Tuesday, February 24, 2026

দেড় বছরে দেশ থেকে কী কী নিয়ে গেলেন ইউনূস

দেড় বছরের শাসনকাল শেষে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস-এর বিরুদ্ধে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ও চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা দাবি করছেন, তার সময়কালে নেওয়া কিছু অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

ড. ইউনূসের মেয়াদের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা, আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি এবং বছরে ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

এছাড়া শুল্ক কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্ক সুবিধা পেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সুবিধা সীমিত—এমন দাবি তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান চুক্তিটিকে ‘একপেশে’ বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এটিকে ‘পরাধীনতার চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে দেশীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চাপে পড়তে পারেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, Starlink-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির পেছনে লবিংয়ের প্রভাব থাকতে পারে।

নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিযোগ

ড. ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ কল্যাণ-এর বকেয়া কর মওকুফ এবং গ্রামীণ ব্যাংক-এর জন্য কর রেয়াত সুবিধা। এছাড়া গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণ ডিজিটাল ওয়ালেটের দ্রুত অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে থাকা অর্থপাচার, শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, সব সিদ্ধান্ত আইনানুগ প্রক্রিয়াতেই হয়েছে।

কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এসব চুক্তির ফলে দেশের রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।

সিপিডির বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিদায়ী সরকারের নেওয়া বিদেশি চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে জাতীয় স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকে।

সার্বিক প্রেক্ষাপট

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের জন্য প্রশংসিত হলেও তার শাসনামলের শেষভাগে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দেশে মতভেদ স্পষ্ট। সমর্থকরা বলছেন, এসব চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, চুক্তির শর্ত ও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

দেড় বছরের শাসনকাল শেষে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস-এর বিরুদ্ধে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ও চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা দাবি করছেন, তার সময়কালে নেওয়া কিছু অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

ড. ইউনূসের মেয়াদের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা, আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি এবং বছরে ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

এছাড়া শুল্ক কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্ক সুবিধা পেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সুবিধা সীমিত—এমন দাবি তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান চুক্তিটিকে ‘একপেশে’ বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এটিকে ‘পরাধীনতার চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে দেশীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চাপে পড়তে পারেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, Starlink-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির পেছনে লবিংয়ের প্রভাব থাকতে পারে।

নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিযোগ

ড. ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ কল্যাণ-এর বকেয়া কর মওকুফ এবং গ্রামীণ ব্যাংক-এর জন্য কর রেয়াত সুবিধা। এছাড়া গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণ ডিজিটাল ওয়ালেটের দ্রুত অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে থাকা অর্থপাচার, শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, সব সিদ্ধান্ত আইনানুগ প্রক্রিয়াতেই হয়েছে।

কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এসব চুক্তির ফলে দেশের রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।

সিপিডির বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিদায়ী সরকারের নেওয়া বিদেশি চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে জাতীয় স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকে।

সার্বিক প্রেক্ষাপট

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের জন্য প্রশংসিত হলেও তার শাসনামলের শেষভাগে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দেশে মতভেদ স্পষ্ট। সমর্থকরা বলছেন, এসব চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, চুক্তির শর্ত ও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ