১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিপুল বিজয়ের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে দেশের অন্তত ১৫টি জেলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোর তালা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুলে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও দলটি বর্তমানে আইনত নিষিদ্ধ এবং নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, তবুও তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের এই সক্রিয়তা রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে অনেক স্থানেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে আসেন।
জামালপুর: ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে দলীয় কার্যালয় খুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পঞ্চগড়: সদর উপজেলায় এক বিএনপি নেতার উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হয়েছে বলে জানা যায়, যা স্থানীয় রাজনীতিতে বিস্ময় তৈরি করেছে।
খুলনা ও নোয়াখালী: খুলনার শঙ্খ মার্কেটস্থ মহানগর অফিস এবং নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদান করেন এবং স্লোগান দেন।
ঢাকা: রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ও রাজনৈতিক কার্যালয়ের গেটে কিছু নেতা-কর্মী জড়ো হলেও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি।
অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোর (বাঘারপাড়া), কক্সবাজার (উখিয়া), হবিগঞ্জ, পাবনা এবং রাজশাহীতেও কার্যালয় খোলার খবর পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম জানিয়েছেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠিত করতেই নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরই মাঠে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ। গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখি যেমন নিজের ভস্ম থেকেই পুনরায় জন্ম নেয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সবসময় এমনভাবেই ফিরে এসেছে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং দেশের ১৫টিরও বেশি জেলায় দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনাগুলো কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

