বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতিতে ড. খলিলুর রহমান এক রহস্যময় নাম। পেশাদার #কূটনীতিক হিসেবে জীবন শুরু করলেও তার প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে তার পারিবারিক সংযোগ, আন্তর্জাতিক লবিং এবং অত্যন্ত চতুর, রাজনৈতিক চালের গভীরে।
ড. খলিলুর রহমানের ক্ষমতার বড় ভিত্তি হলো তার পারিবারিক আভিজাত্য। তিনি গোপালগঞ্জের বিচারপতি নূরুল হুদার জামাতা এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের (ডাকনাম: শান্তি) মামাতো বোনের স্বামী।
বিচারপতি লতিফুর রহমানের মা এবং বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী হাজী গোলাম মোরশেদ ছিলেন আপন ফুফাতো ভাই-বোন। এই শক্তিশালী পারিবারিক বলয় খলিলুর রহমানকে রাষ্ট্রযন্ত্রের শীর্ষ স্তরে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
২০০১ সালের ‘সিভিলিয়ান ক্যু’
বিচারপতি লতিফুর রহমান ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইতে জানিয়েছেন, তার মামাতো বোনের স্বামী খলিলুর রহমান ৯/১০ জুলাই (শপথের আগেই) যমুনায় তার সাথে কাজ শুরু করেন। উপদেষ্টাদের তালিকা ও প্রশাসনের ব্যাপক রদবদলের নীল নকশা ড. খলিলুর রহমানের কম্পিউটারেই তৈরি হয়েছিল, যাকে ইতিহাসে ‘সিভিলিয়ান ক্যু’ বলা হয়।
২০০১ সালে ফেনীতে আওয়ামীলীগ_নিধনের দুই সার্জন—জেলা প্রশাসক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী ও পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিন বদরীকে খুঁজে বের করে ফেনীতে পোস্টিং করানোর মূল কারিগর ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। লতিফুর রহমানের লেখায় এ রকম আরও অনেক মিশন বাস্তবায়নের নেপথ্য কারিগর হিসেবে তার নাম এসেছে।
ড. খলিলুর রহমানের ব্যাচমেট নারী কূটনীতিক নাসিম ফেরদৌস তার ‘বসন্ত হাওয়ার দিনগুলো’ বইতে লিখেছেন, ২০০১ সালে UNCTAD থেকে ছুটি নিয়ে খলিলুর রহমান বিচারপতি লতিফুর রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সহকারী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত বিতর্ক ও প্রবাস জীবন
ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় হলো প্রটোকল অফিসার আয়েশা আফসারী (ডাকনাম: নিপা)-র সাথে তার পরকীয়া সম্পর্ক। অভিযোগ রয়েছে, খলিলুর রহমান নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিপাকে #নিউইয়র্ক দূতাবাসে পোস্টিং দেন।
আয়েশা আফসারী নিপার দুই সন্তানের মধ্যে একজন ছিল প্রতিবন্ধী। তিনি সেই সন্তান ফেলে খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমেরিকা যাচ্ছেন শুনে — তার স্বামী ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জাহান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এর জেরে জহিরুল ইসলাম ৫ অক্টোবর(২০০১) রাতে স্ত্রী নিপাকে গুলি করে মেরে নিজে সুইসাইড করেন। এই ঘটনার পর খলিলুর রহমান আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং দীর্ঘ ২৩ বছর ‘রজার রহমান’ (#RogerRahman) নামে আমেরিকায় বসবাস করেন।

