Tuesday, February 24, 2026

দেশজুড়ে একে একে খুলছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ফের খুলছেন তারা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলেছেন দলটির কর্মীরা। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের ফটকের সামনে জাতীয় পতাকা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রেখে স্লোগান দেন যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রী। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংগঠনের ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এছাড়া সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, রাজশাহী ও যশোরের বাঘাইছড়িতেও আওয়ামীলীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো এবং ব্যানার ঝুলানোর ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম উত্তরের জেলা পঞ্চগড় সদরের চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার খবর আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তালা খুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান।

১৫ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শ্লোগান দেন ‘আওয়ামী লীগকে কথা দিলাম, পার্টি অফিস দখল নিলাম।’ তারা কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশ্ন করেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ঢুকে পড়েন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ওই দিনই সকালে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা কার্যালয়ও খোলা হয়। অফিস খোলার পর সেখানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

একইদিন বিকালে খুলনা মহানগরীর শঙ্খ মার্কেটে আওয়ামী লীগ অফিস খুলে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করেন। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এরপর তারা তালা লাগিয়ে চলে যান।

১৮ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরের পালং বাজারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী। এ সময় তারা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙান । । একই দিন সকালে ছাত্রলীগের ৩০-৩৫ জন নেতা-কর্মী তালা ভেঙে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢোকেন। এরপর ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কার্যালয়টিতে ব্যানার টাঙিয়ে সটকে পড়েন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেলগেট এলাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান দেন কয়েকজন। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে লাগানো হয়েছে দলীয় পরিচিতি ফলক। এর আগে দলটির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর কার্যালয়ে পরিচিত ফলক লাগানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, আমার মনে হয় নির্বাচিত সরকার এসেছে এবং এখন তাদের কাছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্ব পাবে। আওয়ামী লীগকে ছাড়া বিগত সরকার নির্বাচন করে গেছে। দলটির কর্মী-সমর্থকরা দেশে আছে এবং অনেকে কারাগারে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দলটির কার্যালয় খোলা বা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পেলে তা ইতিবাচকই হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, গত সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি। কিন্তু তার মানে এই না যে দলটি সবসময় নিষিদ্ধ থাকবে। আবার আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তী সরকারকে গ্রহণ করেনি, কিন্তু নির্বাচিত সরকারকে তারা প্রত্যাখ্যানও করেনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ফের খুলছেন তারা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলেছেন দলটির কর্মীরা। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের ফটকের সামনে জাতীয় পতাকা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রেখে স্লোগান দেন যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রী। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংগঠনের ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এছাড়া সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, রাজশাহী ও যশোরের বাঘাইছড়িতেও আওয়ামীলীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো এবং ব্যানার ঝুলানোর ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম উত্তরের জেলা পঞ্চগড় সদরের চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার খবর আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তালা খুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান।

১৫ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শ্লোগান দেন ‘আওয়ামী লীগকে কথা দিলাম, পার্টি অফিস দখল নিলাম।’ তারা কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশ্ন করেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ঢুকে পড়েন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ওই দিনই সকালে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা কার্যালয়ও খোলা হয়। অফিস খোলার পর সেখানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

একইদিন বিকালে খুলনা মহানগরীর শঙ্খ মার্কেটে আওয়ামী লীগ অফিস খুলে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করেন। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এরপর তারা তালা লাগিয়ে চলে যান।

১৮ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরের পালং বাজারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী। এ সময় তারা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙান । । একই দিন সকালে ছাত্রলীগের ৩০-৩৫ জন নেতা-কর্মী তালা ভেঙে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢোকেন। এরপর ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কার্যালয়টিতে ব্যানার টাঙিয়ে সটকে পড়েন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেলগেট এলাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান দেন কয়েকজন। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে লাগানো হয়েছে দলীয় পরিচিতি ফলক। এর আগে দলটির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর কার্যালয়ে পরিচিত ফলক লাগানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, আমার মনে হয় নির্বাচিত সরকার এসেছে এবং এখন তাদের কাছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্ব পাবে। আওয়ামী লীগকে ছাড়া বিগত সরকার নির্বাচন করে গেছে। দলটির কর্মী-সমর্থকরা দেশে আছে এবং অনেকে কারাগারে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দলটির কার্যালয় খোলা বা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পেলে তা ইতিবাচকই হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, গত সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি। কিন্তু তার মানে এই না যে দলটি সবসময় নিষিদ্ধ থাকবে। আবার আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তী সরকারকে গ্রহণ করেনি, কিন্তু নির্বাচিত সরকারকে তারা প্রত্যাখ্যানও করেনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ