Sunday, February 22, 2026

জামায়াত শহীদ মিনারে, তৌহিদী জনতা দোকানে, আর তারেক সাহেব ঘুমাচ্ছেন!

বাগেরহাটে সরকার অনুমোদিত মদের দোকান লোহা ঝালাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাজটা করেছে তৌহিদী জনতা নামের একটি গোষ্ঠী। বিষয়টা শুনতে ছোট মনে হলেও আসলে এটা ছোট না। একটা আইনি প্রতিষ্ঠান, সরকারের অনুমতি নিয়ে চলা একটা ব্যবসা, রাস্তার একটা দল এসে বন্ধ করে দিয়ে গেছে। আর তারেক রহমানের সরকার চুপ করে বসে আছে।

এটাই সমস্যার জায়গা। তৌহিদী জনতা কোনো রাষ্ট্রীয় সংগঠন না। তাদের কোনো আইনি ক্ষমতা নেই কোনো দোকান বন্ধ করার। কিন্তু তারা বন্ধ করে দিয়ে গেছে এবং কেউ তাদের থামায়নি। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি নেই, কোনো ব্যবস্থা নেই। এই নীরবতাটা দুর্ঘটনাবশত না। বিএনপি জানে তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে কথা বললে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তাই তারা দেখেও দেখছে না।

জামায়াতে ইসলামী এইবার শহীদ মিনারে যাচ্ছে। এই সেই দলটা যারা একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে দাঁড়িয়েছিল, বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় অংশ নিয়েছিল। তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইউনূস সরকার। আর এই একই সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম এখনো বন্ধ। যে দলের বিরুদ্ধে যাই অভিযোগ থাকুক না কেন, একটা দলকে নিষিদ্ধ রেখে আরেকটা দলকে ছেড়ে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু না। তারেক রহমান চাইলে এই অসামঞ্জস্য ঠিক করতে পারেন। তিনি করছেন না, কারণ ভবিষ্যতে বিএনপির বিরুদ্ধে একই অস্ত্র ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কাটা তিনি বোঝেন, কিন্তু সেই বোঝার জায়গাটা তিনি শুধু নিজের জন্য ব্যবহার করছেন, দেশের জন্য না।

মতিউর রহমানের প্রথম আলো অফিস পোড়ানো নিয়ে যা হচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে এই দেশে সাংবাদিকতার শেষ আশ্রয়টুকুও নিরাপদ না। আর মতিউর রহমান নিজে যদি ৩২ নম্বরের পোড়া ভবনটা নিয়ে কিছু না লেখেন, তাহলে তার পত্রিকার নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। নিজের অফিস পোড়ানো নিয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, কিন্তু সেই একই অধিকার যাদের বাড়ি পোড়ানো হয়েছে তাদেরও ছিল।

বিএনপি একটা দল হিসেবে জন্মেছিল সেনাছাউনিতে, বেড়ে উঠেছিল ক্ষমতার অলিন্দে, আর টিকে আছে ধর্মীয় রাজনীতির সাথে আপোষ করে। তারেক রহমান লন্ডনে বসে এই দেশের রাজনীতি পরিচালনা করছেন এবং তৌহিদী জনতার মতো গোষ্ঠীগুলো রাস্তায় আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, সেটা দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছেন। কারণটা সহজ, এই গোষ্ঠীগুলো বিএনপির ভোটের রাজনীতিতে দরকারি। তাদের শত্রু বানানো মানে ভোট হারানো। তাই রাষ্ট্রের আইন ভাঙলেও তারা ছাড় পাবে, এটা এখন প্রায় নিশ্চিত।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন না। গণতন্ত্র মানে হলো রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান, কোনো দল বা গোষ্ঠীর ভয়ে সেই আইন থমকে যায় না। এই মুহূর্তে সেই জায়গাটায় বিএনপি সরকার ফেল করছে। আর এই ফেলটা যত দিন চলবে, তত দিন তৌহিদী জনতার মতো গোষ্ঠীগুলো আরো সাহসী হবে। পরের বার শুধু মদের দোকান না, অন্য কিছুও বন্ধ করে দেবে। আর সরকার তখনো চুপ থাকবে।

বাগেরহাটে সরকার অনুমোদিত মদের দোকান লোহা ঝালাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাজটা করেছে তৌহিদী জনতা নামের একটি গোষ্ঠী। বিষয়টা শুনতে ছোট মনে হলেও আসলে এটা ছোট না। একটা আইনি প্রতিষ্ঠান, সরকারের অনুমতি নিয়ে চলা একটা ব্যবসা, রাস্তার একটা দল এসে বন্ধ করে দিয়ে গেছে। আর তারেক রহমানের সরকার চুপ করে বসে আছে।

এটাই সমস্যার জায়গা। তৌহিদী জনতা কোনো রাষ্ট্রীয় সংগঠন না। তাদের কোনো আইনি ক্ষমতা নেই কোনো দোকান বন্ধ করার। কিন্তু তারা বন্ধ করে দিয়ে গেছে এবং কেউ তাদের থামায়নি। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি নেই, কোনো ব্যবস্থা নেই। এই নীরবতাটা দুর্ঘটনাবশত না। বিএনপি জানে তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে কথা বললে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তাই তারা দেখেও দেখছে না।

জামায়াতে ইসলামী এইবার শহীদ মিনারে যাচ্ছে। এই সেই দলটা যারা একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে দাঁড়িয়েছিল, বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় অংশ নিয়েছিল। তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইউনূস সরকার। আর এই একই সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম এখনো বন্ধ। যে দলের বিরুদ্ধে যাই অভিযোগ থাকুক না কেন, একটা দলকে নিষিদ্ধ রেখে আরেকটা দলকে ছেড়ে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু না। তারেক রহমান চাইলে এই অসামঞ্জস্য ঠিক করতে পারেন। তিনি করছেন না, কারণ ভবিষ্যতে বিএনপির বিরুদ্ধে একই অস্ত্র ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কাটা তিনি বোঝেন, কিন্তু সেই বোঝার জায়গাটা তিনি শুধু নিজের জন্য ব্যবহার করছেন, দেশের জন্য না।

মতিউর রহমানের প্রথম আলো অফিস পোড়ানো নিয়ে যা হচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে এই দেশে সাংবাদিকতার শেষ আশ্রয়টুকুও নিরাপদ না। আর মতিউর রহমান নিজে যদি ৩২ নম্বরের পোড়া ভবনটা নিয়ে কিছু না লেখেন, তাহলে তার পত্রিকার নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। নিজের অফিস পোড়ানো নিয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, কিন্তু সেই একই অধিকার যাদের বাড়ি পোড়ানো হয়েছে তাদেরও ছিল।

বিএনপি একটা দল হিসেবে জন্মেছিল সেনাছাউনিতে, বেড়ে উঠেছিল ক্ষমতার অলিন্দে, আর টিকে আছে ধর্মীয় রাজনীতির সাথে আপোষ করে। তারেক রহমান লন্ডনে বসে এই দেশের রাজনীতি পরিচালনা করছেন এবং তৌহিদী জনতার মতো গোষ্ঠীগুলো রাস্তায় আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, সেটা দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছেন। কারণটা সহজ, এই গোষ্ঠীগুলো বিএনপির ভোটের রাজনীতিতে দরকারি। তাদের শত্রু বানানো মানে ভোট হারানো। তাই রাষ্ট্রের আইন ভাঙলেও তারা ছাড় পাবে, এটা এখন প্রায় নিশ্চিত।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন না। গণতন্ত্র মানে হলো রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান, কোনো দল বা গোষ্ঠীর ভয়ে সেই আইন থমকে যায় না। এই মুহূর্তে সেই জায়গাটায় বিএনপি সরকার ফেল করছে। আর এই ফেলটা যত দিন চলবে, তত দিন তৌহিদী জনতার মতো গোষ্ঠীগুলো আরো সাহসী হবে। পরের বার শুধু মদের দোকান না, অন্য কিছুও বন্ধ করে দেবে। আর সরকার তখনো চুপ থাকবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ