Sunday, February 22, 2026

রমজানে ফল বিলাসিতা হলো কীভাবে, উত্তর কি আছে বিএনপির কাছে?

রমজান মাসে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারে ইফতারের থালায় এখন ফল একটা বিলাসিতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাল্টা ৩২০-৩৬০ টাকা কেজি, লাল আঙুর ৫২০-৫৫০ টাকা, ডালিম ৫০০-৬০০ টাকা। আর সবরি কলা, যেটাকে সাধারণ মানুষ সাধারণ ফল মনে করত, সেটার ডজন ২৫০-২৭০ টাকা, মানে একটা কলার দাম পড়ছে ২০-২৫ টাকা। দেশীয় ফল কলার এই দাম হওয়া মানে বাজার একদম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

এই অবস্থার জন্য কে দায়ী, এই প্রশ্নটা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার এখন বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতায় এসে তারা বাজার নিয়ে কী করেছে? জবাবটা সংক্ষিপ্ত। কিছুই করেনি।

ফলের ওপর আমদানি শুল্ক এখনও প্রায় ৯০ শতাংশ। এই শুল্ক কাঠামো বছরের পর বছর ধরে আছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন এটা সাধারণ মানুষের পুষ্টির ওপর সরাসরি আঘাত করছে। কিন্তু এই সরকার ক্ষমতায় এসে এই শুল্ক কমানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। রমজানের আগেও না, রমজান শুরু হওয়ার পরেও না।

এদিকে দাব্বাস খেজুরের চালান বন্দরে আটকে আছে। এটা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না, এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা। বন্দরে পণ্য কেন আটকে থাকবে রমজানের ঠিক আগে আগে? এই একটা ব্যর্থতাই বাজারে শৃঙ্খলার বদলে অরাজকতা তৈরি করে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে অনেক বৈধ অভিযোগ আছে, কিন্তু একটা কথা স্বীকার করতেই হবে, রমজান মাসে বাজারে একটা ন্যূনতম স্থিতিশীলতা থাকত। টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি হত, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা অন্তত চোখে পড়ার মতো ছিল। ব্যবসায়ীরা সরকারের নজরদারির ভয়টা অন্তত অনুভব করত। সেই ব্যবস্থা ভালো ছিল বলছি না, কিন্তু যা ছিল তার চেয়ে খারাপ এখন।

বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় প্রতি রমজানে বাজারের দাম বাড়লে রাস্তায় বিবৃতি দিত। “জনগণের কষ্ট”, “সরকারের ব্যর্থতা” এই শব্দগুলো তাদের মুখে ছিল। এখন তারা নিজেরাই সরকারে, এবং ঠিক একই কষ্ট জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে নীরব বসে আছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার বলছেন, ফল কোনো বিলাসপণ্য না। শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি হলে “হিডেন হাঙ্গার” তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায়, শিশুর বিকাশে, সব জায়গায়। যে সরকার ৯০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রেখে মানুষের ফল খাওয়া কার্যত বন্ধ করে দেয়, সে সরকার জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে কতটুকু সিরিয়াস সেটা আর আলাদা করে বলার দরকার নেই।

আর তারেক রহমান? তিনি লন্ডনে থেকে উড়ে এসে বসে বাংলাদেশ শাসন করছেন। দেশের মানুষ রমজানে এক কেজি আঙুর কিনতে পারছে না, আর প্রধানমন্ত্রী শুধু চেয়ার দখল করে বসে আছেন। জনগণের সাথে তার এই দূরত্ব শুধু ভৌগোলিক না, এই দূরত্ব মানসিকও। মাঠের বাস্তবতা থেকে এতটা বিচ্ছিন্ন কোনো নেতৃত্ব দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না, সেটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হতে হয় না।

শাহজাদপুরের মহিউদ্দিন সাহেব ৭৯০ টাকা দিয়ে মাত্র কয়েক পিস ফল কিনেছেন। এটা একটা পরিবারের গল্প। ঢাকার লাখ লাখ পরিবারে এখন এই হিসাব চলছে। সরকার যদি মনে করে এই মানুষগুলোর হিসাব তাদের করতে হবে না, তাহলে ভুল। জনগণের হিসাব আগে না হোক, পরে ঠিকই মিলে যায়।

রমজান মাসে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারে ইফতারের থালায় এখন ফল একটা বিলাসিতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাল্টা ৩২০-৩৬০ টাকা কেজি, লাল আঙুর ৫২০-৫৫০ টাকা, ডালিম ৫০০-৬০০ টাকা। আর সবরি কলা, যেটাকে সাধারণ মানুষ সাধারণ ফল মনে করত, সেটার ডজন ২৫০-২৭০ টাকা, মানে একটা কলার দাম পড়ছে ২০-২৫ টাকা। দেশীয় ফল কলার এই দাম হওয়া মানে বাজার একদম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

এই অবস্থার জন্য কে দায়ী, এই প্রশ্নটা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার এখন বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতায় এসে তারা বাজার নিয়ে কী করেছে? জবাবটা সংক্ষিপ্ত। কিছুই করেনি।

ফলের ওপর আমদানি শুল্ক এখনও প্রায় ৯০ শতাংশ। এই শুল্ক কাঠামো বছরের পর বছর ধরে আছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন এটা সাধারণ মানুষের পুষ্টির ওপর সরাসরি আঘাত করছে। কিন্তু এই সরকার ক্ষমতায় এসে এই শুল্ক কমানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। রমজানের আগেও না, রমজান শুরু হওয়ার পরেও না।

এদিকে দাব্বাস খেজুরের চালান বন্দরে আটকে আছে। এটা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না, এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা। বন্দরে পণ্য কেন আটকে থাকবে রমজানের ঠিক আগে আগে? এই একটা ব্যর্থতাই বাজারে শৃঙ্খলার বদলে অরাজকতা তৈরি করে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে অনেক বৈধ অভিযোগ আছে, কিন্তু একটা কথা স্বীকার করতেই হবে, রমজান মাসে বাজারে একটা ন্যূনতম স্থিতিশীলতা থাকত। টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি হত, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা অন্তত চোখে পড়ার মতো ছিল। ব্যবসায়ীরা সরকারের নজরদারির ভয়টা অন্তত অনুভব করত। সেই ব্যবস্থা ভালো ছিল বলছি না, কিন্তু যা ছিল তার চেয়ে খারাপ এখন।

বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় প্রতি রমজানে বাজারের দাম বাড়লে রাস্তায় বিবৃতি দিত। “জনগণের কষ্ট”, “সরকারের ব্যর্থতা” এই শব্দগুলো তাদের মুখে ছিল। এখন তারা নিজেরাই সরকারে, এবং ঠিক একই কষ্ট জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে নীরব বসে আছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার বলছেন, ফল কোনো বিলাসপণ্য না। শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি হলে “হিডেন হাঙ্গার” তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায়, শিশুর বিকাশে, সব জায়গায়। যে সরকার ৯০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রেখে মানুষের ফল খাওয়া কার্যত বন্ধ করে দেয়, সে সরকার জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে কতটুকু সিরিয়াস সেটা আর আলাদা করে বলার দরকার নেই।

আর তারেক রহমান? তিনি লন্ডনে থেকে উড়ে এসে বসে বাংলাদেশ শাসন করছেন। দেশের মানুষ রমজানে এক কেজি আঙুর কিনতে পারছে না, আর প্রধানমন্ত্রী শুধু চেয়ার দখল করে বসে আছেন। জনগণের সাথে তার এই দূরত্ব শুধু ভৌগোলিক না, এই দূরত্ব মানসিকও। মাঠের বাস্তবতা থেকে এতটা বিচ্ছিন্ন কোনো নেতৃত্ব দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না, সেটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হতে হয় না।

শাহজাদপুরের মহিউদ্দিন সাহেব ৭৯০ টাকা দিয়ে মাত্র কয়েক পিস ফল কিনেছেন। এটা একটা পরিবারের গল্প। ঢাকার লাখ লাখ পরিবারে এখন এই হিসাব চলছে। সরকার যদি মনে করে এই মানুষগুলোর হিসাব তাদের করতে হবে না, তাহলে ভুল। জনগণের হিসাব আগে না হোক, পরে ঠিকই মিলে যায়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ