Tuesday, February 17, 2026

কারাগারে নিঃশব্দে আওয়ামী নিধন চলছেই

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। সর্বশেষ আজ রোববার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম (৬০)। একের পর এক রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় নিছক ‘অসুস্থতা’র দাবি নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কারাগারগুলো এখন আওয়ামী লীগ নিধনের নিঃশব্দ পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে।

চিকিৎসার নামে কালক্ষেপণ ও রহস্যজনক মৃত্যু

গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, শামিকুল ইসলাম ভাঙচুর ও মারামারি মামলায় গত ১৮ অক্টোবর থেকে কারাগারে ছিলেন। শনিবার রাতে তিনি অস্বস্তি বোধ করলে তাঁকে প্রথমে গাইবান্ধা সদর এবং পরে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. হরিপদ সরকারের তথ্যমতে, দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে ভর্তির মাত্র এক ঘণ্টা পর ৩টা ৫০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে এই মৃত্যুর ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই ‘হার্ট ফেইলিওর’ বা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ শব্দগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শামিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একই নাটকের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে—প্রথমে অসুস্থতার দাবি, তারপর দেরিতে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং পরিশেষে মৃত্যুর সার্টিফিকেট।

পরিকল্পিত নিধনের নেপথ্যে ‘মেডিক্যাল মার্ডার’?

কারাগার সংশ্লিষ্ট একাধিক গোপন সূত্রের আশঙ্কা, রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর কেবল শারীরিক নির্যাতনই নয়, বরং সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিধনযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দিদের চিকিৎসায় বা গোপনে এমন কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে (যেমন ডিজিটালিস গ্রুপের ওষুধ), যা সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধান ছাড়া এসব ওষুধের প্রয়োগে শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন থাকে না, ফলে ময়নাতদন্তেও অনায়াসেই ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বা ‘হার্ট অ্যাটাক’ লিখে দায় এড়ানো সম্ভব হয়।

রাষ্ট্রীয় অবহেলা না কি পরিকল্পিত নিধন?

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শামিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি একবার জামিন পেলেও পুনরায় অন্য মামলায় তাঁকে কারাবন্দি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ইউনুস প্রশাসনের অধীনে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, কারাগারের ভেতরে এই মৃত্যুগুলো তারই অংশ।

প্রতিটি মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সারা হলেও সেখানে স্বচ্ছতার চরম অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোনো স্বাধীন তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ হস্তান্তর এবং পরিবারের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দেওয়া এই নিধনযজ্ঞের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে।

কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে বন্দিদের জীবনের নিরাপত্তা আজ চরম সংকটে। প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্র কি তবে বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শেষ করে দেওয়ার নেশায় মেতেছে? জনমনে এখন একটাই আতঙ্ক—পরবর্তী শিকার কে?

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। সর্বশেষ আজ রোববার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম (৬০)। একের পর এক রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় নিছক ‘অসুস্থতা’র দাবি নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কারাগারগুলো এখন আওয়ামী লীগ নিধনের নিঃশব্দ পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে।

চিকিৎসার নামে কালক্ষেপণ ও রহস্যজনক মৃত্যু

গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, শামিকুল ইসলাম ভাঙচুর ও মারামারি মামলায় গত ১৮ অক্টোবর থেকে কারাগারে ছিলেন। শনিবার রাতে তিনি অস্বস্তি বোধ করলে তাঁকে প্রথমে গাইবান্ধা সদর এবং পরে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. হরিপদ সরকারের তথ্যমতে, দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে ভর্তির মাত্র এক ঘণ্টা পর ৩টা ৫০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে এই মৃত্যুর ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই ‘হার্ট ফেইলিওর’ বা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ শব্দগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শামিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একই নাটকের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে—প্রথমে অসুস্থতার দাবি, তারপর দেরিতে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং পরিশেষে মৃত্যুর সার্টিফিকেট।

পরিকল্পিত নিধনের নেপথ্যে ‘মেডিক্যাল মার্ডার’?

কারাগার সংশ্লিষ্ট একাধিক গোপন সূত্রের আশঙ্কা, রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর কেবল শারীরিক নির্যাতনই নয়, বরং সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিধনযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দিদের চিকিৎসায় বা গোপনে এমন কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে (যেমন ডিজিটালিস গ্রুপের ওষুধ), যা সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধান ছাড়া এসব ওষুধের প্রয়োগে শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন থাকে না, ফলে ময়নাতদন্তেও অনায়াসেই ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বা ‘হার্ট অ্যাটাক’ লিখে দায় এড়ানো সম্ভব হয়।

রাষ্ট্রীয় অবহেলা না কি পরিকল্পিত নিধন?

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শামিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি একবার জামিন পেলেও পুনরায় অন্য মামলায় তাঁকে কারাবন্দি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ইউনুস প্রশাসনের অধীনে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, কারাগারের ভেতরে এই মৃত্যুগুলো তারই অংশ।

প্রতিটি মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সারা হলেও সেখানে স্বচ্ছতার চরম অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোনো স্বাধীন তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ হস্তান্তর এবং পরিবারের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দেওয়া এই নিধনযজ্ঞের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে।

কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে বন্দিদের জীবনের নিরাপত্তা আজ চরম সংকটে। প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্র কি তবে বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শেষ করে দেওয়ার নেশায় মেতেছে? জনমনে এখন একটাই আতঙ্ক—পরবর্তী শিকার কে?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ