গত অক্টোবরে যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে সই করল, এনসিপি তখন সরে রইল। কারণ কী ছিল? স্পষ্ট করে কেউ বলেনি। আর আজ, চার মাস পর, হঠাৎ করে সই করতে যমুনায় হাজির হলো নাহিদ ইসলামের দল। কারণ এবারও স্পষ্ট না, তবে আঁচ করা কঠিন না।
সারোয়ার তুষার বললেন, “গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।” এই কথার মানে দাঁড়ায়, আগে আইনি ভিত্তি ছিল না বলেই সই করেননি? তাহলে বাকি দলগুলো কী বুঝে সই করেছিল? নাকি এনসিপির কাছে তখন সনদটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি, আর এখন হিসাবটা পালটে গেছে?
হিসাবটা আসলে খুব সহজ। উচ্চকক্ষ আসছে। সংসদের উপরের ঘরে জায়গা পেতে হলে এই সনদের বাস্তবায়ন পরিষদে থাকাটা দরকার। তুষার নিজেই বললেন, “আমাদের ছয়জন সেখানে উপস্থিত থাকবেন।” সুতরাং সনদের প্রতি হঠাৎ এই টান আদর্শগত না, এটা অস্তিত্বগত।
জুলাই আন্দোলনের পর এনসিপি তৈরি হয়েছিল একটা নতুন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে। তরুণ মুখ, নতুন ভাষা, পুরনো রাজনীতির বিকল্প। কিন্তু রাজনীতির পুরনো অভ্যাসগুলো বড় মজার, নতুন দলের গায়েও সেঁটে যায় দ্রুত। সুবিধামতো অবস্থান নেওয়া, সুবিধামতো বদলানো, এটা তো আমরা চিনি।
প্রধান উপদেষ্টার “শেষ দিন” বলে আজকের তারিখটা বেছে নেওয়াটাও চমৎকার। সম্মান প্রদর্শনের এই সময়জ্ঞান কাকতালীয় হওয়ার কথা না। যখন কেউ বিদায় নিচ্ছেন, তখন তার পাশে দাঁড়ানোর ছবিটা তোলা রাজনৈতিক বিনিয়োগের অংশ।
বিয়ের অনেক পরে কাবিন পড়ানোর রেওয়াজ এই অঞ্চলে নতুন না। কিন্তু তাতে সংসারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এনসিপি যে সনদে আজ সই করল, সেই সনদের রাজনীতি কতটা তারা বিশ্বাস করে আর কতটা প্রয়োজনে মানছে, সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

