Saturday, February 28, 2026

ডিম রপ্তানি বন্ধ, বিএনপির শুরুটাই বলে দিচ্ছে তাদের সরকারের বাকি সময়টা কেমন হবে!

সৌদি আরব বাংলাদেশের ডিম কিনবে না, এই খবরে অনেকে হয়তো ভাবছেন এটা নিছক একটা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, বার্ড ফ্লুর কারণে নেওয়া স্বাভাবিক সতর্কতা। কিন্তু একটু থামলে প্রশ্ন জাগে, বার্ড ফ্লু কি এইমাত্র হলো? বাংলাদেশে পোলট্রি খাতের স্বাস্থ্যঝুঁকি কি গতকাল থেকে শুরু হয়েছে? না, এই সংকট বহু বছরের পুরনো। কিন্তু এটা এখন সামনে এলো, ঠিক তখন যখন বিএনপি মাত্র ক্ষমতায় বসেছে একটা নির্বাচনের মাধ্যমে যেটাকে নির্বাচন বলা মানে ভাষার অপমান করা।

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ওই ভোটে দেশের মানুষ যায়নি। আওয়ামী লীগ ছিল না, অন্যান্য দলগুলোও ছিল না, যারা ছিল তারাও মূলত বিএনপির ছায়াতলে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মুখ। এই পরিবেশে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তার কাছে জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই, আন্তর্জাতিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এই সরকারের মন্ত্রীরা যখন পোলট্রি রপ্তানি নিয়ে কথা বলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, কে শুনবে আপনাদের কথা?

বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প থেকে সৌদি আরবে রপ্তানি আসলে এখনো শৈশব পর্যায়ে ছিল, বড় কোনো বাজার তৈরি হয়নি। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব সংখ্যায় নয়, প্রতীকে। একটার পর একটা দেশ যখন বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে উদ্বেগ জানায়, তখন বোঝা যায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কাঠামো কতটা ভঙ্গুর। এই কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ দশকের পর দশক ধরে হয়নি। বিএনপি আগেও ক্ষমতায় ছিল, তখনও হয়নি। এখন যারা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা সেই একই দলের লোক, সেই একই চর্চার লোক।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসটা একটু মনে করা দরকার। জিয়াউর রহমান যখন দলটা বানিয়েছিলেন, সেটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে আসা কোনো আন্দোলনের ফসল ছিল না। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বসে, সামরিক ক্ষমতার ছায়ায় দাঁড়িয়ে বানানো একটা দল, যার শুরু থেকেই গণতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কটা আলংকারিক। সেই দলটা এত বছর পরেও মূলত সেটাই আছে। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নেত্রীর নেতৃত্বে চলা দল, যার একাধিক মন্ত্রী ও নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস আর অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে, তারা এখন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন।

আর সেই ভাগ্য নির্ধারণের শুরুতেই সৌদি আরব বলছে, তোমাদের ডিম লাগবে না।

এটা নিছক কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক ঘটনা না। এটা একটা প্রশ্ন, যে সরকারের কোনো জনভিত্তি নেই, যার বৈধতা নিয়ে দেশের ভেতরে তুমুল বিতর্ক আছে, সে সরকার কীভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে দর কষাকষি করবে? কোন মুখে গিয়ে বলবে, আমাদের পণ্যের মান ভালো, আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করো?

বিএনপির মন্ত্রীসভা এখন সম্ভবত ব্যস্ত পদ ভাগাভাগি আর পুরনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার রাজনীতিতে। পোলট্রি খাতের মান উন্নয়ন, রপ্তানি বাজার সংরক্ষণ, বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, এসব নিয়ে এই মুহূর্তে ঢাকায় কোনো জরুরি বৈঠক হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারণ এই সরকারের অগ্রাধিকার অন্যত্র, সবসময় ছিল, এখনও আছে।

সৌদি আরব খেজুর পাঠায়, আমরা ডিম পাঠাতে চেয়েছিলাম। এখন ডিমের দরজাও বন্ধ। পরের ধাপে কোন দরজা বন্ধ হবে সেটা দেখার জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না, যদি এই ধারা চলতে থাকে। https://bangla.thedailystar.net/international/news-3901816

সৌদি আরব বাংলাদেশের ডিম কিনবে না, এই খবরে অনেকে হয়তো ভাবছেন এটা নিছক একটা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, বার্ড ফ্লুর কারণে নেওয়া স্বাভাবিক সতর্কতা। কিন্তু একটু থামলে প্রশ্ন জাগে, বার্ড ফ্লু কি এইমাত্র হলো? বাংলাদেশে পোলট্রি খাতের স্বাস্থ্যঝুঁকি কি গতকাল থেকে শুরু হয়েছে? না, এই সংকট বহু বছরের পুরনো। কিন্তু এটা এখন সামনে এলো, ঠিক তখন যখন বিএনপি মাত্র ক্ষমতায় বসেছে একটা নির্বাচনের মাধ্যমে যেটাকে নির্বাচন বলা মানে ভাষার অপমান করা।

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ওই ভোটে দেশের মানুষ যায়নি। আওয়ামী লীগ ছিল না, অন্যান্য দলগুলোও ছিল না, যারা ছিল তারাও মূলত বিএনপির ছায়াতলে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মুখ। এই পরিবেশে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তার কাছে জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই, আন্তর্জাতিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এই সরকারের মন্ত্রীরা যখন পোলট্রি রপ্তানি নিয়ে কথা বলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, কে শুনবে আপনাদের কথা?

বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প থেকে সৌদি আরবে রপ্তানি আসলে এখনো শৈশব পর্যায়ে ছিল, বড় কোনো বাজার তৈরি হয়নি। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব সংখ্যায় নয়, প্রতীকে। একটার পর একটা দেশ যখন বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে উদ্বেগ জানায়, তখন বোঝা যায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কাঠামো কতটা ভঙ্গুর। এই কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ দশকের পর দশক ধরে হয়নি। বিএনপি আগেও ক্ষমতায় ছিল, তখনও হয়নি। এখন যারা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা সেই একই দলের লোক, সেই একই চর্চার লোক।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসটা একটু মনে করা দরকার। জিয়াউর রহমান যখন দলটা বানিয়েছিলেন, সেটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে আসা কোনো আন্দোলনের ফসল ছিল না। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বসে, সামরিক ক্ষমতার ছায়ায় দাঁড়িয়ে বানানো একটা দল, যার শুরু থেকেই গণতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কটা আলংকারিক। সেই দলটা এত বছর পরেও মূলত সেটাই আছে। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নেত্রীর নেতৃত্বে চলা দল, যার একাধিক মন্ত্রী ও নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস আর অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে, তারা এখন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন।

আর সেই ভাগ্য নির্ধারণের শুরুতেই সৌদি আরব বলছে, তোমাদের ডিম লাগবে না।

এটা নিছক কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক ঘটনা না। এটা একটা প্রশ্ন, যে সরকারের কোনো জনভিত্তি নেই, যার বৈধতা নিয়ে দেশের ভেতরে তুমুল বিতর্ক আছে, সে সরকার কীভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে দর কষাকষি করবে? কোন মুখে গিয়ে বলবে, আমাদের পণ্যের মান ভালো, আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করো?

বিএনপির মন্ত্রীসভা এখন সম্ভবত ব্যস্ত পদ ভাগাভাগি আর পুরনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার রাজনীতিতে। পোলট্রি খাতের মান উন্নয়ন, রপ্তানি বাজার সংরক্ষণ, বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, এসব নিয়ে এই মুহূর্তে ঢাকায় কোনো জরুরি বৈঠক হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারণ এই সরকারের অগ্রাধিকার অন্যত্র, সবসময় ছিল, এখনও আছে।

সৌদি আরব খেজুর পাঠায়, আমরা ডিম পাঠাতে চেয়েছিলাম। এখন ডিমের দরজাও বন্ধ। পরের ধাপে কোন দরজা বন্ধ হবে সেটা দেখার জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না, যদি এই ধারা চলতে থাকে। https://bangla.thedailystar.net/international/news-3901816

আরো পড়ুন

সর্বশেষ