Wednesday, February 25, 2026

ক্ষমতায় এসেই নিজেদের লোকদের বাঁচানোর পুরনো খেলায় ফিরলো বিএনপি

বিএনপি ক্ষমতায় এসেই যা করল, সেটা আসলে অনেকেই আগে থেকেই অনুমান করেছিলেন। তবু চোখের সামনে দেখলে একটা ধাক্কা লাগে বৈকি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আজকে মিডিয়াকে জানিয়ে দিলেন, এক হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ভাষ্যটা হলো এই যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলো তুলে নেওয়া হচ্ছে। শুনতে খুবই মানবিক। খুবই ন্যায়সংগত। কিন্তু আসল কথাটা এখানে আড়ালেই থেকে গেল।

যারা এই মামলার আসামি, তাদের বড় একটা অংশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পেট্রোল বোমা ছুড়েছে চলন্ত বাসে। আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে সাধারণ মানুষকে, যারা শুধু নিজের কাজে যাচ্ছিল। কেউ রিকশাচালক, কেউ দিনমজুর, কেউ বা স্রেফ বাড়ি ফিরছিল। তাদের অপরাধ ছিল একটাই, তারা ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিল। আর সেই বোমা যারা ছুড়েছে, আজকে তারা “রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার” বলে পরিচিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার এই ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সেটাকে এতদিন বিরোধীরা দমনপীড়ন বলে চিৎকার করেছে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন নিজের নাগরিকদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে, তখন সেটা দমনপীড়ন হয় না। আগুনে পোড়া মানুষের পরিবারের কাছে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যেত।

এখন প্রশ্নটা হলো, তারেক রহমান ঠিক কোন নৈতিক অবস্থান থেকে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? লন্ডনে বসে দলের ফরমান জারি করতে থাকা একজন মানুষ, যার বিরুদ্ধে দেশের আদালতে দুর্নীতির মামলা আছে, যিনি বছরের পর বছর দেশে না ফিরে বিদেশ থেকে দল পরিচালনা করেছেন, তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে জাহির করছেন। সংসদ এখনো বসেনি, শপথ হয়নি, কিন্তু সচিবালয়ে বৈঠক হচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে বেরিয়ে মিডিয়াকে ব্রিফিং দিচ্ছেন।

বিএনপির জন্মটাই ছিল ভিন্নরকম। জিয়াউর রহমান সেনাছাউনিতে বসে একটা দল তৈরি করেছিলেন, মানুষের ভোট বা সম্মতির ধার না ধেরে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই দলটা বারবার ক্ষমতায় এসেছে বিতর্কিত পথে, আর ক্ষমতায় গিয়ে প্রথম কাজ করেছে নিজেদের লোকজনকে আইনের ওপরে তুলে রাখার ব্যবস্থা করতে।

যে ১ হাজার ৬টি মামলা তুলে নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটির পেছনে একটা করে ঘটনা আছে। ভুক্তভোগী আছে। সাক্ষী আছে। কিন্তু এখন সেসব কিছুর আর দাম নেই, কারণ আসামিরা সঠিক দলের লোক। এটাই বাংলাদেশের রাজনীতির সেই চিরচেনা ছবি যেখানে বিচারের দাঁড়িপাল্লাটা সবসময় একটু হেলে থাকে ক্ষমতাসীনের দিকে।

মানুষ ২০১৪ বা ২০১৫ সালের সেই ভয়াবহ অবরোধ আর হরতালের দিনগুলো ভুলে যায়নি। বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন, ট্রাকে আগুন, এবং সেই আগুনে মানুষ। সেটাকে এখন রাজনৈতিক আন্দোলন বলে পার পাইয়ে দেওয়াটা শুধু নির্লজ্জতা না, এটা আসলে ওই নিহতদের স্মৃতির প্রতি সরাসরি অবমাননা।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে এই ঘোষণাটা দেখে মনে হচ্ছে, দেশটা একটা বৃত্তের মধ্যে ঘুরছে। যে যখন ক্ষমতায় আসে, আগের সরকারের সময়ে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা তুলে নেয়, নিজেদের লোকদের ছাড়িয়ে আনে, এবং ঘোষণা দেয় যে এবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তারপর নিজেরাই সেই একই কাজ করে আবার।

বিএনপি এর ব্যতিক্রম হবে, এমন কোনো কারণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি ক্ষমতায় এসেই যা করল, সেটা আসলে অনেকেই আগে থেকেই অনুমান করেছিলেন। তবু চোখের সামনে দেখলে একটা ধাক্কা লাগে বৈকি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আজকে মিডিয়াকে জানিয়ে দিলেন, এক হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ভাষ্যটা হলো এই যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলো তুলে নেওয়া হচ্ছে। শুনতে খুবই মানবিক। খুবই ন্যায়সংগত। কিন্তু আসল কথাটা এখানে আড়ালেই থেকে গেল।

যারা এই মামলার আসামি, তাদের বড় একটা অংশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পেট্রোল বোমা ছুড়েছে চলন্ত বাসে। আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে সাধারণ মানুষকে, যারা শুধু নিজের কাজে যাচ্ছিল। কেউ রিকশাচালক, কেউ দিনমজুর, কেউ বা স্রেফ বাড়ি ফিরছিল। তাদের অপরাধ ছিল একটাই, তারা ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিল। আর সেই বোমা যারা ছুড়েছে, আজকে তারা “রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার” বলে পরিচিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার এই ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সেটাকে এতদিন বিরোধীরা দমনপীড়ন বলে চিৎকার করেছে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন নিজের নাগরিকদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে, তখন সেটা দমনপীড়ন হয় না। আগুনে পোড়া মানুষের পরিবারের কাছে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যেত।

এখন প্রশ্নটা হলো, তারেক রহমান ঠিক কোন নৈতিক অবস্থান থেকে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? লন্ডনে বসে দলের ফরমান জারি করতে থাকা একজন মানুষ, যার বিরুদ্ধে দেশের আদালতে দুর্নীতির মামলা আছে, যিনি বছরের পর বছর দেশে না ফিরে বিদেশ থেকে দল পরিচালনা করেছেন, তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে জাহির করছেন। সংসদ এখনো বসেনি, শপথ হয়নি, কিন্তু সচিবালয়ে বৈঠক হচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে বেরিয়ে মিডিয়াকে ব্রিফিং দিচ্ছেন।

বিএনপির জন্মটাই ছিল ভিন্নরকম। জিয়াউর রহমান সেনাছাউনিতে বসে একটা দল তৈরি করেছিলেন, মানুষের ভোট বা সম্মতির ধার না ধেরে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই দলটা বারবার ক্ষমতায় এসেছে বিতর্কিত পথে, আর ক্ষমতায় গিয়ে প্রথম কাজ করেছে নিজেদের লোকজনকে আইনের ওপরে তুলে রাখার ব্যবস্থা করতে।

যে ১ হাজার ৬টি মামলা তুলে নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটির পেছনে একটা করে ঘটনা আছে। ভুক্তভোগী আছে। সাক্ষী আছে। কিন্তু এখন সেসব কিছুর আর দাম নেই, কারণ আসামিরা সঠিক দলের লোক। এটাই বাংলাদেশের রাজনীতির সেই চিরচেনা ছবি যেখানে বিচারের দাঁড়িপাল্লাটা সবসময় একটু হেলে থাকে ক্ষমতাসীনের দিকে।

মানুষ ২০১৪ বা ২০১৫ সালের সেই ভয়াবহ অবরোধ আর হরতালের দিনগুলো ভুলে যায়নি। বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন, ট্রাকে আগুন, এবং সেই আগুনে মানুষ। সেটাকে এখন রাজনৈতিক আন্দোলন বলে পার পাইয়ে দেওয়াটা শুধু নির্লজ্জতা না, এটা আসলে ওই নিহতদের স্মৃতির প্রতি সরাসরি অবমাননা।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে এই ঘোষণাটা দেখে মনে হচ্ছে, দেশটা একটা বৃত্তের মধ্যে ঘুরছে। যে যখন ক্ষমতায় আসে, আগের সরকারের সময়ে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা তুলে নেয়, নিজেদের লোকদের ছাড়িয়ে আনে, এবং ঘোষণা দেয় যে এবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তারপর নিজেরাই সেই একই কাজ করে আবার।

বিএনপি এর ব্যতিক্রম হবে, এমন কোনো কারণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ