Sunday, February 22, 2026

একটা বুলডোজার আর মুক্তিযোদ্ধা বাবার ইতিহাস বেঁচে ছেলের করা রাজাকারী রাজনীতি

ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। বাবা সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে এই নিয়োগে অনেকে স্বস্তি খুঁজে পেয়েছিলেন শুরুতে। কিন্তু বাবার ইতিহাস দিয়ে ছেলের বিচার হয় না। বিচার হয় ছেলে নিজে কী করে, কাদের সাথে ওঠবস করে, কোন মুহূর্তে কোন সিদ্ধান্ত নেয় সেটা দিয়ে।

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর বাড়িটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। ঘোষণা দিয়ে, প্রকাশ্যে, উৎসবের আমেজে। ইনকিলাব মঞ্চ আর শিবিরের লোকজন এক্সক্যাভেটর নিয়ে হাজির হলো। এক্সক্যাভেটর কোথা থেকে এলো? সিটি কর্পোরেশন ছাড়া এই ভারী যন্ত্রপাতি আর কারো কাছে থাকে না, এটা সবাই জানে। ওই সময় ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসাবে মেয়র অফিসের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ইশরাক হোসেন নিজেই।

পরে একটা টকশোতে ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেওয়া এক ব্যক্তি মুখ ফসকে বলেও দিলেন যে বুলডোজার দিয়েছিলেন ইশরাক ভাই। অভিযোগটা প্রমাণিত না, ঠিকই আছে। কিন্তু প্রমাণ না থাকলেই কি সব ঠিকঠাক হয়ে যায়? যে বাড়ি থেকে একটা জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি তৈরি হয়েছিল, সেই বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কোথায় ছিলেন? একটা কথাও কি বলেছিলেন? একটা প্রতিবাদও কি করেছিলেন? করেননি। এই নীরবতাটাই আসল কথা বলে দেয়।

বিএনপির সমস্যা এখানেই। দলটা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে ঠিকই, কিন্তু যখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আর ইতিহাসের উপর আঘাত আসে, তখন হয় চুপ থাকে নয়তো উল্টো সুবিধা করে দেয়। এটা নতুন কিছু না। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, উলফার অনুপ চেতিয়াকে আশ্রয় দেওয়া, এই ঘটনাগুলোর সাথে বিএনপির নাম এসেছে বারবার। ভারত শেষ পর্যন্ত অনুপ চেতিয়া ইস্যুতে যা চেয়েছিল তা পেয়েছে, কিন্তু সেটা মার্কিন চাপের কারণে, বিএনপির সদিচ্ছার কারণে না। বুজরুকি দিয়ে বেশিদিন পার পাওয়া যায় না, ইতিহাস সেটা মনে রাখে।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। যে মানুষটা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, যার বিরুদ্ধে একুশে আগস্টে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার গরম করে বসে আছেন। আর তার পাশে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসাবে আছে গনি, শোভাবর্ধনের জন্য আছেন বাবর, পিন্টু, কায়কোবাদের মতো মানুষেরা। এই মানুষগুলোর কুকীর্তি বাংলাদেশের মানুষের অজানা না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা কিন্তু অন্যখানে। বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলের টিকেটেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের সন্তানেরা নির্বাচিত হয়েছে। এই দুই দল একে অপরের শত্রু সাজে, কিন্তু শেষমেশ একই বিছানায় ঘুমায়। ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়ে এই মানুষগুলোর সাথে হাসিমুখে ছবি তোলেন। বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে পাকিস্তানপন্থী শক্তির এই যে অবিনশ্বর টিকে থাকা, এটা কোনো দুর্ঘটনা না। তিন প্রজন্ম ধরে এই আক্রোশ লালন করা হয়েছে পরিকল্পনা করে। একাত্তরে গণহত্যা করেও, নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করেও, পুরো দেশ জ্বালিয়ে দিয়েও যারা হারতে মানেনি, তারা পঞ্চাশ বছর পরে এসে বুলডোজার দিয়ে ইতিহাস মুছে দেওয়ার উৎসব করছে। পাকিস্তান একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র ছিল, এখনো আছে। বাংলাদেশ সেই পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে পাঁচ দশকে যা অর্জন করেছে, সেটা ছোট কিছু না। তারপরেও এদের পাকিস্তান প্রীতি যায় না, কারণ এটা আসলে প্রীতির বিষয় না, এটা একটা রাজনৈতিক প্রজেক্ট। বাংলাদেশকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে পারলেই এদের লাভ।

আর বিএনপি সেই প্রজেক্টের এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছে। প্রমাণ করছে এখনো।

ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। বাবা সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে এই নিয়োগে অনেকে স্বস্তি খুঁজে পেয়েছিলেন শুরুতে। কিন্তু বাবার ইতিহাস দিয়ে ছেলের বিচার হয় না। বিচার হয় ছেলে নিজে কী করে, কাদের সাথে ওঠবস করে, কোন মুহূর্তে কোন সিদ্ধান্ত নেয় সেটা দিয়ে।

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর বাড়িটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। ঘোষণা দিয়ে, প্রকাশ্যে, উৎসবের আমেজে। ইনকিলাব মঞ্চ আর শিবিরের লোকজন এক্সক্যাভেটর নিয়ে হাজির হলো। এক্সক্যাভেটর কোথা থেকে এলো? সিটি কর্পোরেশন ছাড়া এই ভারী যন্ত্রপাতি আর কারো কাছে থাকে না, এটা সবাই জানে। ওই সময় ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসাবে মেয়র অফিসের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ইশরাক হোসেন নিজেই।

পরে একটা টকশোতে ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেওয়া এক ব্যক্তি মুখ ফসকে বলেও দিলেন যে বুলডোজার দিয়েছিলেন ইশরাক ভাই। অভিযোগটা প্রমাণিত না, ঠিকই আছে। কিন্তু প্রমাণ না থাকলেই কি সব ঠিকঠাক হয়ে যায়? যে বাড়ি থেকে একটা জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি তৈরি হয়েছিল, সেই বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কোথায় ছিলেন? একটা কথাও কি বলেছিলেন? একটা প্রতিবাদও কি করেছিলেন? করেননি। এই নীরবতাটাই আসল কথা বলে দেয়।

বিএনপির সমস্যা এখানেই। দলটা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে ঠিকই, কিন্তু যখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আর ইতিহাসের উপর আঘাত আসে, তখন হয় চুপ থাকে নয়তো উল্টো সুবিধা করে দেয়। এটা নতুন কিছু না। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, উলফার অনুপ চেতিয়াকে আশ্রয় দেওয়া, এই ঘটনাগুলোর সাথে বিএনপির নাম এসেছে বারবার। ভারত শেষ পর্যন্ত অনুপ চেতিয়া ইস্যুতে যা চেয়েছিল তা পেয়েছে, কিন্তু সেটা মার্কিন চাপের কারণে, বিএনপির সদিচ্ছার কারণে না। বুজরুকি দিয়ে বেশিদিন পার পাওয়া যায় না, ইতিহাস সেটা মনে রাখে।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। যে মানুষটা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, যার বিরুদ্ধে একুশে আগস্টে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার গরম করে বসে আছেন। আর তার পাশে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসাবে আছে গনি, শোভাবর্ধনের জন্য আছেন বাবর, পিন্টু, কায়কোবাদের মতো মানুষেরা। এই মানুষগুলোর কুকীর্তি বাংলাদেশের মানুষের অজানা না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা কিন্তু অন্যখানে। বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলের টিকেটেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের সন্তানেরা নির্বাচিত হয়েছে। এই দুই দল একে অপরের শত্রু সাজে, কিন্তু শেষমেশ একই বিছানায় ঘুমায়। ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়ে এই মানুষগুলোর সাথে হাসিমুখে ছবি তোলেন। বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে পাকিস্তানপন্থী শক্তির এই যে অবিনশ্বর টিকে থাকা, এটা কোনো দুর্ঘটনা না। তিন প্রজন্ম ধরে এই আক্রোশ লালন করা হয়েছে পরিকল্পনা করে। একাত্তরে গণহত্যা করেও, নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করেও, পুরো দেশ জ্বালিয়ে দিয়েও যারা হারতে মানেনি, তারা পঞ্চাশ বছর পরে এসে বুলডোজার দিয়ে ইতিহাস মুছে দেওয়ার উৎসব করছে। পাকিস্তান একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র ছিল, এখনো আছে। বাংলাদেশ সেই পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে পাঁচ দশকে যা অর্জন করেছে, সেটা ছোট কিছু না। তারপরেও এদের পাকিস্তান প্রীতি যায় না, কারণ এটা আসলে প্রীতির বিষয় না, এটা একটা রাজনৈতিক প্রজেক্ট। বাংলাদেশকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে পারলেই এদের লাভ।

আর বিএনপি সেই প্রজেক্টের এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছে। প্রমাণ করছে এখনো।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ