমিত ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।

