প্রতিকূল পরিস্থিতি আর নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নানামুখী কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সরব উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, পাবনা, গাইবান্ধা, জামালপুর ও নড়াইলসহ অন্তত ৩০টি জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরছেন। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীও শেয়ার করেছেন। এছাড়া সাতক্ষীরার কলারোয়ায় যুবলীগ নেতাদের পুষ্পমাল্য অর্পণ ও নড়াইলের লোহাগড়ায় নেতাকর্মীদের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ছবি ও ভিডিও তৃণমূলের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। পাবনা ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দতেও কার্যালয়গুলোতে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার স্থাপন এবং পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতির জানান দেওয়া হচ্ছে। যদিও পাবনায় নেতাকর্মীদের স্লোগানের পর বিরোধী পক্ষ কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি; বরং তাদের মনোবল আরও দৃঢ় হয়েছে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জের বগারচর ইউনিয়ন এবং গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনারেও নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও গাইবান্ধায় জননিরাপত্তার অজুহাতে দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ, তবে একে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই দেখছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চরম প্রতিকূল এবং বৈরী পরিবেশেও তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা যেভাবে রাজপথে নামছেন, তা দলের প্রতি তাদের গভীর আনুগত্য ও সাহসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। এই কর্মসূচিগুলো প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগ কেবল একটি দল নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত বিশাল রাজনৈতিক শক্তি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই জনমত ও ভোটারের বিশাল অংশ এখনো দলের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যা দলটিকে জনবিচ্ছিন্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের এই জাগরণ ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও বড় ধরণের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনে অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

