Saturday, February 28, 2026

ভুয়া মামলার ফাঁদে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটছিল, সাংবাদিকরা তখন রাজপথে থেকে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ আর অনিশ্চয়তার খবর সংগ্রহ করছিলেন। কয়েক মাস পর দেখা যাচ্ছে, অনেকে কেবল খবর পরিবেশনই করছেন না, বরং নিজেরাই খবরের শিরোনাম হয়ে উঠেছেন।

সেই তারিখের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে এমন প্রবণতা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অন্তত ৪৭৬টি ঘটনায় ১,০৭৩ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী হামলা, হুমকি, আটক, আইনি ব্যবস্থা বা হয়রানির শিকার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ান’-এর তথ্যমতে, ১৪০ জনেরও বেশি সাংবাদিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট সংবাদের কারণে অনেকের বিরুদ্ধে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে—যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ) ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তত ২৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে একে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং ‘বিচারিক হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি— ৫ আগস্ট ২০২৪, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শুরু। সারা দেশে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর সংগ্রহে সাংবাদিকরা। আগস্ট–সেপ্টেম্বর মাসে ফৌজদারি মামলার প্রথম ঢেউ শুরু। হত্যা ও বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট মামলায় সাংবাদিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত। অন্তত ২৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা জানায় আরএসএফ।

অক্টোবর–ডিসেম্বর মাসে একাধিক সাংবাদিক আটক বা দফায় দফায় আদালতে হাজিরা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ। অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ।

২০২৫-এর শুরুতে মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহারের দাবিতে গাজীপুরে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ। সংবাদ পরিবেশনের জেরে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও তলবের খবর।

২০২৫-এর মাঝামাঝি ও শেষভাগে টিআইবি-র তথ্যমতে, ১৫ মাসে ১,০৭৩ জন সাংবাদিক আক্রান্ত। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, শত শত সাংবাদিক নির্যাতন বা আইনি চাপের মুখে। প্রথম সারির সংবাদপত্রের কার্যালয়ে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) হামলা।

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬— সম্পাদক পরিষদ ২০২৪-এর আগস্ট থেকে দায়ের হওয়া “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা” প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়।

আইনি চাপ ও গ্রেপ্তার

পর্যবেক্ষক দলগুলো জানাচ্ছে, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের দীর্ঘ তালিকায় প্রায়ই সাংবাদিকদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ করা এবং সংঘাতের অংশ হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পার্থক্যটা ঘুচিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে “সহিংসতায় উসকানি”র অভিযোগে বিদেশ যাওয়ার সময় ব্রডকাস্ট সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে।

স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, কেবল ২০২৫ সালেই ৩৮১ জন সাংবাদিক হেনস্তা বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে কয়েক ডজন সাংবাদিককে সরাসরি তাদের সংবাদ বা মন্তব্যের জন্য আইনি মারপ্যাঁচে ফেলা হয়েছে।

আদালতের বাইরের হামলা

আইনি মামলাগুলো পরিস্থিতির একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। সাংবাদিকরা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কাছ থেকে শারীরিক লাঞ্ছনা, হুমকি ও চাপের কথা জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষদিকে রয়টার্স জানায়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর কার্যালয়ে মব হামলা চালানো হয়েছে, যা সাময়িকভাবে মুদ্রণ কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জাগায়।

সম্পাদকদের মতে, এ ধরনের হামলা এবং ফৌজদারি মামলা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে সাংবাদিকরা কোনো সংবেদনশীল খবর প্রকাশের আগে তার আইনি পরিণতি নিয়ে বারবার ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

সম্পাদক পরিষদের হস্তক্ষেপ

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা” প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

পরিষদ বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভয় দেখানোর জন্য করা মামলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ক্ষুণ্ন করে।

অন্যদিকে সরকারি প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, সকল মামলা আইনি পথেই এগোচ্ছে এবং সাংবাদিকসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

সতর্কতার বার্তা

নিউজ রুমগুলোর ভেতরে সম্পাদকরা ক্রমবর্ধমান ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্ব-আরোপিত নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত সতর্কতার কথা উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকরা বারবার আদালতে হাজিরা দেওয়া, আইনি লড়াইয়ের আর্থিক চাপ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেবল সাংবাদিকদের ওপরই পড়বে না, বরং সাধারণ মানুষের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার পথকেও সংকুচিত করে তুলবে।

বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক রূপান্তরের পরবর্তী পথ পাড়ি দিচ্ছে, পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই মামলাগুলোর সুষ্ঠু সমাধানই হবে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটছিল, সাংবাদিকরা তখন রাজপথে থেকে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ আর অনিশ্চয়তার খবর সংগ্রহ করছিলেন। কয়েক মাস পর দেখা যাচ্ছে, অনেকে কেবল খবর পরিবেশনই করছেন না, বরং নিজেরাই খবরের শিরোনাম হয়ে উঠেছেন।

সেই তারিখের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে এমন প্রবণতা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অন্তত ৪৭৬টি ঘটনায় ১,০৭৩ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী হামলা, হুমকি, আটক, আইনি ব্যবস্থা বা হয়রানির শিকার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ান’-এর তথ্যমতে, ১৪০ জনেরও বেশি সাংবাদিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট সংবাদের কারণে অনেকের বিরুদ্ধে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে—যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ) ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তত ২৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে একে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং ‘বিচারিক হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি— ৫ আগস্ট ২০২৪, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শুরু। সারা দেশে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর সংগ্রহে সাংবাদিকরা। আগস্ট–সেপ্টেম্বর মাসে ফৌজদারি মামলার প্রথম ঢেউ শুরু। হত্যা ও বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট মামলায় সাংবাদিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত। অন্তত ২৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা জানায় আরএসএফ।

অক্টোবর–ডিসেম্বর মাসে একাধিক সাংবাদিক আটক বা দফায় দফায় আদালতে হাজিরা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ। অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ।

২০২৫-এর শুরুতে মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহারের দাবিতে গাজীপুরে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ। সংবাদ পরিবেশনের জেরে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও তলবের খবর।

২০২৫-এর মাঝামাঝি ও শেষভাগে টিআইবি-র তথ্যমতে, ১৫ মাসে ১,০৭৩ জন সাংবাদিক আক্রান্ত। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, শত শত সাংবাদিক নির্যাতন বা আইনি চাপের মুখে। প্রথম সারির সংবাদপত্রের কার্যালয়ে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) হামলা।

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬— সম্পাদক পরিষদ ২০২৪-এর আগস্ট থেকে দায়ের হওয়া “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা” প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়।

আইনি চাপ ও গ্রেপ্তার

পর্যবেক্ষক দলগুলো জানাচ্ছে, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের দীর্ঘ তালিকায় প্রায়ই সাংবাদিকদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ করা এবং সংঘাতের অংশ হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পার্থক্যটা ঘুচিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে “সহিংসতায় উসকানি”র অভিযোগে বিদেশ যাওয়ার সময় ব্রডকাস্ট সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে।

স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, কেবল ২০২৫ সালেই ৩৮১ জন সাংবাদিক হেনস্তা বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে কয়েক ডজন সাংবাদিককে সরাসরি তাদের সংবাদ বা মন্তব্যের জন্য আইনি মারপ্যাঁচে ফেলা হয়েছে।

আদালতের বাইরের হামলা

আইনি মামলাগুলো পরিস্থিতির একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। সাংবাদিকরা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কাছ থেকে শারীরিক লাঞ্ছনা, হুমকি ও চাপের কথা জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষদিকে রয়টার্স জানায়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর কার্যালয়ে মব হামলা চালানো হয়েছে, যা সাময়িকভাবে মুদ্রণ কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জাগায়।

সম্পাদকদের মতে, এ ধরনের হামলা এবং ফৌজদারি মামলা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে সাংবাদিকরা কোনো সংবেদনশীল খবর প্রকাশের আগে তার আইনি পরিণতি নিয়ে বারবার ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

সম্পাদক পরিষদের হস্তক্ষেপ

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা” প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

পরিষদ বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভয় দেখানোর জন্য করা মামলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ক্ষুণ্ন করে।

অন্যদিকে সরকারি প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, সকল মামলা আইনি পথেই এগোচ্ছে এবং সাংবাদিকসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

সতর্কতার বার্তা

নিউজ রুমগুলোর ভেতরে সম্পাদকরা ক্রমবর্ধমান ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্ব-আরোপিত নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত সতর্কতার কথা উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকরা বারবার আদালতে হাজিরা দেওয়া, আইনি লড়াইয়ের আর্থিক চাপ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেবল সাংবাদিকদের ওপরই পড়বে না, বরং সাধারণ মানুষের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার পথকেও সংকুচিত করে তুলবে।

বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক রূপান্তরের পরবর্তী পথ পাড়ি দিচ্ছে, পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই মামলাগুলোর সুষ্ঠু সমাধানই হবে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ