নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী এলাকার জহুরুল ইসলাম সিকদারের ছেলে মনির হোসেন সিকদার (৬০) আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। শুধু মাত্র এই রাজনৈতিক পরিচয়টার কারণেই ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং গত বছরের ১২ নভেম্বর জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী বেষ্টিত আদালতের রায় ঘোষনাকে কেন্দ্র করে কথিত নাশকতার আশঙ্কায় মনির হোসেন সিকদারকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, তাঁকে কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।
এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড, এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে। ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে, একটা মানুষকে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে নিয়ে অত্যাচার করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হলো।
জুলাইয়ের নামে কত দেশবিরোধী কাজই তো হলো, প্রতিবাদের নামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একবারের জন্যেও নাশকতার পথে পা বাড়ায়নি। ৫ আগস্টের পর দেশে উগ্রবাদিদের ব্যাপক উত্থান ঘটেছে, মবতন্ত্র কায়েম হয়েছে; তবুও আওয়ামী লীগকেই দমাতে হবে নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে, নেতাকর্মীদের হত্যা করতে হবে জেলে নিয়েই।
সুকৌশলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর এ নির্মম গণহত্যা আর কত দিন চলবে? ছাত্র-পুলিশ এবং সাধারণ মানুষদের হত্যা করে ফ্যাসিস্ট ইউনূস ক্ষমতা দখল করলো; ইউনূসের প্ল্যান মোতাবেক করা সকল হত্যাকান্ডের দায় চাপিয়ে দেওয়া হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপর, নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে। এখন, নিজেদের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক দাবিকৃত দল বিএনপিও কি গণহত্যার পথেই হাঁটছে? এটাই আপনাদের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি? এভাবে আওয়ামী লীগ ঠেকানোর নাম করে জেলহত্যা?
আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর নামে আপনারা মানুষ মারছেন; কোন গণতন্ত্রের কথা বলেন আপনারা? আপনারাই তো আসল ফ্যাস্টিস্ট; আর কতদিন চলবে এ ঘৃণ্য ফ্যাসিজম?

