একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক আবহের সৃষ্টি হয়েছে। জনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গ্রেফতার ও বাধার মুখেও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তাদের এই আকস্মিক উপস্থিতি রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মহানগর শাখার নেতা-কর্মীরা প্রথম প্রহরেই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রনি মির্জার নেতৃত্বে একদল কর্মী ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই ঘটনার একটি ২২-২৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নওফেল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শেয়ার করেছেন।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ হয়ে শহীদ মিনারে ফুল দেন। সেখানেও গগনবিদারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। অন্যদিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গোয়রা বাজারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। তবে সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে বলে জানা গেছে।
গাইবান্ধা শহরের রেলগেট এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ২৫-৩০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যান। পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতেও স্লোগান দেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে ইমারুল ইসলাম শাবিন ও শাহিন চাকলাদার নামে দুই নেতাকে পুলিশ আটক করে।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অভিনেত্রী মিষ্টি সুভাষের নেতৃত্বে একদল কর্মী “People’s Leader Sheikh Hasina” লেখা পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাদের পরনে শোকের কালো পোশাক এবং হাতে দলীয় নেত্রীর ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
নোয়াখালী জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে এ সময় অন্তত ৬ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কার্যালয় খেলার যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল, শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে তা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল পর্যায়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে নেতা-কর্মীদের এই জেগে ওঠাকে দলটির পুনর্গঠনের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবিরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবুও এই “উজ্জীবিত” উপস্থিতি জানান দিচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

