২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংবিধান মেনেই শপথ নিয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি সংবিধানের কোনো বিধানই মানেননি তিনি। এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কালেরকণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তখন (অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে) যতগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেগুলো হয়তো তৎকালীন সময়ের প্রয়োজনীয়তার জন্যই হয়েছে। তার পরও আমার দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, অনেক অধ্যাদেশ করার কোনো কারণ ছিল না। প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধান মেনে চলেননি।
সংবিধানে বলা আছে, উনি যখনই বিদেশ সফরে যাবেন, সেখান থেকে ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং আমাকে ওই আউটপুটটা জানাবেন। কী আলোচনা হলো, কী হলো, কোনো চুক্তি হলো কি না, কী ধরনের কথাবার্তা হলো, এটা আমাকে লিখিতভাবে অবহিত করার কথা। তো, উনি তো বোধহয় ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেছেন। একবারও আমাকে জানান নাই। একবারও আমার কাছে আসেননি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী (বা প্রধান উপদেষ্টা) রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে অবহিত না করা সরাসরি সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। আইনজীবীদের মতে, সংবিধান অমান্য করার ফলে ড. ইউনূস ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা বা শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন:
সংবিধান লঙ্ঘন: সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান অমান্য করা বা এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমতুল্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
অভিশংসন বা বিচার: যদিও তিনি এখন দায়িত্বে নেই, তবে ভবিষ্যতে উচ্চতর তদন্ত কমিশন বা আদালতের মাধ্যমে তার নেওয়া একপেশে সিদ্ধান্ত ও সংবিধান লঙ্ঘনের বিচার হতে পারে।
চুক্তি বাতিল: রাষ্ট্রপতির সম্মতি বা অবহিতকরণ ছাড়া করা বিদেশি চুক্তিগুলো আইনিভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

